,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কাপ্তাই নেভি সড়ক বন্যহাতির দখলে যান চলাচল ৬ ঘণ্টা বন্ধ

কাপ্তাই সংবাদদাতা, ১৩ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: কাপ্তাই নেভি সড়কের উপর ১৫/২০ টি বন্য হাতির একটি দল প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে সড়ক অবরোধ করে রাখে।

বুধবার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত বন্যহাতির দলটি সড়কে অবস্থান করায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার লোকজনের অনেক চেষ্টার পর হাতির দলটিকে সড়ক থেকে তাড়ানো গেলেও আতঙ্ক কাটেনি এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর নেভি সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা জানায়, কাপ্তাই উপজেলার লোকালয়ে বন্য হাতির দল নিয়মিত প্রবেশ করছে। বন্য হাতি আগে রাতে প্রবেশ করলেও ইদানিং দিনের বেলাতেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাপ্তাইয়ের জীপতলী এলাকা, চেয়ারম্যানপাড়া, নাবিক কলোনি, নৌবাহিনী এলাকা, কাপ্তাই জোন ইত্যাদি এলাকায় হাতির বিচরণ খুব বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বন্য হাতির ভয়ে বিকাল থেকেই স্থানীয় জনসাধারণ রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই নৌ বাহিনী সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কাপ্তাই নৌ বাহিনী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেলা নৌ স্কাউটস লিডার এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, বুধবার বিকেলে নেভি রোডে একদল বন্যহাতি রাস্তার উপর বসে পড়ে। প্রায় ১৫/২০ টির বন্য হাতির দলটিকে তাড়াতে অনেক চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। এসময় হাতির দলটি কয়েকবার ধাওয়া করেন স্থানীয়দের। প্রায় দুই ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর অবশেষে বিকট শব্দে গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে হাতিগুলোকে তাড়ানো হয়। তিনি বলেন, এমনিতে প্রায় সময় নেভি রোডে হাতির অবস্থান দেখা যায়, তবে গাড়ীর শব্দ শুনলে তারা পাশের জঙ্গলে চলে যায়। তবে গতকালের অবস্থানটা বেশী ছিলো। এমনিতে কাপ্তাই-নেভী এবং কাপ্তাই-আসামবস্তি সড়কে বন্যহাতি হানা দেয় দিন দুপুরে। ইতিমধ্যে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। সড়ক দুটিতে গত কয়েক বছরে আহত হয়েছেন শতাধিক পথচারি। মাঝে মাঝে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় নৌ বাহিনী এবং জীবতলী এলাকার বাসিন্দাদের।

কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ জানান, যতদিন পর্যন্ত জঙ্গলে হাতির খাবারের আবাসস্থল তৈরি হবে না ততদিন বন্যহাতির এই আচরণের পরির্বতন হবে না। এই এলাকার বাসিন্দাদের একটি দাবি বেশি বেশি করে জঙ্গলে হাতির বিচরণ ক্ষেত্রে হাতির খাওয়া উপযোগী গাছ লাগিয়ে বনের হাতিকে যেনো বনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

কাপ্তাই নেভি এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, এমন কোনো দিন নেই যেদিন এলাকায় বন্য হাতি প্রবেশ করছে না। এর আগে বন্য হাতির দল নেভি স্কুলের সীমানা দেয়াল ও কাপ্তাই পুলিশ সার্কেলের কার্যালয়ের দেয়ালও ভেঙে ফেলেছে। এছাড়াও হাতি নৌ বাহিনী এলাকায় প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক পিলার, পানির পাইপ ইত্যাদি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গত এক বছরে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কাপ্তাইয়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাপ্তাই ফরেস্ট কলোনির বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানান, সম্প্রতি বিশাল আকারের ১০ থেকে ১২টি বন্য হাতি তাদের কলোনিতে ঢুকে পড়ে। এ সময় হাতিগুলো কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও গাছের লতাপাতা খেয়ে সাবাড় করে দেয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বন্য হাতি তাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এতে কোনো কাজ হয়নি বলে তিনি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু মুছা মো. আবদুল মোহিত চৌধুরী বলেন, মূলত হাতি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বনে হাতির কোনো খাবার নেই। তাই তাড়ালেও হাতি আবার লোকালয়ে ফিরে আসছে। তারপরও জনস্বার্থে বন্য হাতি তাড়ানোর জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

মতামত...