,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কার্টুন কে জানান ‘গুডবাই’

cনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ বুবুন ছোটবেলা থেকেই পোকেমন, বেব্লেড দেখার জন্য সারাদিন অপেক্ষা করত৷ টিয়াও শিনচ্যান না দেখে খাবার মুখেই তুলবে না৷ কিন্ত জানেন কি বেশি কার্টুন দেখা আপনার খুদের জন্য ক্ষতিকারক?

বোকাবাক্স রংচঙে হওয়ার পর থেকেই বাচ্চাদের বিভিন্ন কার্টুন সিরিজ দেখার প্রবণতা বেড়েছে৷ খুব ছোট থেকেই অভিভাবকরা নিতান্ত খেলার ছলেই এই অভ্যাস বাচ্চাদের মনে গেঁথে দেন, হয়ত কোনও কারন ছাড়াই কিংবা বাচ্চার দুরান্তপনা একটু কমানোর জন্য৷ কিন্তু কিছুসময়ের দুরন্তপনা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সোনাটিকে ঘরকুনো এবং কুঁড়ে করে দিচ্ছেন আপনি নিজেই সেটা ভেবে দেখেছেন কি?

অ্যাডিকটিভ

ছোটবেলায় রংচঙে কার্টুন দেখতে বেশ ভালোই লাগে৷ ধীরে ধীরে সেটা অভ্যাসে পরিণত হয়৷ এমন একটা সময় আসে যখন এই অভ্যাস নেশার আকার নেয়৷ পোকেমন গো, এর আদর্শ উদাহরন যার উত্পত্তি কিন্তু সেই পোকেমন কার্টুন সিরিজ থেকেই৷ ছোটবেলা থেকেই অ্যাশ কিংবা মিষ্টি হওয়ার স্বপ্নই এখনকার টিনদের পর্যন্ত এফেক্ট করছে৷

হিংসাত্মক

টম-জেরিকে ধাওয়া করে আসছে এবং হঠাত্ জেরি টমকে লোহার ইস্ত্রি ছুঁড়ে মারল এবং টমের মুখটা ইস্ত্রির আকার নিল৷ এরকম বহু এপিসোড আপনিও টিয়া, বুবুনদের সঙ্গে বসে দেখেছেন এমনকি এনজয়ও করেছেন ব্যাপারটা৷ আপাত দৃষ্টিতে হাসির হলেও ব্যাপারটা কিন্তু ভায়োলেন্স৷ কখনও ভেবে দেখেছেন কি যদি টিয়াকে বুবুন হঠাত্ ইস্ত্রি ছুঁড়ে মারে? ছোটবেলায় রিল কোনটা রিয়েল কোনটা আলাদা করার ক্ষমতা থাকে না ফলে পালং শাক খেয়ে পপাই হয়ে ওঠার চেষ্টা বহু বাচ্চা করে৷ আপনি ভেবে দেখুন পপাই সিরিজে ভায়োলেন্সই কিন্তু সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ৷ নিজের অজান্তেই ভুল শিক্ষা দিয়ে ফেলছেন না কি?

অসুখ-বিসুখ

নিয়মিত কার্টুন দেখার ফলে দৈহিক এবং মানসিক প্রচুর সমস্যা দেখা দেয়৷ যেমন সারাদিন টেলিভিশনের সামনে বসে থাকার ফলে প্রথম সমস্যা হয় ওবেসিটির৷ যা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান রোগ৷ এর ফলে ডায়াবেটিস থেকে ডিপ্রেশন পর্যন্ত বহু সমস্যা হতে পারে৷ চিকিত্সকদের মতে সারাদিন টিভি দেখলে কারডিও ভাস্কুলার ডিজিজ হতে পারে, যার ফলে আয়ু কমে যায়৷ একজায়গায় বসে থেকে কুঁড়ে হয়ে যায় বাচ্চারা ফলে বাইরে গিয়ে খেলার মানসিকতাও আর থাকেনা৷

পড়াশুনো

সারাদিন কার্টুন দেখার নেশায় অথবা নোবিতাকে নকল করতে গিয়ে হয়ত আপনার খুদেটা হোম ওয়ার্ক করতেই ভুলে গেল৷ সারাদিন রিল লাইফে থাকার ফলে পড়াশুনার ক্ষেত্রেও কুপ্রভাব পড়ে৷

রোল মডেল

ক্রিশ, ওগিদের কখন আপনার খুদে রোল মডেল বানিয়ে ফেলেছে সেটা হয়ত আপনি জানতেও পারেননি৷ বড় হয়ে পোকেমন ট্রেনার হব এরকম ভাবনা অনেকের মনেই জাগে৷ যার সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিলই নেই৷ এই ব্যাপারটা খুদের মনে একটা প্রভাব ফেলে৷

তাহলে কি কার্টুন একদম বন্ধ?

মোটেই না৷ তবে সব কিছুই ব্যালেন্স করে করতে হয়৷ কোনও কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়৷ প্রথমেই আপনার সন্তানের কার্টুন দেখাটা পরিমিত করুন৷ যেমন ধরুন দিনে এক ঘণ্টা দেখতে দিলেন৷ তারপর তাকে বোঝান যে কোনটা রিল এবং কোনটা রিয়েল৷ বাস্তবে ইস্ত্রি ছুঁড়ে মারলে কি হবে সেটার বোধ দিলেই দেখবেন সমস্যা অনেকটা সমাধান হয়ে যাবে৷

মতামত...