,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব

সাইদুর রহমান সেন্টু, বিডিনিউজ রিভিউজঃ হজব্রত পালনকারীদের জন্য কুরবানী ওয়াজিব। এ ছাড়া অন্যান্য মুসলমানের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবার শর্ত দু’টি। এক. তাকে সাহেবে নিসাব হতে হবে। অর্থাৎ যার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, তাকে মুকীম হতে হবে। মুসাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। মুসাফির যদি ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে মুকীম হন তবে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।

কুরবানীর পশু

উট, দুম্বা, ভেড়া, ছাগল, গরু ও মহিষ এই ছয় প্রকারের পশু ছাড়া অন্য কোন পশু দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী হবে না। কুরবানীর জন্য উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু-মহিষ অন্তত দুই বছর আর দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া অন্তত এক বছরের হতে হবে। কুরবানীর পশু মোটাতাজা এবং দেখতে মাননসই হওয়া দরকার। দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ, এক পা খোঁড়া, গোড়া থেকে শিং ভাংগা, কান ও লেজ অনেকটা কাটা ইত্যাদি ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী হয় না।

কুরবানীর অংশীদার

উট, মহিষ ও গরুর মধ্যে ঊর্ধ্বপক্ষে সাতজন পর্যন্ত অংশীদার হতে পারবে। এরকম হলেও ক্ষতি নেই। ভেড়া, দুম্বা ও ছাগল এক জনের পক্ষ থেকে একটাই কুরবানী করতে হবে। একই পশুকে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কুরবানী করার জন্য দু’টি শর্ত রয়েছে।

১. সকল অংশীদারেরই কুরবানী বা আকীকার নিয়ত থাকতে হবে। কোন অংশীদারের কেবল গোশত খাওয়া বা অন্য কোন নিয়ত থাকলে সকলের কুরবানীই বরবাদ হয়ে যাবে।

২. ভাগের প্রতিটি অংশ অবশ্যই সমান হতে হবে।

কুরবানীর তারিখ ও সময়

যিলহজ্ব মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কুরবানীর সময়। এ ৩ দিনের যে কোন দিন কুরবানী করা যাবে। কুরবানী করতে হবে ঈদের সালাত আদায় করার পর।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা

সচ্ছল অবস্খায় লোকেরা নিজের ওয়াজিব কুরবানী ছাড়াও নিজ মুরব্বী ও উস্তাদের পক্ষ থেকে কুরবানী করতে পারেন। যেহেতু কুরবানীতে অফুরন্ত সওয়াব রয়েছে, তা যতো বেশি করে করা যায় ততোই সওয়াব লাভ করা যাবে। নবী করীম (সা.) এবং উম্মুল মুমেনিনগণের পক্ষ থেকেও কুরবানী করা যায়।

কুরবানীর পশু যবেহ করার নিয়ম

পশুকে বামবাহুর উপর শুইয়ে কেবলামুখী করে যবেহ করতে হবে। কেবল উটের বেলায় এনিয়ম প্রযোজ্য নয়। নিজের কুরবানী নিজেই করা উত্তম। যবেহ করায় অক্ষম ব্যক্তি এবং নারীরা নিজ নিজ কুরবানী অবলোকন করবে। ভাগের পশুকে সকল অংশীদার একত্রে ধরে শুইয়ে যবেহ করবেন।

কুরবানীর গোশত

সূরা আল হজ্বের ৩৬নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরবানীর গোশত কি করতে হবে সে সম্পর্কে বলেন, ‘কুরবানীর পর যখন পশু নির্জীব হয়ে যায়, তখন তা থেকে তোমরা নিজেরা খাও এবং ওই সব লোকদের খেতে দাও, যারা অল্পে তুষ্ট এবং যারা কারো কাছে হাত পাতে না। আর ওইসব লোকদেরও দাও যারা নিজেদের প্রয়োজন পেশ করে।’ কুরবানীর গোশত খাওয়া যায়, আত্মীয়-স্বজন ও গরীব-দু:খীদের মধ্যে বন্টনও করা যায়। এক-তৃতীয়াংশ ফকির-মিসকিনদের মধ্যে বন্টন করে বাকিটা নিজেরা, আত্মীয়-স্বজন ও বু-বাব মিলে খাওয়া যায়। কিন্তু এটা কোন ধরাবাধা নিয়ম নয়। কুরবানীর গোশত অমুসলিমদেরও দেয়া যায়। কিন্তু মজুরী বাবদ দেয়া যাবে না।

কুরবানীর চামড়া

চামড়া বিক্রি করে মূল্য এতিম, অসহায় কিংবা পুনর্বাসন প্রকল্পে দিয়ে দিতে হবে। নিজে চামড়ার টাকা ব্যবহার করতে পারবে না। তবে জায়নামায বানিয়ে চামড়াকে ব্যবহার করতে পারবে।

One comment

  1. Saidur Rahman Santo

    ১০০%ঠিক

মতামত...