,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কৃষকের হাসির ঝিলিক রাউজানে মাঠজুড়ে কৃষকের সবুজ স্বপ্ন

এম বেলাল উদ্দিন, রাউজান (চট্টগ্রাম),১৩ বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে শীতকালীন সবজির দিগন্ত জোড়া সবুজের সমারোহ। এখানকার কৃষকদের পদধূলিতে ছোট ছোট চারা বেয়ে উঠছে। কৃষকের হাসির ঝিলিক প্রস্ফুটিত হচ্ছে সরিষা ক্ষেতের হলুদ রংয়ের ফুলে ফুলে। বিভিন্ন সবুজ শাক আর লাল শাকে লাল-সবুজের বাংলাদেশের একটি চিত্র ফোটে উঠেছে। মাঠজুড়ে কৃষকের সবুজ স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে মুয়াজ্জিনের আযান কানে আসার সাথে সাথে সকালের কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশে মাঠে ছুটে যাচ্ছে কৃষক। পরিবারে একটু স্বচ্ছলতা আনতে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন এখানকার কৃষকরা। শীতকালে যেদিকে চোখ যায় কৃষকের স্বপ্ন বোনা ফসলের মাঠ দৃষ্টি কারে। প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের যতেœ গড়ে তোলা সবুজ বাগান দেখে। উপজেলার একটি পৌরসভা ও চৌদ্দটি ইউনিয়নের সব জায়গায় কমবেশি সবজি চাষ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলা জুড়ে দুই হাজার একশত হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি ক্ষেতের চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগম, বেগুন, মুলা, আলু, বরবটি, মরিচ, সীম, লাল শাক, পালং শাক, খিরা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ভূট্টা, সরিষা, পেলন, ঢেঁড়স, টমেটো, বাদাম, মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি। সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, ৮০ হেক্টর জমিতে বেগুন, ৮০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি, ৭০ হেক্টর জমিতে বাঁধা কপি, ২২৫ হেক্টর জমিতে আলু, ২২৮ হেক্টর জমিতে মরিচ, ৪৫ হেক্টর জমিতে বরবটি, ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পেলন, ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা, ১০০ হেক্টর জমিতে বাদাম, ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলু, ২ হেক্টর জমিতে ভূট্টা, ২১৫ হেক্টর জমিতে সীম, ৩০ হেক্টর জমিতে ঢেরসের চাষবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ফুলকপি, বাঁধাকপি কেজি প্রতি ৩০ টাকা, আলু ১৫ টাকা, লাউ প্রতিটি ৫০টাকা, সিম প্রতি কেজি ৩০-৪০টাকা, বেগুন কেজি প্রতি ২০ টাকা দরে বিক্রি করে আয়-ব্যয়ের হিসাব করে লাভ-লোকসানের হিসাব করছেন এখানকার কৃষকরা। কৃষক বশর জানান, এক একর জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপি মরিচের চাষ করতে ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করেছেন তিনি। দাম কমে যাওয়ায় তিনি লোকসানের আশংকা করছেন। চিকদাইর এলাকার কৃষক অজিত জানান, এক একর জমিতে আলু চাষ করেছি। এবার আলু কম হতে পারে এমন আশংকা করছেন তিনি। অপরদিকে আলুর দামও কম। তিনি বলেন কার্তিক মাসে বৃষ্টি হওয়ায় জমির আদ্রতা হ্রাস পাওয়ায় মাটির নিচে আলুর শরীর তেমন মোটাজাত হচ্ছে না। একই এলাকার সরিষা ক্ষেতের মালিক কৃষক সুজিত বলেন এবার সরিষা গাছও তেমন বাড়েনি। এমনকি অন্যান্য বছরের তুলনায় সরিষা ফুলও ফুটেছে কম। তবুও ভালো ফসল ঘরে তোলার আশায় আছেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, এই উপজেলার মাটি ও পরিবেশ কৃষকদের অনুকূলে রয়েছে। রাউজানের বিভিন্ন এলকায় বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করার জন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে সবজি ক্ষেতের পোকা-মাকড় দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্সপেরোমন ব্যবহার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার শীতকালীন সবজির ভালে ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মতামত...