,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক তলিয়ে গেছে বন্যায়,সাতকানিয়ায় পানি বন্দি ৫০ হাজার মানুষ

aমোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,বিডিনিউজ রিভিউজঃ টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ২০ গ্রামে ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এতে তলিয়ে গেছে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক। বাজালিয়া বড়দোয়ারা ও দস্তিদার হাট এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৬ জুলাই বুধবার সকাল থেকে বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন ঈদে ঘরমুখী লোকজন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে দস্তিদার হাটের পূর্ব পাশে ৩শত গজ এলাকা জুড়ে সড়কের উপর ২ ফুট পানি প্রবাহীত হলে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। এসম দু’পাশের লোকজনকে পায়ে হেটে চলাচল করতে দেখা যায়। দস্তিদার হাট এলাকায় রাতে সড়কের উপর থেকে পানি নেমে গেলে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। এদিকে আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বড়দোয়া এলাকায় বন্যার পানি বাড়তে থাকায় দুপুর ১ টায় সড়ক আড়াই ফুট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সড়কের উভয় পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দু’পাশে আটকা পড়া লোকজন বাজালিয়া খাটাখালি ব্রীজের পূর্ব পাশ থেকে ভ্যান-রিকশা করে প্রতি জন ১০/২০ টাকার মধ্যে দু’দিকে পার হচ্ছে। কয়েকটি উঁচু ট্রাক চলাচল করতে দেখা যায়। তবে বাস, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও মিনি ট্রাক আটকে থাকতে দেখা যায়। বড়দোয়ারা এলাকার বাসিন্দা মোঃ জালাল আহমদ (জালু) জানান, সকাল থেকে বন্যার পানি বাড়তে শুরু হওয়ায় দুপুরের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এলাকায় অধিকাংশ বাড়ি-ঘর ডুবে যাওয়ায় লোকজন অন্যত্রে আশ্রয় নিতে চলে যাচ্ছে। একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, সকালে কিছুটা যান চলাচল করলেও দুপুরে সড়ক ২ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ঘর-বাড়ি ডুবে যাওয়ায় এলাকার লোকাজন রান্না করতে না পারায় অনেকেই না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এলাকায় এখনো পর্যন্ত সরকারী বেসরকারী ভাবে কোনো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি।
উপজেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় ডুবে গেছে বাড়ি-ঘর, সড়ক ও হাটবাজার। দুর্ভোগে পড়েছেন প্লাবিত এলাকার লোকজন। শঙ্খ নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহীত হচ্ছে। পানির ¯্রােতে ভেঙে গেছে নদীর তীরবর্তী এলাকার অর্ধশত ঘর। এখনো পর্যন্ত বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারী ভাবে কোনো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছায়নি।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, চরতী, আমিলাইষ, নলুয়া, মরফলা, ঢেমশা, সাতকানিয়া সদর, সামিয়ার পাড়া, আনুফকিরের দোকান, বিল্লা পাড়া, বাজালিয়া, কেঁওচিয়া, জনার কেঁওচিয়াসহ প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছি। জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছি। পানির ¯্রােতে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেশ কিছ ঘর-বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রাথমিক ভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে সার্বক্ষনিক জানাচ্ছি। সরকারীভাবে ত্রাণ এসে পৌঁছলে দ্রুত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণ করা হবে।

ছবির ক্যাপশান: ১। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় আটকে পড়া দু’পাশের লোকজন পায়ে হেটে চলাচল।
২। তলিয়ে গেছে কেরানীহাট-বান্দরবান সড়ক। ৩। পানি বন্দি কেঁওচিয়া দস্তিদারহাট এলাকার একটি বাড়ি।

মতামত...