,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক?

sayed-asraf-kaderনাছির মীর,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী দিনের লড়াই-সংগ্রামের প্রধান সহযোদ্ধা।  এমন প্রশ্ন সারা দেশের মানুষের মুখেমুখে!  আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল কে ঘিরে মানুষের এমন আগ্রহ। আগামী ২৮ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় কাউন্সিল  । এ কাউন্সিলেই  নির্ধারণ করবে হবে কে হবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী দিনের লড়াই-সংগ্রামের প্রধান সহযোদ্ধা। কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক? বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বপদে থেকে হ্যাটট্রিক করছ্রব?  নাকি দলে নতুন মুখ আসছে? এ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটছে না!  তবে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদেরসহ আরও বেশ কয়েকজন নেতার নাম দলের নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।

সেই নিরিখে আলোচনাটা ঘুরপাক খাচ্ছে ‘কে হবেন বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রধান সহযোদ্ধা’। কেন্দ্রীয় থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে এ নিয়ে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সাধারণ সম্পাদকের আলোচনায় রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনার প্রতি পরিপূর্ণ আস্থাশীল। ১৯৮১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাতবার দলটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। এবারের কাউন্সিলে আগত কাউন্সিলররা তাদের প্রত্যাশা মোতাবেক শেখ হাসিনার প্রতি এবারও আস্থা জানাবেন, এ কথা নিশ্চিত। বরাবরের মতো তাকেই সভাপতি নির্বাচন করবেন তারা।

এবারের কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেও খোঁজখবর নিচ্ছেন। দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী, পরিশ্রমী ও বিশ্বস্ত একজন নেতাকে সাধারণ সম্পাদক করার প্রস্তুতি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হওয়ায় তার বিকল্প নিয়ে কেউ খুব একটা ভাবেন না। তবে তাকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যদি ফের স্থবিরতা আসে— এমন দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকে। কারণ সৈয়দ আশরাফ অনেকটাই নীরব থাকেন।

গত বছর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে এলজিইডি মন্ত্রণালয় থেকে তাকে সরিয়েও দেওয়া হয়। তবে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সততা দলের মধ্যেই শুধু নয়, খোদ সরকারবিরোধীরাও এ নিয়ে কখনই প্রশ্ন তোলেননি। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের দুর্দিনে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দলের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ২৪ জুলাইর জাতীয় কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রথমবারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি দ্বিতীয় দফায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দুই দফায় দায়িত্ব পালনের সময় সরকার ও দলের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। এ জন্য দলের হাইকমান্ড তার প্রতি সন্তুষ্ট। এবারের কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফ পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে তিনি টানা তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে ‘হ্যাটট্রিক’ করবেন। বঙ্গবন্ধুর বাইরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান চারবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালে দলের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। আর দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৬৬, ’৬৮ ও ’৭০ সালে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সৈয়দ আশরাফের পরই আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২০০৯-এর সম্মেলনের আগে ওবায়দুল কাদের দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখন থেকেই তিনি সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় রয়েছেন। বিগত এক বছর ধরে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে তার উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। নেতা-কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত বসছেন তিনি। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে দলের পক্ষে সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার কর্মকাণ্ড দেখে অনেক কেন্দ্রীয় নেতা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন কিনা? জবাবে তিনি বলেছেন, যেখানেই থাকি দলের জন্য কাজ করছি, সেটাই বড় কথা।

 

বি এন আর।০০১৬০০২০০২৬/০০১৮৭/ এন

মতামত...