,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কোথায় গণতন্ত্র? এরশাদের প্রশ্ন

ঢাকা,০৬ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কোথায় আজ গণতন্ত্র? ডেইলি স্টার পত্রিকাও লিখেছে গণতন্ত্র কত দূর? জানি না, গণতন্ত্রের মুখ কখন দেখব। জনগণ ভাবছে, এরশাদ সাহেব থাকলেই মনে হয় ভালো হতো, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতো।
আজ রোববার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে জাপা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এরশাদ এ মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, ৬ ডিসেম্বর অন্য দলগুলো স্বৈরাচার পতন দিবস হিসেবে পালন করলেও এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি দিনটিকে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে পালন করে।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘আজ আমার হৃদয় আনন্দে ভরপুর। আজকের দিনটি জাতীয় পার্টির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ, এই দিনে এক নব দিগন্তের সূচনা হয়েছিল। এই দিনে আমি সংবিধান সংরক্ষণের জন্য ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু সেই গণতন্ত্র এখন নেই।’
‘আমি অতীতের কথা ভুলতে চাই। সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু ভুলতে পারি না। যে অন্যায়-অবিচার আমার সঙ্গে, জাতীয় পার্টির সঙ্গে হয়েছে তা ভোলা যায় না।’ যোগ করেন তিনি।
এরশাদ বলেন, ‘আমি ক্ষমতা ছেড়েছিলাম বিচারপতি শাহাবুদ্দিনে কাছে। এই শাহাবুদ্দিন, যার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল না। যে আমার কাছে শপথ নিয়েছিলেন, তিনি আমার বিচার করলেন, জেলে দিলেন। কাজটা তিনি ঠিক করেননি। আমাকে জেলে পাঠানো হল। আমি ছিলাম স্বর্গে। একজন মুক্ত মানুষ হিসেবে। পড়লাম নরকে। কথা বলার লোক নেই, বই নেই, কিচ্ছু নেই। চুপচাপ বসে থাকতাম। সেই অবস্থায় নির্বাচন করলাম। আমার তখন টাকা নেই, দলের নেতাকর্মীরা সব জেলে, সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও ৫টি আসনে নির্বাচিত হয়েছিলাম।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেই আমার বিরুদ্ধে ৪২টি মামলা দিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল আমাকে ধ্বংস করা। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে তাদের নিজেদের দশাও আজ সে রকম।’
এরশাদ বলেন, পৌরসভা নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের অতীতের অপকর্মের কথা মানুষ ভুলে যাবে। একটা কথা আমি বারবার বলি, এই নির্বাচনে সব আসনে আওয়ামী লীগ হেরে গেলেও ক্ষমতা তাদের যাবে না। কিন্তু আমরা কী আশা করি, তোমরা কী আশা কর? সুষ্ঠু নির্বাচন হবে?’ তখন দলটির নেতা-কর্মীরা না না বলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এরশাদ তাঁদের থামিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি হবে না, এটা তাদের বুঝতে হবে। মানুষের মনের সংশয় দূর করতে হবে। আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে, যে তাদের অধীনে সব নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
এরশাদ বলেন, টিআইবি বলেছে বাংলাদেশে বাংলাদেশে দুর্নীতির সূচক কমেছে। দুর্নীতি বাড়ছে। কোথায় যাচ্ছে সম্পদ, কীভাবে যাচ্ছে। আমরা সবই জানি। কিন্তু আমাদের বলার সাহস নাই।
সাবেক মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যায় মামলা তাঁকে জড়ানো প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া দিয়েছেন মঞ্জু হত্যা মামলা। ১৪ বছর নয় মাস পর মামলা। হত্যা হয়েছে ৮১ সালে, মামলা দিলেন ১৯৯৫ সালে। সেই মামলা এখনো শেষ হয়নি। কখনো শেষ হবে না। কবরে গেলেও সেখানে সমন যাবে। এ সরকারও শেষ করবে না। কিচ্ছু যায় আসে না। কারণ আমি জানি, আমি নির্দোষ। আমার হাতে রক্তের দাগ নাই।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি ৩৩টি আসন পেয়েছিল। খালেদা জিয়া রাতের অন্ধকারে আমার কাছে লোক পাঠিয়েছিলেন, যেন আমি তাদের সমর্থন দেই। তিনি বলেছিলেন, আমি যা চাই আমাকে তা-ই দেওয়া হবে। কিন্তু আমি তাদের সমর্থন দিইনি। দিয়েছিলাম আওয়ামী লীগকে।’
এরশাদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই আমাকে ৬ মাসের জন্য জেলে পাঠাল। আমার বিরুদ্ধে দু’টি মামলা এখনো চলছে।
তিনি বলেন, ‘বলা হয় আমি দেলোয়ারকে মেরেছি। গাড়ি কি আমি চালাচ্ছিলাম? ওটা ছিল একটা দুর্ঘটনা। পুলিশের গাড়ি ব্রেক ফেল করেছিল। নূর হোসেন মারা গিয়েছিল। আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর তার বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। প্রতি মাসে তার বাবাকে আমি ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। তার জন্য জিরো পয়েন্টে মনুমেন্ট করেছি। সেই মনুমেন্টে এখন আপনারা ফুল দেন, শ্রদ্ধা জানান।’
দলের কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘দেশে হিংসার রাজনীতি চলছে। একদল ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে, অন্যদল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য মানুষ পুড়িয়ে মারছে। সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবছে না। আমাদের মূল্যবোধ, বিবেক হারিয়ে গেছে। এই দোষ সাধারণ মানুষের নয়, যারা দেশ পরিচালনা করে তাদের। এর পরিবর্তন হতে হবে। এভাবে কোনো দেশ, জাতি চলতে পারে না।’
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, তাজ রহমান, সুনীল শুভরায়, যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, নুরুল ইসলাম নুরু, জহিরুল ইসলাম জহির প্রমুখ।

মতামত...