,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

কোরবানির পশু কেনায় সতর্ক হওয়ার পরামর্শ প্রাণিসম্পদ বিভাগের: হাটে ১০ গরুর মৃত্যুতে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৮  আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন কোরবানির বাজারে অন্তত ১০টি গরু মারা যায়ার খবরে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গরুর মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে পারেনি প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

রবিবার অস্থায়ী গরুর বাজার কর্ণফুলী বাজারে (নূরনগর হাউজিং মাঠ) একটি বড় আকারের গরু মারা যায়। গরুটি সাতকানিয়া থেকে আনা হয়। ট্রাক থেকে নামার কিছুক্ষণ পরই তা মারা যায়। এর আগে কুষ্টিয়া থেকে আনা আরও দুটি গরু মারা গেছে।

ওই বাজারে দায়িত্বরত পশু চিকিৎসক ডা. মো. আবদুল শুক্কুর চৌধুরী বলেন, অতিমাত্রার জ্বরে গরুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়। বাজারে চিকিৎসা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাড়ি থেকে নামানোর কিছুক্ষণ পরই গরুটি মারা যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়িতে ৩–৪ তিন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে খাদ্যাভাব ও গরমে স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে। ক্ষতিকারক ট্যাবলেট বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, কোরবানি উপলক্ষে বিভিন্ন বাজারে আনা অন্তত ১০টি গরু মারা যায়। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে সাগরিকা বাজারে। এই বাজারে উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বেশি গরু আনা হয়।

সাগরিকা বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর দাবি করেন, উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ট্রাকে ২০–২৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে চট্টগ্রামে আনা হয়। দীর্ঘপথ দাঁড়িয়ে আসা ও খাদ্য না পাওয়ায় গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসব কারণে প্রতিবছর বিচ্ছিন্নভাবে গরু মারা যায়। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই।

কর্ণফুলী গরু বাজারের ইজারাদার মো. সোলায়মান জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে আসা গরু ছাড়াও স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা গরুও মারা যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না।

প্রতিবছর কোরবানি উপলক্ষে অসাধু ব্যবসায়ী ও বেপারি অতি লোভের কারণে ক্ষতিকারক ট্যাবলেট, পাম বড়ি ও ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করে। পশু চিকিৎসকেরা জানান, ক্ষতিকারক স্টেরয়েড ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময়ের পর গরু মারা যায়। এছাড়াও অতিমাত্রায় ব্যবহার করলে দ্রুত মারা পড়ে গরু।

তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ বেপারি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, উত্তর–পশ্চিমবঙ্গের বন্যার কারণে গো-খাদ্য সংকট, অতিমাত্রায় দানাদার খাদ্য খাওয়ানো, দীর্ঘপথ পাড়ি দেওয়ায় অসুস্থতা, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাচ্ছে। ক্ষতিকারক ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক জসিম দাবি করেন, ‘গরু মারা যাওয়ার বিষয়টি কেউ আমাদের অবহিত করেনি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার ও জোর করে খাওয়ানো এবং খাদ্যশস্য দানা (চাল, গম, ভাত, জাউ ইত্যাদি) খাওয়ালে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঠিক চিকিৎসা না ফেলে গরু মারা যাবে।

আজ ২৮ আগস্ট সোমবার থেকে প্রতিটি বাজার–হাটে ভেটেরিনারি টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে বলে জানান তিনি।

পশু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্টেরয়েড মূলত হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এ জাতীয় ওষুধ যেমন–ডেক্সামেথাসন বা ডেকাসন, বেটামেথাসন ও পেরিএকটিন অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার করলে গরুর কিডনি ও যকৃতের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। গরুর শরীরে পানি জমে যায়। পানি বের হতে পারে না। পানি সরাসরি গরুর মাংসে চলে যায়। ফলে গরু মোটা দেখায়। এসব গরুর মাংস খেলে মানুষের ফুসফুস ও যকৃতে পানি জমে, কিডনি দুর্বল হয় ও হৃদপি–ের ক্ষতি হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেয়াজুল হক জসিম জানান, বর্তমানে গরু ক্ষতিকারক ওষুধ ব্যবহারে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয় না। ইতিপূর্বে এভাবে মোটাতাজাকরণ করতে গিয়ে গরু মারা গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী লোকসান গুণে দেউলিয়া হয়েছেন। তাই ক্ষতিকারক ট্যাবলেট খাওয়ানো বাদ দিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যবান্ধর উপায়ে গরু লালন–পালনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। সরকারও এই বিষয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে দুটি পদ্ধতিতে গরু হৃষ্টপুষ্ট করা হয়, ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র পদ্ধতিতে গরু লালন–পালন স্বাস্থ্যবান্ধব। ইউরিয়া সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম, খড় তিন কেজি, চিড়া গুড় আধা কেজি ও ৩–৪ কেজি পানি মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। এছাড়াও ইউরিয়া ব্যবহার না করলে এক শতাংশ করে আঁশ ও দানাদার পদ্ধতিতেও হৃষ্টপুষ্ট করা হয়। ডালের ভূষি, চালের কুড়া, গমের ভূষি, সয়াবিল মিল, তিলে–সরিয়ার কৈল খাওয়ানো হয়। শুকনো ও কাঁচা ঘাস পরিমাণমতো দিতে হবে।

বিজ্ঞানসম্মতভাবেই লালন–পালন করা পশু অধিক নিরাপদ।

বিজ্ঞানসম্মতভাবেই লালন–পালন করা পশু  চেনার উপায়

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেপালন–পালন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি লালন–পালন করা গরু ভালো স্বাস্থ্য, মাথা উঁচু, শরীর টানটান, উত্তেজনা, তীক্ষè বিচক্ষণ থাকবে। গরু ভারী হবে না।কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা ক্ষতিকারক ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহৃত গরু অসুস্থতায় সবসময় নির্জীব থাকবে। ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। খাবারও খেতে চায় না। গরুর পেছনের দিকে উরুর পেশীবহুল জায়গায় আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে তা দেবে যাবে। কারণ বাইরে থেকে মাংস মনে হলেও এখানে মাংসের সঙ্গে ব্যাপক পরিমাণে পানি থাকে। কৃত্রিমভাবে মোটা করা এসব গরুকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাই না করলে মারা যায়।

মতামত...