,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ক্লিনটনের চাপেই ইউনূসের ‘নোবেল’ জয় !

clintons andyunus familiনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন নোবেল কমিটির ওপর চাপ দেন। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রভাব খাটিয়ে ড. ইউনূসকে অন্তত ১৩ মিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মূদ্রায় ১ ডলার সমমান ৭৮.৮৫ টাকা হিসেবে প্রায় ৮০ কোটি টাকা) তহবিল পাইয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন ২০০৯ সালে ড. ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানেও ভূষিত করা হয়। স্থানীয় সময় সোমবার ওয়াশিংটনভিত্তিক দ্য ডেইলি কলার-এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়। ডেমোক্রেট পার্টির হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থিতা প্রত্যাশী হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টিঘেঁষা দ্য ডেইলি কলার। পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ব্যক্তিগতভাবে নানা লবি ও যোগাযোগের মাধ্যমে ২০০৬ সালে ড. ইউনূসকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে নোবেল কমিটির ওপর চাপ দেন। ২০১১ সালে হিলারির পারিবারিক বন্ধু ইউনূস ‘দুর্নীতির অভিযোগে’ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ হারানোর পর তাকে অনুদান, ঋণ কিংবা কাজ হিসাবে ১৩ মিলিয়ন (এক কোটি ৩০ লাখ) ডলার দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সংস্থার ইউএসএআইডির মাধ্যমে পৃথক ১৮টি কিস্তিতে এই অর্থ দেয়া হয় বলে ‘ইউএসএ স্পেন্ডিং ডট গভ’ ওয়েবসাইটের বরাতে জানায় ডেইলি কলার। এছাড়াও, ইউনূসের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এমন ১১টি প্রতিষ্ঠান ইউএসএআইডি থেকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার পেয়েছিল। এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক থেকে তিন লাখ ডলার ক্লিনটন ফাউন্ডেশনকে অনুদান হিসেবে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট। বিখ্যাত ব্যক্তি হিসেবে ড. ইউনূসকে পরিচয় করিয়ে দিতে বিল ক্লিনটন ও হিলারি ক্লিনটনের দারুন অবদান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ে। এতে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ব্যক্তিগতভাবে নানা লবি ও যোগাযোগের মাধ্যমে ২০০৬ সালে ড. ইউনূসকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে নোবেল কমিটির ওপর চাপ দেন। এমনকি ২০১১ সালে যখন ড. ইউনূসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার তদন্ত শুরু করে তখনও নিজের মার্কিন কূটনীতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে হিলারি তার পক্ষ নেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে পাশে বসিয়ে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমরা ড. ইউনূসের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছি। আশা করছি, আগের মতোই গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করা অব্যাহত রাখতে পারবে।’ হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ফাঁস হওয়া তার ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, ড. ইউনূসের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের করা তদন্তের ওপর গভীর দৃষ্টি রাখছিলেন বিল ও হিলারি ক্লিনটন। তাদের ফাউন্ডেশনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন ড. ইউনূস। ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ড. ইউনূসকে ৩৭টি স্থানে তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট গোষ্ঠী ‘সিটিজেন্স ইউনাইটেড’ এর নেতা ডেভিড বশিয়ে, ক্লিনটন দম্পতি ও ড. ইউনূসের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নিয়ে এফবিআইকে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দফতরের কাজ এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের ডোনারদের সুবিধা দিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের এই কাজটি একটি বড় উদাহরণ। ইমেইল ফাঁসের সঙ্গে এটারও তদন্ত করতে পারে এফবিআই।’ ডেইলি কলার জানায়, বিল ক্লিনটন যখন আরকানসার গভর্নর ছিলেন, তখনই তিনি এবং হিলারি ক্ষুদ্রঋণের ধারণার প্রেমে পড়েন। সে সময় ইউনূস ছিলেন একজন বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, যিনি ১৯৭৮ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের বিষয়ে সাফল্য অর্জন করেন। হিলারির ব্যাপারে পাওয়া এ সব তথ্য  সম্পর্কে এফবিআইয়ের অপরাধ বিভাগের সাবেক সহকারী পরিচালক রবার্ট টি হোস্কো জানান, যদি ডেইলি কলার নিউজ ফাউন্ডেশন এসব তথ্য পেয়ে থাকে, তবে এফবিআইয়ের কাছেও এসব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এফবিআই কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএসএআইডির মুখপাত্র রাফায়েল কুক ডেইলি কলারকে জানান, এ বিষয়ে সামগ্রিক তথ্য দেয়ার মতো কোনো লোক এ মুহূর্তে তাদের কাছে নেই। গ্রামীণ ফাউন্ডেশন এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হিলারির প্রচার দল ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের মুখপাত্ররাও কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি বলে জানায় ডেইলি কলার।

 -যুগান্তরের প্রতিবেদন।

মতামত...