,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

খালেদা,তারেকের দ্বৈতশাসনই বিএনপির দুরবস্থার কারনঃনাজমুল হুদা

hodaনিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা,১৮, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দলটির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ) প্রধান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তারপর এত বড় একটা দল বিএনপি চালানোর ব্যাপারে তার যে দায়িত্ব, তার সব কিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, তার  জন্য রাজনীতিতে স্থিতিশীল কোনও পর্যায়ে থাকাই এখন শ্রেয়। এখন তার রাজনীতি থেকে রেস্টে চলে যাওয়া উচিত।’

রবিবার অন লাইন নিউজ বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

হুদা বলেন, খালেদা জিয়া এখন ‘ক্লান্ত’। তার অবসরে যাওয়া উচিত। তার মতে, বিএনপিতে খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার দ্বৈতশাসন চলছে। দলটির আজকের দুরবস্থার জন্য বিএনপি নিজেই দায়ী। সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিবেশ খালেদা জিয়া নিজেই নষ্ট করেছেন। এখন তো তিনি এ দাবি তুলতে পারেন না।

বিএনপি-ত্যাগী নাজমুল হুদা আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন না বলেও জানান। তবে, তিনি বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে চান ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে শরিক দল হিসেবে সম্পৃক্ত হতে।

হুদা বলেন, আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে কারও চক্ষুশূল হতে চাই না। আমরা ১৪ দলীয় জোটে গিয়ে এই জোটকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চাই।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠজন ও দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির ১২ জন সদস্যের একজন ছিলেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। বিএনপির হয়ে একাধিবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন একাধিকবার। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও অধিষ্ঠিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে দলের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে বের হয়ে নিজে দলও গঠন করেছেন।

সর্বশেষ ৩১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জোট গঠন করেন এই নেতা। গত ১৫ জানুয়ারি এ জোটের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে আসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ওই অনুষ্ঠানে নাসিম নাজমুল হুদার জোটকে ১৪ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানালে আবারও আলোচনায় আসে বিএনএ জোট।

হুদা বলেন, ‘আমার মনে হয় খালেদা হয়ত অবসরে যেতেন যদি তার ছেলে ঠিকমতো দলের হাল ধরতেন। তার দৃষ্টিতে বিএনপির আজকের দুরবস্থার কারণ দলের অভ্যন্তরে দ্বৈতশাসন, সিদ্ধান্তহীনতা বেশি দায়ী।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ওই সময় বিএনপি সফল ছিল, এখন ওরা ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন হুদা।

সাবেক এ যোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের যে কথা নাসিম বলেছেন সেটা আমাদের জন্যে খুবই উৎসাহমূলক। ১৪ দলীয় জোটে যাওয়ার নাসিম সাহেবের প্রস্তাব গুরুত্বসহ দেখা হচ্ছে। জোটের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফরমালি আহবানের জন্যে ১৪ দলকে আহবান জানানো হবে। জোটে গিয়ে ভবিষ্যতে একটা নতুন দিক উম্মোচন করতে চাই।

হুদা বলেন, ‘আমরা মনে করি, বর্তমান সরকারের যে ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রী যে ক্ষমতার অধিকারী, তাতে করে কারও সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সমস্যার সমাধান প্রধানমন্ত্রী একাই করতে পারেন। তবু, আমাদের জোটের কিছু সহায়ক ভূমিকা থাকতে পারে। কারণ, আমরা বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহৎ জোট। ৩১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত  আমাদের এই জোট।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু রাজনীতির মাধ্যমে এদেশে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। সুষ্ঠু রাজনীতির আলামতও এখন দেশে বিদ্যমান। রাস্তায় আগে যে উত্তাপ ছিল, সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড ঘটত, যে সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করত, সেই হরতাল-বিক্ষোভ-নাশকতা এখন আর নেই।’

তিনি বলেন, সরকার বর্তমান যে স্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, এটা আমি মনে করি, ভবিষ্যতের জন্যে ইতিবাচক। যে উপায়েই হোক কঠোরতম ব্যবস্থা যদি সমালোচনামূলকও হয়ে থাকে, তবু এর ফল দেশের জন্যে মঙ্গলজনক হবে।

বিএনপির ৯২ দিনের আন্দোলনের সমালোচনা করে এই নাজমুল হুদা বলেন, জোর করে কিছু আদায় করা যায় না। অবরোধ করে, পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে কিছু অর্জন করতে সম্ভব নয়। দাবি আদায় করতে হলে অবশ্যই সরকারকে ‘কনভিন্স’করতে হবে।  সেটা আলোচনার মধ্যেই হওয়া উচিত ছিল। আলোচনা সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। কারণ, যারা অবরোধ করে গাড়ি পুড়িয়ে  মানুষ মারছিলেন, চট করে তাদের সঙ্গে অবস্থার পরিবর্তন করে আলোচনা সম্ভব নয়।

নাজমুল হুদা বলেন, সবাই মনে করে সংলাপ জরুরি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সংলাপটা কার সঙ্গে হবে সেটা আগে ঠিক করা জরুরি। কারণ, যারা আলোচনার ক্ষেত্র তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছেন, আলোচনার ক্ষেত্র তৈরিতে বিভিন্ন রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে যারা ইতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে চান, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এদেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাসহ মেজর প্রবলেমগুলো সমাধান করার সময় এসেছে।  সরকারকে এসব কাজে মনোনিবেশ করতে হবে। এগুলো করতে পারলেই কিন্তু এ সরকার সবদিক থেকে সফলতা অর্জন করবে। পরবর্তী সময়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে নির্বাচনে জনগণের রায় বর্তমান সরকারের পক্ষেই আসবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে নাজমুল হুদা বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আমি কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজে থেকে আমি প্রধানমন্ত্রীকে একটা ‘সাজেশন’ দিয়েছি। বলেছি, ২০১৭ সালে যদি উনি একটা নির্বাচন দেন, তাহলে ২০১৭ সাল থেকে ৫ বছর মেয়াদ নিয়ে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এবং বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিটা হবে ২০২১ সাল।

হুদা বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ১৭ সালে যদি একটা নির্বাচন দেওয়া যায়, তাহলে ২০২১ সাল আপনার মেয়াদের ভেতরে পড়ে। বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আপনিই বিশ্ব নেতাদের আমন্ত্রণ জানাবেন।  তিনি বলেন, কারণ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনটা যত রকমের গ্রহণযোগ্যতাই পাক, এটা কিন্তু এখনও প্রশ্নবিদ্ধ  সারাবিশ্বে। কাজেই ৫ জানুয়ারির সরকারের ৫০ বছর পূর্তির এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আমন্ত্রণপত্র বিশ্ব নেতাদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, এ চিন্তা-ভাবনার বিষয় রয়েছে। তিনি বলেন, সেজন্যে আমি প্রধানমন্ত্রীকে সাজেস্ট করেছিলাম, একটি নির্বাচন দিয়ে আপনি অবস্থার পরিবর্তন ঘটান।

বিএনপির ব্যর্থতার কারণ সম্পর্কে দলটির সাবেক এ নেতা বলেন, বিএপি বিভিন্ন রকমের সিদ্ধাহীনতায় ভোগে। ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এছাড়া বিএনপি এখন দ্বৈতশাসন চলছে। একটা শাসন আসছে যুক্তরাজ্য থেকে, আরেকটা দেশে খালেদা জিয়ার কাছ থেকে।

হুদা বলেন, তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। যাকে  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোনও অবস্থাতে উপেক্ষা-অবজ্ঞা করতে পারেন না। যত দূরেই থাকুক না কেন। যত অপ্রাসঙ্গিকই তার সিদ্ধান্ত হোক, তারপরও সেটার বিরাট মূল্য বিএনপির রাজনীতিতে। সেটা করতে গিয়ে অনেক জায়গায় বিএনপি বিভিন্ন রকমের পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। দ্বৈতশাসন বিএনপির ভেতরে বিরাট কনফিউশনেরও কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হুদা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়ার ভুল বুঝতে পেরেছে বিএনপি। সেই ভুলের কারণে তাদের যে দুরাবস্থা হয়েছে রাজনীতিতে সেটা তারা উপলব্ধি করছেন। তাই পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। একইসঙ্গে পৌর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আগামী দিনে তারা জাতীয় নির্বাচনেও যাবেন। বিএনপি আর কোনও নির্বাচন বর্জন করবে না। শিক্ষা হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের পরিপন্থী—এটা আমি মেনে নিতে পারি না। উনি গণতন্ত্রের পক্ষের একটি শক্তি। তিনি অবশ্যই চাইবেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে। হুদা বলেন, নির্বাচন প্রভাবিত করার মানসিকতা না থাকলে কার অধীনে নির্বাচন হলো, না হলো, এটা কোনও বিষয় নয়। সরকারে থেকেও নির্বাচনটা সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ করা যায়। নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় থাকলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলো, না অন্য কারও অধীনে হলো দ্যাট ইজ নট ইম্পর্টেন্ট।

 

বিএনপির দুরবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে দলটাকে ভিন্নভাবে সাজাতে হবে মন্তব্য করে বিএনপির সাবেক এ ডাক সাইটে নেতা বলেন, দলটির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও এর চর্চা আরও সুসংহত করতে হবে। নির্বাচনের ভেতর দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্ব ও কমিটি থাকতে পারবে না। কেন্দ্রে নির্বাচিত নেতৃত্ব থাকতে হবে। খালেদা জিয়া যদি দলের সবার সমর্থন পান,  তিনি নির্বাচিত হবেন। আর যদি তার ব্যাপারে কারও কোনও আপত্তি থাকে, বিতর্ক থাকে, তিনি হবেন না। এটা তাকে মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, তৃণমূলকে প্রাধান্য দিতে হবে। ওপর থেকে নেতৃত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। বিএনপিকে আবার আগের জায়গায় নিতে হলে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব বের করে আনতে হবে।

নাজমুল হুদা আরও বলেন, আওয়ামী লীগেও একই রকম হচ্ছে। যদি দুটা দলই তৃণমূল থেকে নির্বাচন করে নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারত, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণতন্ত্র হিসেবে রূপ নিত।

বিএনপিতে তারেক জিয়ার নেতৃত্বের কথা চিন্তাই করতে পারেন না জানিয়ে হুদা বলেন, এটা যুক্তরাজ্যের দল হবে না। বাংলাদেশের বিএনপি হবে।-বাংলা ট্রিবিউন

 

মতামত...