,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

খেজুরের ভেতরে অভিনব কায়দায় স্বর্ণ পাচার

a. নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ‘খেজুরের মৌসুম, তাই কিছু খেজুর নিয়ে এসেছি। স্ক্যানিং মেশিন বলছে স্বর্ণ আছে। সরল জবাব, নেই স্যার। পবিত্র খেজুরে স্বর্ণ কীভাবে থাকবে -পাল্টা প্রশ্ন।

স্মার্ট সি-ম্যান (সি-পারারাস), টগবগে সিঙ্গাপুর ফেরত যুবক মোহাম্মদ জামসেদ আলমের সরল স্বীকারোক্তিতেও সন্তুষ্ট হতে পারলেন না বেরসিক কাস্টমস কর্মকর্তা।

মেশিন বলছে, খেজুরের মধ্যে স্বর্ণ আছে। সাধারণত যাত্রীর খাবার তো চেক (তল্লাশি) হয় না। কিছুই করার নেই। ইনটেক খেজুরের বাক্স খুলে হতবাক কর্মকর্তারা!

খেজুর দামি হোক। তাতে বিচি থাকার কথা। কিন্তু বিচির জায়গায় বিচি আকৃতির স্বর্ণ! তাও আবার একটি দু’টি নয় ১৯৫টি স্বর্ণের বিচি! এ হল সি-ম্যানের কাণ্ড!

শুক্রবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খেজুরের ভেতর থেকে এভাবে প্রায় দুই কেজি স্বর্ণ জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউজ।

ঢাকা কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার (এসি) ওমর মোবিন খেজুর থেকে অভিনব পদ্ধতিতে পাচার করা স্বর্ণ জব্দের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

ওমর মোবিনের ভাষ্যমতে, রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে আরএক্স ৭৮৫ ফ্লাইট সিঙ্গাপুর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে এ ফ্লাইটে স্বর্ণ আসছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা সর্তক। গ্রিন চ্যানেলে চলছে তল্লাশি। বেল্টে ব্যাগে চলছে বিশেষ তল্লাশি।

চট্টগ্রামের ৩৫ বছরের যুবক মোহাম্মদ জামশেদ আলমের ব্যাগ স্ক্যানিংয়ে স্বর্ণের আলামত পাওয়া যায়। ব্যাগ খুলে তল্লাশি করা হয়, সঙ্গে জামশেদকে জিজ্ঞাসাবাদ।

স্বীকার হয় না জামশেদ। পাওয়া যায় একটি ইনটেক বাক্স। জিজ্ঞাসায় জামশেদ জানায়, প্রায় দেড় কেজি দামি খেজুর রয়েছে বাক্সে। বাক্স খুলে দেখা হল, স্বর্ণ নেই।

সন্তুষ্ট হতে না পেরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের জেরার মুখে জামশেদ। স্মার্ট সি-ম্যান রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। প্রমাণ করতে জিজ্ঞাসায় লেগে যায় এক ঘণ্টা।

বেরসিক একজন কাস্টমস কর্মকর্তা খেজুর টিপে দেখলেন। খেজুরের বিচি তো গোল, চারকোনা বিচি হাতে লাগায় প্রশ্ন জাগে।

একটি টিপে বের করে হাত দিয়ে ঘষা দিয়েই হতবাক কর্মকর্তা। একি! স্বর্ণ! জামশেদ ততক্ষণে প্রলাপ বকছে-‘আমি স্বর্ণের কিছুই জানি না। একজন ব্যাগটি আনতে বলেছে।’

আরো পাওয়া গেল ৭৮ গ্রাম ওজনের কিছু স্বর্ণালঙ্কার। স্বর্ণের বিচিসহ মোট এক কেজি আটশ’ ৭৩ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া গেলো, যার বাজার মূল্য ৯৪ লাখ টাকা।

জামশেদের পাসপোর্টে দেখা যায়, জামশেদকে ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল ডিপার্টমেন্ট অব শিপিংয়ের ডিজি স্বাক্ষরিত সি-ম্যানের সনদপত্র দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় সে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানিতে সি-ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে বেশ কয়েকবার তিনি বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরে যাতায়াত করেছেন।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার (১৩ আগস্ট) বিমানবন্দর থানায় জামশেদকে হস্তান্তর করা হয়। এখন থেকে খাবারও তল্লাশি করা হবে বলেও জানান ওমর মোবিন।

 

মতামত...