,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

গণভোটে হেরে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ গণভোটে ব্রিটেনের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রায় দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আগামী অক্টোবরে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন।

শুক্রবার (২৪ জুন) প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। কনজারভেটিভ এ নেতার পাশে ছিলেন আইনজীবী স্ত্রী সামান্থা।

‘কখনও কখনও সময় আসে জনগণকে জিজ্ঞেস করার, তারা কী চায়? তাদের ইচ্ছার প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে’, ক্যামেরন বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেনের জনগণের এ নির্দেশনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।’ এ সময় তার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটেনের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ৬ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছি। এটি তার জন্য অনেক সম্মানের বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আগামী অক্টোবরে দায়িত্ব ছাড়বেন জানিয়ে ক্যামেরন বলেন, ওই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন কাউকে মনোনীত করবে দলের নীতিনির্ধারকরা।

তিনি বলেন, তার সরে দাঁড়ানোর এ ঘোষণায় এই জাহাজ চালাতে একজন নতুন ক্যাপ্টেন লাগবে। জাতিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার নেতৃত্ব দেয়ায় নিজেকে যোগ্য একজন ক্যাপ্টেন বলে আর মনে করছেন না ডেভিড ক্যামেরন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে থাকা না থাকা নিয়ে গ্রেট ব্রিটেনজুড়ে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ গণভোটের ফলাফলে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট দেয় ৫২ শতাংশ নাগরিক, ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দেয় ৪৮ শতাংশ মানুষ।

ভোট গণনার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ব্রেক্সিট (ব্রিটিশ এক্সিট) এর পক্ষে পড়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার (৫২ শতাংশ) ভোট। অপর দিকে ইইউতে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ভোটার।

ভোট গণনার শুরুতে ইইউতে থাকার পক্ষে-বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও সময় যত গড়িয়েছে ব্রেক্সিট অর্থাৎ ইইউ ছাড়ার পক্ষে পাল্লা হেলে পড়ে তত বেশি।

ইইউ জোটের পক্ষে-বিপক্ষের এ লড়াই অনেক জায়গায় হাড্ডাহাড্ডি হলেও শেষ পর্যন্ত মোট ভোটের হিসেবে বিজয়ী হয়েছে ইইউ জোট বিরোধীরা। ফলাফলে দেখা গেছে, সাউথ স্ট্যাটফোর্ডশায়ার, ল্যাংকাস্টার, নিউয়ার্ক এন্ড শেরউড, সাউথ হল্যান্ড, প্লাইমাউথ, ব্ল্যাকবার্ন-ডারওয়েনে  ইইউ ছাড়ার পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে।

ব্রিটেনের ইতিহাসে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এটি তৃতীয় দফা গণভোট। ঐতিহাসিক এই গণভোটে বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোট দেন গ্রেট ব্রিটেনভুক্ত ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি ভোটার।  ২৮টি দেশের ইইউ জোটে যোগ দিতে ১৯৭৫ সালে গণভোটে অংশ নেয় ব্রিটেনের মানুষ। একই ইস্যুতে ৪১ বছর পর বৃহস্পতিবারের এ গণভোট ছিল দ্বিতীয় দফা।

ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয় ব্রিটেনের ৩৮২টি আঞ্চলিক কেন্দ্রে। পূর্ণাঙ্গ ফল ম্যানচেস্টার টাউন হল থেকে ঘোষণা করা হয়।

এদিকে ব্রিটেনের গণভোটের এ ফলাফল পর্যবেক্ষণে ছিল জোটের অন্য ২৭ দেশ।   ভোটের এ ফলাফল নেতিবাচক হলে আগামী দিনে ব্রিটেনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজবে। এতে জোটে অবস্থান আরও নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা ইইউ বিশ্লেষকদের।

ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসায় প্রচারণা চালানো ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ বলেন, ‘আজ যুক্তরাজ্যের স্বাধীনতা দিবস।’ তিনি এ ফলাফলকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবেও অ্যাখ্যায়িত করেন।

একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফলের প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানান ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্স পার্টির এ নেতা। ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় ঘোষণার পর ব্রিটেনের বিরোধী লেবার পার্টি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঠিক করছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

গণভোটের এ ফলাফল প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে রায় গেলেও  সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডেভিড ক্যামেরুনকে চিঠি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের ৮৪ এমপি। এদের মধ্যে ইইউ ছাড়ার পক্ষের নেতা বরিস জনসন ও মাইকেল গোভও রয়েছেন।

ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জোটের শরিক সদস্য দেশের নীতিনির্ধারকদের অনেকে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকলম টার্নবুল  বলেছেন, ব্রিটেনের ভোটের এ ফলাফলের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ওপর পড়বে না, কেননা এ প্রক্রিয়া থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যেতে বেশ কয়েকবছর সময় লাগবে। তবে ইতোমধ্যে মুদ্রাবাজার ও পুঁজিবাজারে এ ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ওয়ালটার স্টেইনমেয়ার বলেছেন, ব্রিটেনের এ সংবাদ সত্যি মর্মাহত হওয়ার মতো। দিনটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রিটেনের জন্য দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সভাপতি মার্টিন শুলজ বলেছেন, ‘গণরায় শ্রদ্ধা করছি। এখন সময় হচ্ছে দায়িত্বশীল আচরণের। ডেভিড ক্যামেরনের দায়িত্ব রয়েছে তার দেশের জন্য, আমাদের দায়িত্ব রয়েছে ইইউ’র ভবিষ্যতের জন্য কাজ করার। ফলাফলের পর ব্রিটিশ মুদ্রা ফাউন্ড স্টালিংয়ের মতো ইইউ মুদ্রা ইউরোর পতন আমরা নিশ্চই দেখতে চাইব না।’

যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কি না, তা নিয়ে গণভোটের ঘোষণা গত বছর দিয়েই দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেছিলেন ৪৯ বছর বয়সী ক্যামেরন।  ক্যামেরন গণভোটে ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নিলেও তার দলের অনেক নেতা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

 

মতামত...