,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

গণহত্যার তদন্তে অসহযোগিতা করছে মায়ানমার: কফি আনান

cofeananআন্তর্জাতিক ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: মায়ানমারে চলমান গণহত্যার ব্যাপারে রাখাইন রাজ্যের তদন্ত কমিশনকে দেশটির সরকার পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান।

দেশটির রাখাইন রাজ্যের উপদেষ্টা কমিশনের লক্ষ্য পূরণের জন্য তাদের সাহায্য প্রয়োজন বলে মনে করেন ওই কমিশনের প্রধান।

সোমবার মায়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ ৫ জন এমপির সঙ্গে সিত্তে শহরের পার্লামেন্ট কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

মায়ানমার টাইমসকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বৈঠকে উপস্থিত পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের এমপি ইউ সোয়ে উইন।

সোয়ে উইন বলেন, রাজ্যের দুটি সম্প্রদায়- মুসলিম ও রাখাইন। রাখাইন রাজ্যের উপদেষ্টা কমিশনকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়, কিন্তু রাখাইন সম্প্রদায় কমিশনকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, কমিশন যখনই সেখানে তদন্তের জন্য যাচ্ছে কিন্তু রাজ্যের রাখাইন সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছে না।

সোয়ে উইন বলেন, কফি আনানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আরাকান ন্যাশনাল পার্টির প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মায়ানমার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের স্পিকার। তাদের অনেকেই এর জবাবে জানান, আমরা এ আলোচনায় বসতে রাজি নই। তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত তাদের দল নেবে।

২৩ আগস্ট কফি আনানের নেতৃত্বাধীন ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিশন গঠন করেন মায়ানমারের নেতা অং সান সুচি। ২ ডিসেম্বর রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সফরে যান কফি আনান।

তিনি জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা বেশ ইতিবাচক, তবে রাখাইন সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তার ঘাটতি রয়েছে।

কফি আনানের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত নিুকক্ষের এমপি ইউ টিন নু বলেন, দেশের আইনের নিয়মিত কাজ হিসেবে আমরা কফি আনানের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এর আগে আরাকান রাজ্য ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কফি আনানের জ্ঞানের সমালোচনা করেন তিনি। ইউ টিন নু বলেছিলেন, কফি আনানকে আরাকান রাজ্যের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা উচিত।

এদিকে মায়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযান থেকে বাঁচতে প্রায় ২১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশন (আইওএম) এ তথ্য দিয়েছে।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত ৯ অক্টোবর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৪ দিনে প্রায় ২১ হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজারে পৌঁছেছে।’ এর আগে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ১০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছিল জাতিসংঘ।

কক্সবাজারে আইওএম অফিসের প্রধান সানজুক্তা সাহানি বলেছেন, গত দুই মাসে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ২১ হাজার সদস্য বিতাড়িত হয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন।

তিনি জানান, পালিয়ে আসা অধিকাংশ শরণার্থী অস্থায়ী বসতি, সরকারি শরণার্থী শিবির ও গ্রামে গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে।

এএফপিকে সাহানি বলেন, ৯ অক্টোবর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় আনুমানিক ২১ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ সংস্থাগুলো ও আন্তর্জাতিক এনজিও সংস্থার সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানা গেছে বলে জানান তিনি।

মতামত...