,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে আজ

aনিজস্ব  প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহতদের লাশ হস্তান্তর শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহতদের মরদেহ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রাখা আছে। শুক্রবার লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সিএমএইচে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ায় লাশ হস্তান্তর করা হচ্ছে।

নিহত তিন বাংলাদেশিদের লাশ আজই স্বজনরা নিয়ে যাবেন বলেও জানা গেছে। এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদের মেয়ে অবিন্তা কবীরের মরদেহ নিতে তার স্বজনরা এরইমধ্যে সিএমএইচে পৌঁছে গেছেন। এলিগ্যান্ট গ্রুপের এজিএম লিয়াকত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। অবিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে থাকতেন। তিনি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সোমবার তার দাফন সম্পন্ন হবে বলেও জানিয়েছেন লিয়াকত।

বিদেশি নাগরিকদের লাশ হস্তান্তরের আগে কিছু রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ও নিহতের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স লাগবে। তারপরই লাশ হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত জিম্মি সংকটে ২০ জন মারা যায় বলে জানায় আইএসপিআর। তাদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি ও ৩ জন বাংলাদেশি।  বিদেশিদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি ও একজন ভারতীয়।বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছিলেন।

আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর), নিহতদের  পারিবারিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নিহত তিন বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন ফারাজ আইয়াজ হোসেন, তিনি এসকায়েফ-এর সিইও সিমীন হোসেনের ছেলে এবং ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শামীম লতিফুর রহমানের নাতি। পরিবারের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত অন্য বাংলাদেশি হচ্ছেন ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান ক্রিয়েটিভস (আইএসি)-এর শিক্ষার্থী ইশরাত আকন্দ। সহপাঠীরা  তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

নিহত অপর আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অবিন্তা কবীর। তিনি এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদের কন্যা। পরিবারের পক্ষ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। অবিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে থাকতেন। তিনি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে ভারতীয় নাগরিক তারিশি জৈনের (১৯) পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত তারিশি’র বাবার নাম সঞ্জীব জৈন। তিনি ঢাকার আমেরিকান স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহত ৯ ইতালীয় নাগরিক হলেন আদেলে পুগলিসি, মারকো তোন্দা, ক্লদিয়া মারিয়া ডি’আন্তোনা, নাদিয়া বেনেদেত্তি, ভিনসেঞ্জো ডি’আলেস্ত্রো, মারিয়া রিভোলি, ক্রিস্তিয়ান রসি, ক্লদিয়া কাপেলি এবং সিমোনা মন্তি। শনিবার ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জিন্তিলোনি ঢাকায় নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করেছেন। বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাপান সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা নিহতদের মধ্যে সাত জাপানি রয়েছেন বলে নিশ্চিত করলেও তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি।

উল্লেখ্য, এ হামলা ও উদ্ধার অভিযানের ঘটনায় ২০ বিদেশিসহ মোট ২৮ জন নিহত ও অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৬ জনকে জঙ্গি হিসেবে শনাক্ত করেছে আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। বাকি দু’জন হচ্ছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন।

 

মতামত...