,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

গুলশান থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে খালেদার রাজনৈতিক কার্যালয়

bnp kaleda uccedনাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজঃ গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য কার্যালয় উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বর্তমান পরিস্তিতিতে কূটনৈতিক এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার। কূটনৈতিক এলাকাকে একটি নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে, এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।

এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গুলশান থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং বনানী থেকে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টির কার্যালয় সরাতে হবে।

জানা গেছে, এর আগে কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি জোনের ডিসি ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি চিঠি দিয়ে এই এলাকাকে একটি নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে এই উদ্যোগ নেওয়া সুপারিশ করা হয়।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) গুলশানের আবাসিক প্লটে প্রায় ১৩ হাজার বাণিজ্যিক , রাজনৈতিক ও অন্যান্য অবৈধ ভাবে ভবনের ব্যবহারের তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকায় রয়েছে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে।

রাজউকের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে উচ্ছেদ করা হবে রেস্টুরেন্ট ও বার-এর মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এর পরের ধাপে আসবে রাজনৈতিক কার্যালয় ও অন্যান্য অবৈধ প্রতিষ্ঠান।

রাজউকের (জোন-৪) অথরাইজ কর্মকর্তা  বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, গুলশান একটি আবাসিক এলাকা। এখানে অনেক কূটনীতিক অবস্থান করেন। এই এলাকা থেকে সব বাণিজ্যিক কার্যালয়, বার, রেস্টুরেন্ট ও অবৈধ ভবন সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে এবং তা খুব শিগগির শুরু হবে উচ্ছেদ অভিযান।

গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ।

 গুলশানের অভিজাত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গুলশান হামলার পর কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার সেখান থেকে বাণিজ্যিক কার্যালয় ও অবৈধ ভবন সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।

জানা যায়, পুরো গুলশানে ৯০৪টি আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। আরেক অভিজাত এলাকা বনানীতে রয়েছে এ ধরনের ৩৯৯টি প্রতিষ্ঠান। তবে গত আট বছরে এ সংখ্যা বেড়ে এখন দুই হাজার ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। গুলশান আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় একদিকে অস্বাভাবিক যানজট বেড়েছে, অন্যদিকে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা।

ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকা গুলশান, বনানী ও বারিধারায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে গিয়ে পিছু হটেছে রাজউক।

সম্প্রতি জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে  সরকার।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অবশ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খুব শিগগির কূটনৈতিক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাখা হবে না। প্রাথমিকভাবে গুলশান, বনানী ও বারিধারার আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোটেল-রেস্তোরাঁ উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হবে।

এসব এলাকার স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালগুলো সরাতে তিন মাস সময় দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তাদের জন্য নতুন জমি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

মতামত...