,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদন, বিডিনিউজ রিভিউজঃ‘ সকল মহলই গ্যাসের দাম না বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করেছে। কিন্তু সকল প্রস্তাবনা উপেক্ষা করে দেশে এক বছরের ব্যবধানে গ্যাসের দাম আবারো বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী গ্যাসের দাম দুই চুলার জন্য মাসিক ১২শ’ টাকা এবং এক চুলার জন্য মাসিক এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। সিএনজি গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮ টাকা করার প্রস্তাব করে ফাইল চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য দুয়েক দিনের মধ্যে ফাইল পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই দেশে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হবে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন এবং ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিভিন্ন সময় চাহিদার সাথে সমন্বয় করে গ্যাসের মূল্যও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের পহেলা সেপ্টেম্বর দেশে গ্যাসের মূল্য গড়ে ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে দেশের প্রতিটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর তহবিলে বর্তমানে প্রায় পঁচিশ হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে। এই টাকা দিয়ে গ্যাস খাতের উন্নয়ন করার সুযোগ থাকলেও গত মার্চে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে। বিইআরসি গত ৭ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ওই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে। গণশুনানিতে বিভিন্ন সংস্থা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও বিভিন্ন বিষয়ে পর্যালোচনা শেষে গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করে। এতে বর্তমানে দুই চুলার জন্য মাসিক বিল ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২শ’ টাকা এবং এক চুলার মূল্য ছয়শ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার ৩৫ থেকে ৫৮ টাকা, গৃহস্থালিতে মিটারভিত্তিক গ্যাসের দাম ৭ টাকা থেকে ১৬ টাকা ৮০ পয়সা ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৮ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ২৬ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ২ টাকা ৮২ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৬০ পয়সা ও শিল্পের বয়লারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।

পেট্রোবাংলার পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্যাস উৎপাদনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মূল্য না বাড়িয়ে কোম্পানিগুলোর পক্ষে গ্যাস সরবরাহ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দেশে গ্যাস উত্তোলনের সাথে জড়িত বিদেশি কোম্পানিগুলোকে (আইওসি) গ্যাসের মূল্য বাবদ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে হচ্ছে। সরকার গ্যাস বিক্রির উপর শুল্ক অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও সরকারকে ভাবতে হচ্ছে। গ্যাস খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আর এতসব অর্থের সংস্থান করার জন্য গ্যাসের মূল্য না বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, চট্টগ্রামে এমনিতেই গ্যাসের হাহাকার চলছে। আবার মূল্য বাড়িয়ে নয়া সংকট তৈরি করা হচ্ছে। সিএনজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। ক্যাপটিভ পাওয়ারে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে শিল্প উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে। আবাসিক খাতে গ্যাসের মূল্য প্রায় দ্বিগুনে উন্নীত করার ব্যাপারটিও সাধারণ মানুষকে সংকটে ফেলবে। বিষয়টি নিয়ে  কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, দাম বাড়ালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা হবে একথা ঠিক। তবে দাম না বাড়িয়েও উপায় নেই। দেশের গ্যাস সম্পদ অফুরান নয়। তাই জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থেই বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

মতামত...