,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রস্তাব,সিঙ্গেল ১ হাজার, ডাবল ১২শ টাকা

gass burberনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ গ্যাসের মূল্য রান্নাঘরের ডাবল চুলা ১২শ টাকা এবং সিঙ্গেল চুলা এক হাজার টাকা আর সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার পঞ্চাশ টাকা এবং শিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির তোড়জোড়ে করেছে তারা।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বহু এলাকাতে রান্না ঘরের চুলা জ্বলে না,শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটে মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম শিল্পোৎপাদন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও বেহাল। গ্যাসের অভাবে বাড়তি অর্থ খরচ করে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে শিল্প কারখানাতে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ডিজেল পেট্রোল পোড়ানো হচ্ছে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে। ভয়াবহ গ্যাস সংকটের মাঝেও মূল্য বৃদ্ধির এ প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা।

কর্ণফুলী গ্যাস সুত্র জানায়, চট্টগ্রামে গ্যাস সঙ্কট প্রকট। চাহিদার অর্ধেক গ্যাস দিয়ে এখানে জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে। অসহনীয় রেশনিং করে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে শিল্প খাত। বাণিজ্যিক খাতের অবস্থাও শোচনীয়। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলো দিনের মধ্যে ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রান্না ঘরের চুলা জ্বলে না নগরীর বেশির ভাগ এলাকাতে। চরম নাজুক অবস্থা চলছে চট্টগ্রামের গ্যাস সেক্টর।দেশের অভ্যন্তরীণ খাত থেকে প্রাপ্ত গ্যাস দিয়ে চট্টগ্রামের অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব হবে না। বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের পরিস্থিতির উন্নতির কোন ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে চট্টগ্রামে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ২২শ’ মিলিয়ন ঘনফুটের চেয়ে বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস দিয়ে দেশের চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমান সরকার তাদের বিগত সময়ের শাসনামলে দুই দফা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। ২০১১ সালের মে মাসে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৫.৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাঁচ মাসের মাথায় ২০১১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের দাম বাড়িয়ে করা হয় ৩০ টাকা। বাসা বাড়ির গ্যাসের মূল্য গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গেল চুলা ৫৫০ টাকা এবং ডাবল চুলা ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর আগে সিঙ্গেল চুলা সিঙ্গেল চুলা ৪০০ টাকা এবং ডাবল চুলা ৪৫০ টাকা ছিল।

পেট্রোবাংলা থেকে দেয়া প্রস্তাব বিবেচনা করে আবাসিক খাতে সিঙ্গেল চুলা এক হাজার টাকা এবং ডাবল চুলা ১২শ’ টাকা করার প্রক্রিয়া চলছে। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্যও ব্যাপক হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্পখাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৬২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে এই খাতে প্রতি ঘনফুট গ্যাসের দাম ৬ টাকা ৭৪ পয়সা। এই দাম বাড়িয়ে ১০ টাকা ৯৫ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ২ টাকা ৫৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪১ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে। সিএনজি খাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। আমরা গ্যাস দিতে পারছি না। অথচ দাম বাড়াতে যাচ্ছি। গ্যাসের দাম বাড়ালে তা বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, দাম না বাড়িয়েও কোন উপায় নেই। গ্যাস কোন অফুরন্ত সম্পদ নয়। এই সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও পাকিস্তান, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় গ্যাসের দাম আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।

ক্যাব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজির হোসাইন বিডিনিউজ রিভিউজকে বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হলে তা আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির একটি প্রতিযোগিতা শুরু হবে। মানুষ আয়ের সাথে ব্যয়ের সমন্বয় করতে পারবে না। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধীতা করে ইতোমধ্যে আমরা আমাদের অবস্থান লিখিতভাবে জানিয়েছি। শুনানিতে অংশ নিয়ে আমরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবনার প্রতিবাদ করবো।

মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী ৭ আগস্ট থেকে গণশুনানি শুরুর করার কথা জানিয়েছে বিইআরসি। গণশুনানি চলবে আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। শুনানি শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে এর রায় ঘোষণা করবে কমিশন।

জানাগেছে, আগস্টে গণশুনানি শেষ হলে সেপ্টেম্বরে গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করবে কমিশন।

 

মতামত...