,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে ৭, কক্সবাজারে ৬, মোংলায় ৫ নম্বর বিপদ সংক্ষেত জারিঃধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ উপকুলের দিকে ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। কাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-নোয়াখালী উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭, কক্সবাজারে ৬ এবং খুলনা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে এ বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। বরিশালে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।  আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২শ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। “রোয়ানু” নামে এই ঘূর্ণিঝড়টি ধীরগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর প্রভাবে গত রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। সাগরও উত্তাল হয়ে উঠছে, তাই মাছ ধরার ট্রলার ‌ও নৌকাসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

উপকুলের দিকে ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’। কাল শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-নোয়াখালী উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এ কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৭, কক্সবাজারে ৬ এবং খুলনা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, বরগুনা, বাগেরহাটসহ বেশকিছু উপকূলীয় অঞ্চলে প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সকল ছুটি বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারের আরো নিকটে ‘রোয়ানু’ গত ১২ ঘন্টায় প্রায় দুইশ’ কিলোমিটার সামনে এগিয়ে এখন কক্সবাজার থেকে ১১৮০ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থানান করছে ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু। পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট এ ঘূর্ণিঝড় ক্রমশঃ শক্তিসঞ্চয় করে এগিয়ে আসায় কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪নং স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কক্সবাজারের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, ঘুর্ণিঝড়টি আজ শুক্রবার সকাল এগারটায় কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে গতকাল থেকে জেলা শহরসহ উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

কক্সবাজারে গত ২৪ ঘন্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘুর্ণিঝড়ের আশংকায় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে, যাতে তারা স্বল্প সময়ের নির্দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।

জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ জানান, কক্সবাজার সংলগ্ন গভীর সাগরে মৎস্য আহরণে যাওয়া ফিশিং বোটগুলো বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ফিরে আসছে। বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট এ নিম্নচাপের ফলে কক্সবাজার জেলায় জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় এবং পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় রেডক্রিসেন্ট কর্মী, মেডিকেল টিম ও উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত রাখা হয়েছে ও উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে

মতামত...