,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চকরিয়ায় ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ২ মহিলাকে তল্লাশি কালে গণপিটুনি আটক ১

কক্সবাজার সংবাদদাতা,  বিডিনিউজ রিভিউজঃ চকরিয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক মহিলা রোগী ও তার বোনকে তল্লাশি চালানোর সময় জনতার সন্দেহ হলে তিন যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার সময় দুইজন পালিয়ে গেলেও অপরজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট স্টেশনের যাত্রী ছাউনির কাছে এ ঘটনা ঘটে।

ওই দুই মহিলার কাছে ইয়াবা রয়েছে দাবি করে তাদের দেহ ও সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশির পর একপর্যায়ে একটি কারে তুলে ফেলার চেষ্টা চালায় তিন যুবক। এ সময় জনতা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে এবং তিনজনকেই গণপিটুনি দেওয়া শুরু করলে দুই যুবক কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে অপরজনকে ধরে ফেলে জনতা।

পুলিশ জানায়, ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া তিনজনের মধ্যে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যুবকের নাম দেলোয়ার হোসেন (২৫)। সে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লিংক রোডস্থ মুহুরী পাড়ার মোহাম্মদ হাসানের ছেলে। পালিয়ে যাওয়া অপর দুইজনের মধ্যে একজনের বাড়ি টেকনাফে। তার নাম গিয়াস উদ্দিন। আরেকজনের নাম ওসমান গণি ওরফে দাদা ওসমান। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট এলাকায়।

ঘটনার শিকার দুই বোন টেকনাফ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাদের একজন জানান, ছোট বোন গত দুইবছর আগে মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। চিকিৎসাজনিত সমস্যা দেখা দিলে নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী (আজ মঙ্গলবার) একই হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য একদিন আগে টেকনাফ থেকে সোমবার বিকেলে মালুমঘাট আসেন তারা। চিকিৎসার সুবিধার্থে মালুমঘাট স্টেশনের একটি আবাসিক হোটেলে কক্ষও ভাড়া নেন। কিন্তু রাতে হোটেল কক্ষ থেকে বের হয়ে স্টেশনের দোকান থেকে খাবার ক্রয় করার সময় অতর্কিতভাবে একটি কারে করে তিনজন যুবক এসে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ইয়াবা রয়েছে দাবি করে তাদের দেহ এবং সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে। একপর্যায়ে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে ফেলার চেষ্টা চালায় । এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশ থেকে লোকজন এগিয়ে এসে গণপিটুনি শুরু করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার কয়েকজন অফিসার জানান, জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার এবং ধৃত দেলোয়ার হোসেন নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার (বাড়ি ঝিলংজায়) আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে একটি ফোন করারও অনুরোধ করেন ধৃত দেলোয়ার।

চকরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন খান উজ্জ্বল জানান, চকরিয়ার ছিকলঘাট এলাকার ওসমান গণি ওরফে দাদা ওসমানসহ তিন যুবক ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে দুই মহিলার কাছে ইয়াবা রয়েছে মর্মে দেহ এবং ব্যাগ তল্লাশি করলে জনতার সন্দেহ হয়। এ সময় তাদের গণপিটুনি দেওয়ার সময় ওসমান ও গিয়াস দ্রুত কারে উঠে পালিয়ে যেতে পারলেও জনতা ধরে ফেলে দেলোয়ারকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেলোয়ারকে আটক এবং দুই মহিলাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, আটক যুবক এবং পালিয়ে যাওয়া দুইজনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মতামত...