,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চকরিয়ায় মাতামুহুরীতে বাঁধ,নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা

966চকরিয়া সংবাদদাতাঃ  চকরিয়ায় প্রবহমান মাতামুহুরী নদীতে দুটি মাটির বাঁধ দিয়ে মৎস্য চাষের তোড়জোড় চালাচ্ছে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ইতোমধ্যে এক্সেকেভেটর দিয়ে নদীর এক প্রান্তে মাটির অস্থায়ী ক্রসবাঁধ তৈরির পর অন্তত দুই কিলোমিটার দূরে অপর প্রান্তে আরো একটি বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার তোড়জোড় চলছে। আর দুই বাঁধের মাঝখান হয়ে আরো এক কিলোমিটার ভরাট খাল (শাখা) খনন করা হচ্ছে। গত ১৫দিন ধরে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের মাতামুহুরী নদীর পালাকাটারামপুর পয়েন্টে নির্মিত রাবার ড্যামের অদূরে মৎস্য চাষের জন্য এই বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এতে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, প্রবহমান মাতামুহুরী নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটির দিকে নামতে পারবে না। এতে আশপাশের ব্যাপক এলাকা বানের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করবে। গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে মাতামুহুরী নদীর।

প্রকাশ, মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা ইউনিয়নের পালাকাটারামপুর পয়েন্টে নির্মিত রাবার ড্যাম থেকে কয়েকশ গজ পূর্বদক্ষিণ দিকে নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ করে প্রথমে একটি মাটির বাঁধ (ক্রসবাঁধ) নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয় কয়েকদিন আগে। বর্তমানে ওই বাঁধের অন্তত দুই কিলোমিটার দূরবর্তী স্থানে নদীতে আরো একটি মাটির ক্রসবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি দুই বাঁধের মাঝখানে যন্ত্র দিয়ে খনন করা হচ্ছে নদী ও আরো এক কিলোমিটার এলাকার ভরাট খাল।

এলাকাবাসী জানায়, মৎস্য চাষের জন্য নদীতে বাঁধ নির্মাণ ও নদী খননের কাজ করছেন চকরিয়া উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা ও কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কাদের মানিক, বিএনপি নেতা মীর কাশেম ও বিএনপি নেতা চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য (মেম্বার) নুরুল আবচারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। মৎস্য চাষ প্রকল্পের পরিচালক নিযুক্ত করা হয়েছে বিএনপি নেতা মীর কাশেমকে।

আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা বলেন, ‘প্রায় ৬০ ফুট প্রস্থ ও দুই কিলোমিটার এলাকায় নদীর দুই প্রান্তে বাঁধ দুটি তৈরি করতে আশপাশের ফসলি জমির মাটিও ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অনেক জমির স্তর তলানীতে চলে গেছে। স্থানীয় লোকজন এই অবৈধ কর্মযজ্ঞের বিরুদ্ধে কথা বলারও সাহস পাচ্ছেনা। যারা সোচ্চার হবেন তাদের বিরুদ্ধে আসবে প্রভাবশালীদের নানামুখী হয়রানি।’

মৎস্য চাষের জন্য বাঁধ নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা ও কোনখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কাদের মানিক বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর পালাকাটারামপুর পয়েন্টের অকার্যকর হওয়া রাবার ড্যামটি সচলের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড দুটি অস্থায়ী মাটির বাঁধ তৈরি করেছে। এখন আরো দুটি মাটির বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের নির্দেশে।’

 বিএনপি নেতা মীর কাশেম বলেন, আমরা নামমাত্র শুষ্ক মৌসুমে মৎস্য চাষ করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করেছি। এখানে দোষের কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমাদের আপত্তি থাকবে না। এছাড়াও আমরা সব দলের লোকজন মিলেমিশে দেশের আমিষ চাহিদা পূরণের জন্য মৎস্য চাষে নেমেছি।’

 পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, ‘অচল হয়ে পড়া পালাকাটা রাবার ড্যামটি সচলের কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ড্যামের দুই দিকে দুটি মাটির অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ড্যামের অদূরে যদি কেউ নতুন করে মাটির বাঁধ নির্মাণ করে থাকে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।’

নির্বাহী প্রকৌশলী আরো বলেন, ‘যারাই বাঁধ দুটি তৈরি করুক না কেন, যখনই রাবার ড্যাম সচলের কাজ সম্পন্ন হবে, তখনই ড্যামের দুই পাশের দুটি বাঁধ অপসারণের সময় ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া বাঁধগুলোও অপসারণ করে ফেলা হবে।

মতামত...