,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামকে মাদক পাচারের রুট হতে দেয়া হবে নাঃজেলা প্রশাসক

1000নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,১৯, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেছেন, চট্টগ্রাম জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বৃদ্ধি পেয়েছে মাদক ব্যবসা। এক শ্রেণির অসাধু চক্র নৌ-পথ ও সড়কপথে ইয়াবাসহ নানা মাদক পাচার করছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। চট্টগ্রামকে মাদকের রুট হতে দেয়া হবে না। এ লক্ষ্যে প্রশাসক ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশিষ্ট সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, চুরি-ডাকাতিসহ বড় বড় ক্রাইমগুলো চিহ্নিত করতে বিভিন্ন মার্কেট ও বাজারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বাজারে ও মার্কেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য বাজারগুলোতেও চুরি-ডাকাতিসহ অপরাধ কর্মকা- রোধে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং বাজারগুলোতে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত এ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হবে। এতে করে অপরাধীরা ভয় পাবে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি মিলে বাজার কমিটির সদস্যদের নিয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। গতকাল ১৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের অনেক স্কুল সরকারের পরিপত্র না মেনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমত বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায় করে স্কুলকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়ার পর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়েছে। বাড়তি টাকা আদায়কারী অন্যান্য স্কুলগুলো নিয়মনীতির আওতায় না আসলে এবং বর্ধিত ফি ফেরত না দিলে স্কুলগুলোর এমপিও বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সিসিএল-এ বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে স্কুলগুলোকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, কতিপয় বিদেশি চক্রান্ত আইএস’র নামে জঙ্গি বাহিনীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে এদেশে জঙ্গীবাদের আস্তানা গড়ে তুলতে চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তাদের টার্গেট মুসলমানদের মধ্যে হানাহানি, বোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা, মাজার, মিলাদ মাহফিল, ওরশ ও মেলায় হামলা করে এদেশকে ধ্বংস করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। এদেশে যাতে জঙ্গীবাদের উত্থান না হতে পারে সে লক্ষ্যে সকলকে সচেষ্ট থাকতে হবে। কারণ যে যে দলেরই হোক না কেন, জঙ্গীবাদকে কেউ পছন্দ করে না। তাই যে কোন মূল্যে এখানে জঙ্গীবাদের আস্তানা গড়তে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ইদানিং গভীর সমুদ্রে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাত দলের হামলার শিকার হয়ে নগদ টাকা ও মাছ ধরার জালসহ মুল্যবান জিনিসপত্র হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জেলেরা মাছ ধরতে আগ্রহ হারাবে এবং দেশে মাছের সংকট হবে। মাছ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম। মাছের উৎপাদন কম হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জেলেরা যাতে নির্বিঘেœ গভীর সমুদ্রে গিয়ে নিরাপদে মাছ ধরতে পারে সেজন্য নৌ-বাহিনী, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডকে আরো তৎপর হতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, ২০১৫ সালের শেষের দিকে চট্টগ্রামে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সকল প্রকার ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে হানাহানির ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন এখন থেকে সতর্ক রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি জলদস্যু চক্র হাতিয়া থেকে ১১ জন জেলেকে ধরে এনে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূলে একটি ট্রলারের কেবিনে আটকে রেখে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা আদায় করে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে। এ ১১ জনকে বেধম প্রহার করেছে জলদস্যুরা। অথচ এ বিষয়গুলো নিয়ে কেউ মামলা করেনি। তিনি বলেন, এক সময় জলদস্যুরা জেলেদের মাছ ও জাল লুট করে নিতো। এখন তারা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে। জেলেরা যাতে নিরাপদে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকতে পারে সে লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশকে আরো সচেষ্টা থাকতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে এবং এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা করার অনুমতি নিয়ে কোন ধরনের স্মৃতিচারণ ব্যতিরেকে সেখানে চালানো হয় জুয়া, লটারী ও অশীল নৃত্য। এতে করে মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা হয়। এটা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার নামে অশীল নৃত্য ও জুয়া খেলা চলতে দেয়া হবে না।
তিনি মাদক পাচার ও ব্যবহার বন্ধে সকলের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুর রশিদ, জেলা পিপ এডভোকেট একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন, চিটাগাং চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জামাল আহমদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী আসলাম হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ (রাঙ্গুনিয়া), আব্দুল জব্বার (চন্দনাইশ), আতাউল হক (বোয়ালখালী), ইয়াছমিন আক্তার (মিরসরাই), মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন (সাতকানিয়া), মুহাম্মদ জহিরুল হক (বাঁশখালী), উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া (সীতাকুন্ড), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মজুমদার (রাঙ্গুনিয়া), কাজী মাহবুবুল আলম (বোয়ালখালী), মোছাম্মৎ রোকেয়া পারভীন (পটিয়া), সনজীদা শরমিন (চন্দনাইশ), মোহাম্মদ উল্যাহ (সাতকানিয়া), মোহাম্মদ শামসুজ্জামান (বাঁশখালী) ও পৌর মেয়র আবুল কালাম আবু (বোয়ালখালী)।
সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, এনএসআই, আনসার, শিক্ষা অফিস, মহিলা বিষয়ক অফিস, সমাজসেবা অফিস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ, কলেজ, শিক্ষা-পাসপোর্ট অফিস, আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিআরটিএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...