,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা পূরণ ও বিশ্বমানের নগরী উপহার দেওয়াকেই ‘বড় স্ট্যাটাসঃ মেয়র নাছির

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  মন্ত্রীর পদমর্যাদা নয়, মেয়র হিসেবে নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ ও বিশ্বমানের নগরী উপহার দেওয়াকেই ‘বড় স্ট্যাটাস’ বলে মনে করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণের জন্যে। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণ ও বিশ্বমানের নগরী উপহার দিতে পারাটাই আমার কাছে বড় স্ট্যাটাস।’

সোমবার মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর উপলক্ষে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে কয়েকজন বক্তা চট্টগ্রামের মেয়রকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়ার দাবি জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র নাছির এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি ঢাকার দুই মেয়র আনিসুল হক ও সাঈদ খোকনকে পূর্ণ মন্ত্রী, রংপুরের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদকে প্রতিমন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে সরকার।

সুধী সমাবেশে সিটি করপোরেশনের ৪১ ওয়ার্ডে এক বছরের বিভিন্ন উন্নয়নের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এই এক বছরে আমি সফল হয়েছি তা দাবি করব না। কিন্তু সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার করার উপযুক্ত সময় এটা নয়। বিচার করা যাবে তখন, যখন আমার মেয়াদ শেষের দিকে হবে। যখন আমি শত ইচ্ছে থাকলেও আর ভালো কাজ করতে পারব না তখন।

এক বছরে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। সমস্যা চিহ্নিত করেছি, এখন সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এত প্রতিকূল অবস্থা, ভেতরে-বাইরের বাধাকে উপেক্ষা করে যা অর্জন করেছি তা অন্য কেউ পারতো কি-না সন্দেহ আছে আমার।’

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘খাল ও নালার মাটি তোলার জন্যে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ করেছি। শ্রমিক দিয়েও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। যার ফলে গত বছরের মতো এবারও একই পরিমাণ বৃষ্টি হলেও জলজট তেমনটি হয়নি।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সহযোগিতায় একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যার আওতায় মদুনাঘাট থেকে পতেঙ্গা নেভাল পর্যন্ত নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ হবে। ২৬টি ছোট বড় খালের মুখে স্লুইচগেট হবে। খালগুলো খনন হবে। চসিক বেড়িবাঁধে দুই লেনের সড়ক তৈরি করবে।

এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা চসিকের নেই তাই এটি পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করবে। আশা করছি, এ বছরের মধ্যে প্রকল্পটি একনেকে পাস হবে। বাস্তবায়নে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু অপেক্ষা করলে নগরবাসী জলাবদ্ধতামুক্ত নগর দেখতে পাবে।’

বর্জ্য অপসারণ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, ‘নাগরিক স্বার্থে রাতে বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নগরবাসীকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে আবর্জনা ফেলার আহ্বান করা হয়েছে। কিন্তু নগরবাসীর অসচেতনতার কারণে শতভাগ সফলতা আসেনি। বাধ্য হয়ে ডোর টু ডোর আবর্জনা সংগ্রহ ও অপসারণ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৪১টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি চালু হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত ২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে।’

হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করে সরকার। হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো বা কমানোর কোন এখতিয়ার মেয়রের নেই। এটা নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছে করপোরেশন।’

গত অর্থবছরে তুলনায় এবার ৪৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়েছে বলে জানান মেয়র।

নগরের জাতিসংঘ পার্ক নিয়ে সিটি মেয়র বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে দুইটি সুইমিংপুল ও জিমনেসিয়াম নির্মাণ করা হয়েছিল। সেগুলো জনকল্যাণে না আসায় পার্কটির উন্নয়ন ও দৃষ্টিনন্দন পার্কে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর শুরু হলো মিথ্যাচার। যারা পূর্বে অপরিকল্পিতভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকার অপচয় করল তাদের বিষয়ে কোন সমালোচনা হলো না। যখন পরিকল্পিত উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নেওয়া হলো তখন বাধা সৃষ্টি করতে অযৌক্তিক কারণে বিভ্রান্তি ছড়ানো হলো।’

আ জ ম নাছির বলেন, ‘শতভাগ সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমি সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। এক বছরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণ ও দলীয়করণ করার কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না। আগামীতেও এ প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমি বদ্ধপরিকর।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের সকল ধরনের পরামর্শ-সহযোগিতা ও আলোচনা-সমালোচনা নির্দ্বিধায় শোনার মানসিকতা আমি পোষণ করি। আমাকে ফোন করে, এসএমএস পাঠিয়ে আপনাদের পরামর্শ জানিয়ে দেবেন। কেউ যদি সরাসরি দেখা করে আলোচনা করতে চান, কিংবা পরামর্শ দিতে চান তাহলে আমি আপনাদের ঘরে যাব, আপনাদের নিজস্ব কার্যালয়ে যাব। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমার একার পক্ষে সিটি করপোরেশন চালানো সম্ভব নয়।’

সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এহসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক এম নাসিরুল হক এবং দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক।

সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, বিজিএমই-এর প্রথম সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক অহিদ সিরাজ চৌধুরী, মহিলা চেম্বার পরিচালক রেখা আলম চৌধুরী, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মো.মজিবুল হক, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী প্রমুখ। আরও বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান, নিছার উদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মতামত...