,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামবাসী শীঘ্রই বহুল আকাঙিক্ষত স্মার্ট কার্ড পাচ্ছে

নাছির মীর, ১১ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: রাজধানী ঢাকার পর শীঘ্রই  চট্টগ্রামবাসী পাচ্ছে বহুল আকাঙিক্ষত স্মার্ট কার্ড। শুক্রবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৬ লাখ ভোটারের স্মার্ট কার্ড চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাচন অফিসে এসে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসার জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে প্রথম পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোটাররাই পাচ্ছেন স্মার্ট কার্ড। এরপর জেলা পর্যায়ে উপজেলাগুলোতে বিতরণ শুরু হবে। গতকাল নগরীর কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ ও ডবলমুরিং থানার ভোটারদের স্মার্ট কার্ড এসেছে।

চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কমিশনার মনির হোসাইন  বলেন, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামে ৬ লাখ স্মাট কার্ড এসেছে। আরো আসবে। সব কার্ড আসার পর বিতরণ কখন থেকে শুরু হবে সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডবলমুুরিং থানা নির্বাচন অফিসার মো. শাহেদ হোসেন বলেন, প্রথম দফায় কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ ও ডবলমুরিং থানার স্মার্ট কার্ড এসেছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ভোটার প্রায় ১৯ লাখ। এর মধ্যে শুক্রবার এসেছে ৬ লাখ স্মার্ট কার্ড। বাকি কার্ডগুলো চলতি মাসের শেষের দিকে আসবে বলে জানা গেছে। সবগুলো কার্ড আসার পর সিটি এলাকায় বিতরণ শুরু হবে। এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র জমা নিয়ে ভোটারদের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।

স্মার্ট কার্ড বিতরণের আগে একটি টিম করা হবে। কোন জায়গায় কবে বিতরণ করা হবে সেই ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হবে। স্মার্ট কার্ড দেয়ার সময় প্রিন্টেট ন্যাশনাল আইডি নিয়ে ওটার কার্যকারিতা নষ্ট করা হবে। ১০ আঙুলের ছাপ নেয়া হবে। ডিভাইসের মাধ্যমে চোখের মণির ছবি নেয়া হবে। নির্বাচন অফিসার মো. শাহেদ হোসেন জানান, যাদের ন্যাশনাল আইডি কার্ডে ভুল আছে, তা সংশোধন করা এবং হারানো কার্ড উত্তোলন করার প্রক্রিয়া সবসময় চালু আছে। এই দুটো সারা বছরই চলবে। হারানো গেলে প্রথমে জিডি করতে হবে। তারপর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে আমরা ঢাকায় পাঠিয়ে দেব। এদিকে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল আছে তারা আবেদন করে সংশোধন করতে পারবে।

২২ ধরনের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই কার্ড কাজে লাগবে। আয়করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর পাওয়া, শেয়ার আবেদন ও বিও হিসাব খোলা, ড্রাইভিং লাইসেন্স করা ও নবায়ন, ট্রেড লাইসেন্স করা, পাসপোর্ট করা ও নবায়ন, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, চাকরির আবেদন, বিমা স্কিমে অংশগ্রহণ, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়, বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ব্যাংক হিসাব খোলা, নির্বাচনে ভোটার শনাক্তকরণ, ব্যাংকঋণ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংযোগ, সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, টেলিফোন ও মোবাইলের সংযোগ, সরকারি ভর্তুকি, সাহায্য ও সহায়তা, ই-টিকেটিং, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, আসামি ও অপরাধী শনাক্তকরণ, বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর পাওয়া ও সিকিউরড ওয়েব লগে ইন করার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লাগবে। তবে আইনগতভাবে সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়ের নম্বর এখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

এবারের স্মার্ট কার্ডে ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি), মা-বাবার নাম, জন্মতারিখ ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন নম্বর দৃশ্যমান থাকছে। কার্ডের পেছনে থাকছে ব্যক্তির ভোটার এলাকার ঠিকানা, রক্তের গ্রুপ ও জন্মস্থান। সব মিলিয়ে স্মার্ট কার্ডের মধ্যে থাকা চিপ বা তথ্যভাণ্ডারে ৩২ ধরনের তথ্য থাকছে, যা মেশিনে পাঠযোগ্য হবে। কার্ডের সঙ্গে কাগজের তৈরি ল্যামিনেট করা বিদ্যমান কার্ডের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্লাস্টিকের তৈরি কার্ডটি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। কার্ডের মেয়াদ হবে ১০ বছর।

মতামত...