,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারে ২৩৫ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি

নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের ব্যয় প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর জিইসি মোড়ে চারটি লুব নির্মাণ, ষোলশহর দুই নম্বর গেটের লুব আরসিসি স্ট্রাকচারের পরিবর্তে স্টিল স্ট্রাকচারে করা, রাস্তা সংস্কার এবং পুনর্নির্মাণ এবং সৌন্দর্য বর্ধনে এই বাড়তি টাকা ব্যয় করা হবে। নতুন হিসেবে এই ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় নতুন ভাবে উপস্থাপিত প্রকল্পটির বাড়তি বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে করে বহুল আলোচিত এই ফ্লাইওভারে জিইসি মোড়ে লুব নির্মাণসহ বেশ কিছু অনিশ্চয়তা কেটে গেল। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মুরাদপুর থেকে ফ্লাইওভারটি আপাতত লালখান বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত হলেও ক্রমে তা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই ফ্লাইওভারে জিইসি মোড় সংযুক্ত থাকছে কিনা তা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় ছিল। কারণ শুরু থেকে ফ্লাইওভারটিতে ষোলশহর দুই নম্বর গেটে লুব দেয়া হলেও জিইসি মোড়ে লুব ছিল না। তবে বিভিন্ন সময় সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, এই ফ্লাইওভারে জিইসি মোড়ে র‌্যাম্প থাকবে। যা দিয়ে জাকির হোসেন রোড এবং ও আর নিজাম রোড থেকে গাড়ি অনায়াসে ফ্লাইওভারটিতে উঠা নামা করতে পারবে। ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এই ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইওভারটিতে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা জিইসি মোড়কে সংযুক্ত করার জন্য সিডিএ নতুন করে ডিজাইন এবং প্রকল্প তৈরি করে।

চট্টগ্রামের আক্তারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারে নয়া ডিজাইনে ফ্লাইওভারটির জিইসি মোড়ে চারটি র‌্যাম্প তৈরি রাখা হয়েছে। এতে মুরাদপুরের দিক থেকে আসা ফ্লাইওভার থেকে একটি র‌্যাম্প জিইসি মোড়ের একটু আগে এলিট প্রিন্টের অফিসের সামনে এসে নামবে। আবার জিইসি মোড় থেকে ফ্লাইওভারটিতে উঠার জন্য পেনিনসুলা হোটেলের পর থেকে র‌্যাম্প শুরু হবে। অন্য পাশে লালখান বাজার থেকে জিইসি যাওয়ার পথে জিইসি কনভেনশনের গেটের কাছেই র‌্যাম্প নামবে এবং জিইসি থেকে মুরাদপুর যাওয়ার জন্য বাটা গলির কাছ থেকে র‌্যাম্প উঠা শুরু হবে। এই চারটি লুব তৈরির পাশাপাশি প্রকল্পটিতে ষোলশহর দুই নম্বর গেটের লুব আরসিসি স্ট্রাকচারের পরিবর্তে স্টিল স্টাকচারের করা হচ্ছে। মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার পুরোটাই নতুন করে সংস্কার এবং পুননির্মাণ করে দেয়া হবে। ফ্লাইওভারের জয়েন্টেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অত্যাধুনিক জয়েন্ট দিয়ে ফ্লাইওভারের স্প্যানগুলো জোড়া দেয়া হবে। ফ্লাইওভারে এলইডি লাইট লাগানো এবং বিউটিফিকেশনের কাজেও নান্দনিকতা আনা হবে। সবকিছু মিলে ফ্লাইওভারটির খরচ ৪৬২ কোটি টাকা থেকে ৬৯৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ব্যয় বেড়েছে ২৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় প্রকল্পটির এই বাড়তি ব্যয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ফ্লাইওভারের কাজ অনেক বেড়েছে। ফ্লাইওভারটির দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। জিইসি মোড়ে চারটি লুব নির্মাণের ফলে এই দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়েছে । তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা অসীম। তাই কোন বাক্য ব্যয় না করেই প্রায় ২৩৫ কোটি টাকার বাড়তি ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই টাকার যোগানও সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হবে। জিইসি মোড়ের কানেক্টিভিটি এই ফ্লাইওভারটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকে বলছি এটা হবে। এখন আর বিষয়টি নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা নেই। তিনি বলেন, আমরা আগামী মার্চ মাসের মধ্যে ফ্লাইওভারটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবো। ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু করার পর আমরা জিইসি মোড়ে লুব নির্মাণের কাজ ধরবো। গাড়ি উপরে তুলে দেয়ার আগে এই কাজ করা যাবে না। আর এজন্য আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়েছে। ফ্লাইওভারটি পুরোদমে চালু হলে নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতামত...