,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কেন্দ্র দখল, বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন

শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) থেকে ফিরে,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কেন্দ্র দখল আর বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্যদিয়ে ১০ ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে আনোয়ারায় বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলেও অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্যদিয়ে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। সকালে ১০ নং হাইলধর ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মো: শাহজাহান ভোট কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছে। শনিবার দুপুর ১টার দিকে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়ন থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহনিী জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবের ইবনে মাহবুবকে আটক করে। শনিবার সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও ১১টার পর থেকে আনোয়ারার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলার ৪নং বটতলী ইউনিয়নের এসএম আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে নৌকা সমর্থিত প্রার্থী আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয় । আহতদেও মধ্যে ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আহতরা হলেন, নুর মোহাম্মদ (৪০), নাজিম (৩২), আবদুর রহিম (১৮), আবুল মনছুর (৪০) ও মোহাম্মদ আলমগীর (৪০)।সংঘর্ষের পর এস এম আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় প্রায় ২ ঘন্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল।
এদিকে উপজেলার ২নং বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়া দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে সকাল ১১ টার দিকে আ’লীগ প্রার্থী এম এ কাইয়ুম শাহ’র সর্মথকদের সাথে বিএনপি প্রার্থী হাছান চৌধুরীর সমর্থকদের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আ’লীগ প্রার্থী কাইয়ুম শাহ’র সমর্থকরা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর ৬টি বাড়ি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় বিএনপি সমর্থক আনোয়ারা ও ফেরদৌসের বাড়ি ঘর আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মিভ’তহয়ে যায়। বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদেরকে দীর্ঘ লাইনে দাড় করিয়ে রাখে। আনোয়ারার বরুমচড়া, বারখাইন ও বারশত ইউনিয়নের ৭টি কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়। কেন্দ্র সমূহে চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের সর্মথকদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় এই তিন ইউনিয়নের প্রায় ৭টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সাময়িক স্থগিত হয়ে যায়। অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণ ভোটার উপস্থিতি থাকা সত্তেও সময় ক্ষেপনের কারণে ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত হয়।
সকাল ১০টার দিতে বটতলী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আবদুল মান্নান চৌধুরীর সমর্থকরা এসএম আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম আবু সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ৩জন গুলিবিদ্ধ হয়। তারা হলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রয়েছে। বারশত ইউনিয়নের দুধকুমড়ার দারুচ্চুন্নাহ মাদ্রাসা কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের সমর্থকেরা বিএনপি সমর্থকদের ৬ টি বাড়িঘরে আগুনে লাগিয়ে দেয়।
রায়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জালভোট ও কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারে বাধা দিলে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জানে আলম সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হন ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এনামুল হক। এখানকার বিএনপির প্রার্থী আবদুল্লাহ চৌধুরী জানান, ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে সিল আর এজেন্ট বের করে দেওয়ায় সকাল ১১টায় তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন। এদিকে বরুমচড়া ইউনিয়নের নলুদিয়ায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় বেশ কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ বন্ধ ছিল। পরৈকোড়া ইউনিয়নের তালসরায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টার পর ব্যালট বাক্স উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মতামত...