,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে মাদক চোরাকারবারিদের পুলিশের উপর হামলায় ২শ জনের বিরুদ্ধে মামলা

abnr ad 250x70 1আনোয়ারা সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মাদক চোরাকারবারিদের পুলিশের হামলা, ২শ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

আনোয়ারা পারকি কেন্দ্রিক ইয়াবা রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ এখন ২২ সদস্যের সিন্ডিকেটের হাতে। সৈকত এলাকায় খুপড়িঘর বানিয়ে চলছে ইয়াবা ব্যবসা। স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসকের কঠোর হুশিয়ারির পরও সমুদ্র উপকূলের এই এলাকাটি পরিণত হয়েছে ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট পয়েন্টে। সংঘবদ্ধ চক্রটি এতটাই বেপরোয়া যে, অভিযানে গেলে তাদের হামলা থেকে পুলিশও রেহাই পাচ্ছে না।

 মঙ্গলবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানকালে ৪ পুলিশকে পিটিয়ে জখম ও ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ ২০০ জনকে আসামি করে দু’টি মামলা করা হয়েছে। বুধবার বিকালে কর্ণফুলী থানায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মাকসুদ বাদি হয়ে মামলাটি করেন।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মোক্তার আহমেদ জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার পারকী সমুদ্র সৈকতে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে অভিযানে যায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসময় মুন্না ও মান্নান নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করার পর স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ তিনজনকে আসামি করে মাদক আইনে অপর একটি মামলা হয়েছে বলে জানান কর্ণফুলী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, পারকি সৈকতে ইয়াবা ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট। সৈকত থেকে শুরু করে গহিরা উপকূলের চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সন্ধ্যার পর শুরু হয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের দাপট। গত ২ মাসে এই উপকূলে ধরা পড়েছে প্রায় ৫ লাখ ইয়াবা। তবে সবগুলো চালানই ধরা পড়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। মূল হোতারা রয়ে গেছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন প্রকাশ্য সভায় ইয়াবা ব্যবসায় আনোয়ারা এক নম্বরে রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রশাসনের কিছু লোকজনও এই অপকর্মে জড়িত বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন । স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ইয়াবা কারবার বন্ধে প্রশাসনকে এক মাসের সময় বেঁধে দেন। বাস্তবতা হচ্ছে আল্টিমেটামেও কোন লাভ হয় নি। ইয়াবা সিন্ডিকেটের বেপরোয়া দাপট চলছেই।

এলাকাবাসী জানান, পারকি কেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে এই ব্যবসা চালাচ্ছে। সাগর পথে মায়ানমার থেকে আসা ইয়াবা চালানগুলো প্রথমে পারকি সৈকতে গড়ে উঠা খুপড়ি ঘরের গোপন কুঠুরিতে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। আর এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করছে মোহাম্মদ সেলিমসহ ২২ জনের সিন্ডিকেট। ইয়াবা ব্যবসার সুবিধার্থে সৈকত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে অন্তত ২০টি খুপড়িঘর। এই খুপড়িগুলোই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আস্তানা ও গোপন কুঠুরি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযানে বারবার খুপড়িগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হলেও কয়েকদিন না যেতেই তা আবার গড়ে তোলা হয়। এক বছর আগে এসব খুপড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন পুলিশের সদস্যরা। মঙ্গলবার আবারও ইয়াবা সিন্ডিকেটের হামলায় ৪ পুলিশ আহত হন। পুলিশের উপর হামলার পর মঙ্গলবার রাতে এক দফা অভিযান ও বুধবার আরেক দফা অভিযান চালিয়ে পুলিশ খুপড়ি ঘরগুলো ভেঙ্গে দিয়েছে বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পারকিতে অভিযান চলছিল।

পারকি সৈকতের খুপড়ি থেকে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্বীকার করে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, খুপড়িগুলো উচ্ছেদে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কয়েক দিন পর পর ঘরগুলো গড়ে তোলা হয়। দিনে এখানে অসামাজিক কাজ ও রাতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তৎপরতা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

মতামত...