,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় আইপিএস কারখানায় অগ্নিকান্ডে ১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু দগ্ধ ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ের আইপিএস কারখানায় শনিবার সন্ধ্যায় অগ্নিকান্ডে মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হয়েছে ১জনের আর দগ্ধ ও ধোঁয়ায় অসুস্থ সাতজন সবাই ওই কারখানার কর্মচারী। আহত ও অসুস্থরা হলেন– মো. ইকবাল (৪০), জুয়েল দে (৩৫), অঞ্জন দাশ (৩০), মিঠুন গুহ বাবলু (৩০), বিজয় চৌধুরী (৩৮), রহিম বাদশা (২০) ও মিন্টু হাসান (২০)। সাতজনের মধ্যে দগ্ধ ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইকবালের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আর আহত মিন্টু হাসান ২৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

কারখানায় আগুন লাগলে আগে কর্মচারীদের বের করতেই প্রাণপণ চেষ্টা চালান শুভ্র দাশ বাবু। চেয়েছিলেন কর্মচারীদের বের করে সব শেষে বের হবেন। অনেকটা পেরেছেনও। তবে নিজে আর বের হতে পারেন নি। চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তিনি শুভ্র দাশ বাবু (৫০), গার্ডিয়ান আইপিএস নামক একটি কারখানার মালিক।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো আমির জানান, দগ্ধ ও আহত অবস্থায় আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শুভ্র দাশ বাবুকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আর দগ্ধদের মধ্যে একজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি। কারখানার মালিক শুভ্র দাশ সাতকানিয়ার উত্তর কাঞ্চনা এলাকার দিলীপ দাশের ছেলে। অনেক বছর ধরে আন্দরকিল্লার মোড়ের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন তিনি। কারখানায় সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ জনের মতো কর্মচারী কাজ করেন। গতকাল আগুন লাগলে কর্মচারীদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজেই জীবন দিয়ে গেলেন এই ব্যবসায়ী।

কারখানার কর্মচারী নাফিস ইকবাল বলছিলেন, ‘আমরা সবাই কারখানায় কাজ করছিলাম। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে মালিক আমাদের সবাইকে বের হতে বলেন। তিনি পরে বেরোতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় তিনি আর বের হতে পারেননি। সবাইকে রক্ষা করতে গিয়ে মালিক নিজেই জীবন দিলেন।’ মালিক দ্রুত বের করে দেওয়ায় তিনি আহত বা দগ্ধ হওয়া থেকে বেঁচে যান বলে জানান এই কর্মচারী। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত অঞ্জন দাশ বলেন, ‘আমরা কারখানায় কাজ করছিলাম। হঠাৎ আগুন লাগায় আটকে পড়ি। এর পরের ঘটনা আর মনে নেই।’

আন্দরকিল্লা মোড়ের শিক্ষক সমিতির ভবনের পার্শ্ববর্তী এসকে ম্যানসন নামের পাঁচতলা একটি ভবনের চার তলায় ‘গার্ডিয়ান আইপিএস’ নামের এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। দুটি ইউনিটের (নন্দনকানন ও চন্দনপুরা) মোট ৬টি গাড়িযোগে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

ভবনটির চার তলার সিঁড়ি রুমে ১২/৭ পরিমাপের একটি আইপিএস কারখানায় বার্ণিশ ও কয়েল করার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কামাল উদ্দিন ভূইয়া।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা উদ্ধার করে ৬ জনকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। তবে আরো দুজন ভিতরে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা আটকে পড়া দুই জনকে উদ্ধার করে আনেন এবং হাসপাতালে পাঠান। অবশ্য এই ঘটনায় ক্ষয়–ক্ষতির পরিমান তদন্ত সাপে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

মতামত...