,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের কদমতলীর শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতেই খুন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::বন্দর নগরী চট্টগ্রামের কদমতলীর শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে কয়েকশো ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে ঘিরে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে হারুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে । ঘটনার পর পরই লিটন নামে এক যুবকের নাম উঠে আসে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তির মুখে। শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করার অপরাধে গত ২৭ নভেম্বর লিটনকে আটক করেছিল সদরঘাট থানা পুলিশ। পরে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অনুরোধে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। লিটনকে পাওয়া গেলে হারুন হত্যার রহস্যের জট খুলবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিহতের পরিবারের।নিহত লিটন সিআরবির জোড়া খুনের মামলার আসামি সাইফুল আলম লিমনের অনুসারী।

জানা যায়, লিটনের পুরো নাম মোশাররফ হোসেন লিটন।এলাকার কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন মরিচ্চ্যা পাড়ায় তার বাড়ি। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, আগ্রাবাদ এলাকায় ফুটপাত থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৬/৭ লাখ টাকা চাঁদা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। ওই গ্রুপের  অনুসারীরা চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় কদমতলি শুভপুর বাস্স্ট্যান্ড এলাকার শত শত ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠান ও শতাধিক ব্রোকারদের। যারা ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ট্রাক ঠিক করে দিয়ে মাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা আয় করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ছাত্রলীগের ওই গ্রুপের অনুসারীরা আগ্রাবাদ এলাকায় চাঁদাবাজি করলেও সম্প্রতি শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের অধিপত্য বিস্তার করার উদ্যোগ নেয়। এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় হারুন। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়নি তারা। ঘর থেকে দুইশ গজ দূরে শাহনাজ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি নামে ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা রয়েছে হারুনের। মায়ের নামে এ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির রয়েছে নিজস্ব অফিসও। তার প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাক চলাচল করে।   অনুসারী লিটন শুভপুর বাসস্টান্ডে চাঁদাবাজি করতে চাইলে বাধা হয়ে দাঁড়ান হারুন।

তিন কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত সমবাশে ও শোভযাত্রায় অনুসারীদের নিয়ে লিমনও অংশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর আবদুল কাদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শোভাযাত্রায় দুই হাজারের অধিক লোকের সমাগম হয়। মিছিল শেষে পাঁচ/ছয়জন যুবক হারুনকে ঘিরে লোহার পাইপ দিয়ে প্রথমে পেটায়। যেখানে মোশাররফ হোসেন লিটনও ছিল।

একপর্যায়ে বুকের সাথে অস্ত্র ঠেকিয়ে সিনেমা স্টাইলে পর পর তিনটি গুলি করে হারুনের মৃত্যু নিশ্চিত করে। তবে গুলি কে করেছে তা জানা যায়নি। ঘটনার সময় ঐ এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে থাকলেও তারা ছিলেন অনেকটা অসহয়। হত্যাকারীরা সংখ্যায় ছিল পাঁচ থেকে ছয়জন। হারুনকে হত্যা করে পালিয়ে যাবার সময় পুলিশ পেছনে দৌঁড়ালেও নাগাল পায়নি হত্যাকারীর। তারা শুভপুর হয়ে মাদারবাড়ির দিকে চলে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গত ২৭ নভেম্বর লিটন তার সহযোগীদের নিয়ে শুভপুর বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি করতে আসলে বাধা দেন হারুন। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিত–া এবং ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে সদরঘাট থানা পুলিশ লিটনকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল। পরে একজন কাউন্সিলরের অনুরোধে লিটনকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

সরদঘাট থানার পরিদর্শক (ওসি) মর্জিনা আক্তার বলেন, সাত থেকে আট দিন আগে লিটনের সাথে হারুনের একটু সমস্যা হয়েছিল। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তারপরও বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। এমনও হতে পারে তৃতীয় কোন পক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মতামত...