,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে স্বপ্নের টানেলে যা থাকছে

karnofuli-tunnel-620x330বিশেষ সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের টানেল নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর উন্মোচনের পর  ‘এক নগর, দুই শহর’ নীতির স্বপ্ন এবার সত্যি হতে চলেছে। গতকাল চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তি প্রস্তর উন্মোচন করেছেন। বলা হচ্ছে, এ টানেল বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম হবে সাংহাই। কর্নফুলী নদীর নিচে টানেল নির্মাণে ব্যয় হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ২০১৭ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে এবং ২০২০ সাল নাগাদ শেষ হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ২০১৪ সালে চীন সফরের সময় টানেল নির্মাণের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। চীনের সাংহাই মহানগরীর ‘এক নগরী দু’টি টানেল’ অনুসরণে চট্টগ্রামে দেশের প্রথম টানেলের নকশা করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী নদীর তলদেশ দিয়ে এই ‘মাল্টি লেন টানেল’-এর পথটির এক পাশে নৌবাহিনী কলেজ এবং অপর পাশে কোরিয়ান রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কেইউপিজেড) এবং কর্নফুলি সার কারখানা (কাফকো) রয়েছে।

কর্ণফুলীতে স্বপ্নের টানেল চট্টগ্রাম বন্দর এবং আনোয়ারা উপজেলাকে সংযুক্ত করবে এবং বন্দর নগরী ও কক্সবাজারের মধ্যে যোগাযোগ, বিশেষত কর্ণফুলী নদীর ওপর দুটি সেতুতে যানবাহন চলাচল সহজ করবে। জানা গেছে, যমুনা সেতু মেরামতের সময় যেসব উপকরণ আনা হয়েছিল সেগুলোও টানেল নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হবে। টানেল নির্মাণে নদীর তলদেশে প্রায় একশ ফুট গভীরে বসানো হবে ৩৫ দশমিক ৪৩ ফুট প্রশস্ত দুটি টিউব। যা নদীর বর্তমান তলদেশ থেকে আরো অন্তত ৯০ ফুট গভীরে থাকবে। দুটি টিউবে গাড়ি চলাচলের জন্য দুটি করে লেন থাকবে। প্রতিটি লেনের প্রস্থ হবে ৩ দশমিক ৬৬ মিটার। দুটি টিউবের মধ্যে কমপক্ষে ৩৬ ফুট দূরত্ব থাকবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলি নদীর তলদেশে টানেল হবে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। পূর্ব প্রান্তের ৪ দশমিক ৯৫২ কিলোমিটার ও পশ্চিম প্রান্তে ৭৪০ মিটার সংযোগ সড়কসহ টানেলের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৯ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার। এছাড়া টোল বুথ ও টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে ৭২০০ বর্গমিটার। টানেলের ভিতরে যানবাহন ছাড়া মানুষ চলাচলের কোনো সুযোগ থাকবে না। প্রথম পর্যায়ে শহর অংশের কাজ শেষ করে পরে নির্মাণ হবে বাকি অংশের কাজ।

মতামত...