,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ৪ নারী ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর শাহমীরপুরে একই পরিবারে চার নারী ধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় জড়িত থাকার দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকর কথা স্বীকার করে মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মঈন উদ্দিন জানান, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছায়া–তদন্তে ঘটনা জড়িত মূল ব্যক্তিদের পরিচয় জানার পর একজনকে গ্রেপ্তার করি। যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। আরো বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে যারা ঘটনায় জড়িত ছিল।

স্বীকারোক্তিতে মিজান বলেছে, পুরো ডাকাতির ঘটনায় জড়িত রয়েছে ছয়জন। এদের মধ্যে বাঁশের সাহায্যে একের পর এক চার ডাকাত দেয়াল টপকে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। আবু শ্যামা নামে এক ব্যক্তি বাইরে ছিল। সে চরমোনাই পীরের ভক্ত, তাই কোনো নারীর শরীরে হাত দেয়নি। তবে বাকী তিনজন তিন মহিলাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রুমে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। ডাকাতির মূল পরিকল্পনা করে স্থানীয় এক ব্যক্তি – এমনটি দাবি পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী মিজানুরের।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, বিষয়টি চাঞ্চল্যকর ছিল। মামলাটি তদন্তের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিকে আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। প্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাত দলের সদস্যরা কে কোন্ জায়াগা থেকে কখন এসেছে, ডাকাতির পর কোন্ রুট ব্যবহার করে নগরীতে প্রবেশ করেছে, ঘটনা পরবর্তী কার অবস্থান কোথায় ছিল সবকিছু চিহ্নিত করতে সক্ষম হই। এদের মধ্যে মিজানকে সোমবার রাতে ইপিজেড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। আবু শ্যামা নামেও এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আশা করছি, তাকেও দুই একদিনের মধ্যে পেয়ে যাবো।

মঙ্গলবার মহানগর হাকিম আল ইমরানের আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মিজানুর রহমান বলেছে, ‘আমার বাড়ি মংলা বাগেরহাটে। মাঝে মাঝে গ্রামে যাই। আগে সিএনজি ট্যাক্সি চালাতাম। ইলিয়াছ নামে আরো একজন সিএনজি চালক ছিল যার সাথে আমার সুসম্পর্ক ছিল। তার বাড়ি পিরোজপুরে। ডিসেম্বরের ১১ তারিখ ইলিয়াছ আমাকে ফোন দিলে তার সাথে নিউমার্কেট মোড়ে দেখা করি। তার সাথে আবু শ্যামা নামে আরো একজন ছিল। তার বাড়ি কর্ণফুলীর নদীর ওপারে। তিনজনে নিরিবিলি দাঁড়াই। এসময় ইলিয়াছ জানায়, নদীর ওপারে একটি কাজ আছে। করতে পারলে অনেক টাকা–পয়সা পাওয়া যাবে। সাথে আরো লোক থাকবে। কোনো সমস্যা হবে না। পরদিন (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে নিউমার্কেট থেকে আমি (মিজানুর), ইলিয়াছ, মহিবুল ও মহিবুলের সাথে আরো এক লোক টেম্পোতে উঠে নতুন ব্রিজ এলাকায় নামি। সেখানে থেকে বাসের ছাদে উঠে সমিতিরহাট নামি। আমাদের কাছে ব্যাগের ভেতরে দুটি শাবল ছিল। গাড়ি থেকে নামার পর আবু শ্যামা ও ইলিয়াছ বাড়িটি সম্পর্কে আমাদের ধারণা দিয়ে বাড়ির চারপাশে দেখতে চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর এসে জানায় ঘরের চারপাশে দেয়াল দেয়া আছে। একটু সমস্যা হবে। সবাই মিলে আরো কিছুক্ষণ পরিকল্পনা করি কিভাবে কাজ করা যায়। পরে ইলিয়াছ ও আবু শ্যামা বিল থেকে একটি বাঁশ সংগ্রহ করে।

জবানবন্দিতে মিজানুর রহমান জানায়, ‘আমরা অনেক্ষণ বাড়িটির পরিবেশ বুঝার চেষ্টা করি। পরে রাত একটার দিকে আমরা বাড়ির উত্তর দিকে অবস্থান নিই। প্রথমে ইলিয়াছ তারপর মহিদুল ওরফে মহিবুল এরপর আমি (মিজানুর) ও পরে ছেলেটা বাঁশের সাহায্যে সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করি। আমাদের সাথে দুটি টর্চলাইট ছিল। জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করার পর প্রথমে কোনো লোকজন দেখিনি। হঠাৎ টেবিলের ওপর থাকা একটি চাবির তোড়া মেঝেতে পড়ে গেলে শব্দ হয়, আর সেই শব্দে একটি রুম থেকে দরজা খোলার শব্দ পাই। ইলিয়াছ এবং মহিদুল প্রথমে ঐ রুমে ঢুকে, পরে আমরা দু’জনও ঢুকি। ঐ রুমে দুইজন মহিলা ছিল। একইভাবে পাশের রুমেও দুই জন মহিলা ছিল। বাসাটিতে কোন পুরুষ ছিল না। আমাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকলেও ইলিয়াছের হাতে একটি ছোরা ছিল। অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখালে মহিলারা তাদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা দিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ইলিয়াছ বলে মহিলাদের আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তাদের কাছে আরো স্বর্ণালংকার ও টাকা থাকতে পারে। ইলিয়াছ এবং মহিদুল দুই মাহিলাকে নিয়ে দুই রুমে চলে যায়। মহিদুলের সাথে ছেলেটাও আরেক মহিলাকে নিয়ে অন্য রুমে ঢুকে। প্রায় ১৫/২০ মিনিট পর তারা তিনজন মহিলাদের ভেতরে রেখে রুম থেকে বের হয়ে আসে।

ডাকাতি করলেও নিজে কাউকে ধর্ষণ করেনি বলে দাবি করে জবানবন্দিতে মিজানুর জানায়, ‘তারা তিনজনেই তিন মহিলাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে আমাকে। ঘটনার পর তাদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে গেট খুলে বের হয়ে কিছুদূর গেলে বিলে ধানক্ষেতের পাশে বসে থাকা আবু শ্যামাকে পাই। ডাকাতির টাকা থেকে আমাদের প্রত্যেকেকে ১৩ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। স্বর্ণগুলো ইলিয়াছ নিয়ে যায়। এরমধ্যে ফজরের আযান ভেসে আসে মসজিদের মাইক থেকে। দুটি সিএনজি ট্যাক্সি নিয়ে আমারা একটি খেয়াঘাটে যাই। সেখানে থেকে ইঞ্জিন বোটে নেভাল এলাকায় নেমে আবু শ্যামা ও আমি রাইডারে সিমেন্টক্রসিং চলে আসি। বাকীরা নিজেদের মতো চলে যায়।

 

মতামত...