,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণে ২ হাজারের বেশী স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ

karnfuly dositobnr ad 250x70 1নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টে। একই সঙ্গে নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা ২ হাজারের অধিক স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে  এ রায় দেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, পরিবেশ আইন ও জলধারা আইন অনুযায়ী, নদীর তীর দখল করে কোন ধরণের অবৈধ স্থাপনা করা যাবে না। কর্ণফুলী নদীর তীর দখল করে যে সব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, রায় প্রাপ্তির ৭ দিনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়ে স্থানীয় দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে হবে। যদি স্থাপনা না সরানো হয়, তাহলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী, বিআইডাব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এসব স্থাপনা অপসারণের ব্যবস্থা করবেন।

নদীর তীর দখল করে গড়ে ওঠা নৌবাহিনী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের জেটিসহ ৬টি স্থাপনা সরকারি সংস্থার  হওয়ায় এগুলো অপসারণ করা যাবে না বলে জানিয়েছে আদালত। তবে এ সব সরকারি সংস্থাকে তাদের স্থাপনার জন্য পরিবেশ অধিদফতরের কাছে অনুমতি নিতে হবে এবং পরিবেশ অধিদফতরকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে ঐ আবেদন বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

শুনানিতে রিটকারী সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক শুনানি করেন।

কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদ। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই হাইকোর্ট কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণ এবং নদী দখল করে গড়ে উঠা স্থাপনা অপসারণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করে। এ ছাড়া নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনার তালিকা আদালতে দাখিল করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়।

হাইকোর্টের নির্দেশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং দূষণ রোধকল্পে নদীর ডান তীরবর্তী (হর প্রান্ত) এলাকা সীমানা চিহ্নিত করা হয়। এ ছাড়া কমিটি বি.এস. এবং আর.এস. জরিপের ম্যাপ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর অবস্থান, নদীর অংশে ভরাটকৃত জমি ও দখলদারদের অবস্থান পৃথক রং দ্বারা চিহ্নিত করে।

গত বছরের ৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের ওই তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। এরপর সোমবার এ সংক্রান্ত মামলার রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য দিন ধার্য করে দেয়।

মনজিল মোরসেদ বলেন, জেলা প্রশাসনের দাখিলকৃত তালিকায় দুই হাজারের অধিক দখলদারদের নাম রয়েছে। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এখন এসব স্থাপনা অপসারণ করতে হবে।

 

মতামত...