,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুল মাঠে ক্রিকেট স্ট্যাম্পের আঘাতে কিশোরের মৃত্যু: ৩ খেলার সাথী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ৬ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম নগরীর কলেজিয়েট স্কুল মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বন্ধুর ছুঁড়ে দেয়া স্ট্যাম্পের আঘাতে মো. ফয়সাল (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যু স্রেফ দুর্ঘটনা নাকি আক্রোশের জের সে সম্পর্কে ফয়সালের ভাইদের মধ্যেই মতভিন্নতা সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর কলেজিয়েট স্কুল মাঠে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ফয়সালের দুই ভাই মাসুম ও মাকসুদ জানিয়েছেন ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা। অন্যদিকে তাদের বড় ভাই মামুনের দাবি ফয়সালকে মারধর করায় তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফয়সাল নগরের আইস ফ্যাক্টরি রোড মরিচ্যাপাড়া এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার  বলেন, ‘আমরা তার ভাই ও খেলার সাথীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ছুঁড়ে মারা স্ট্যাম্পের আঘাতে ফয়সাল মারা গেছে। ফয়সাল স্ট্যাম্পটি এড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটি তার বাম কানের নিচে গলায় ও ঘাড়ে আঘাত করে। সাথে সাথে সে ঢলে পড়ে। এছাড়া কপালের এক পাশে ঘষা লেগে ক্ষত হওয়ার দাগ রয়েছে। স্ট্যাম্পের আঘাত খেয়ে পড়ে যাওয়ার পর কপালের ক্ষতটি হতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খেলার সময় মাঠে থাকা ফয়সালের তিন সাথীকে আটক করেছি। অন্যান্য কারণও খতিয়ে দেখছি।’

পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে ফয়সাল চতুর্থ। সে তাদের একটি ছোট পান দোকানে মাঝেমধ্যে কাজ করতো। ভাইদের কেউ তেমন পড়ালেখা করেনি। বাবা শাহজাহান মাছের আড়তে কাজ করেন। ফয়সালের ভাই মাসুম জানান, প্রতিদিন মরিচ্যা পাড়াসহ আশেপাশের বিভিন্ন পাড়ার ছেলেরা কলেজিয়েট স্কুল মাঠের পাশে শুকিয়ে যাওয়া পুকুরে ক্রিকেট খেলতে যায়। গতকাল ফয়সাল ও মাকসুদসহ তারা তিন ভাই খেলতে গিয়েছিল। একপর্যায়ে আরাফাত নামে তাদের এক সাথী ক্রিকেট স্ট্যাম্প ছুঁড়ে মারে ফয়সালের দিকে। সে মাথা বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্ট্যাম্পটি তার কানের নিচে লাগে। ফয়সাল মাঠেই লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে আরাফাতসহ আমরা ফয়সালকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়সালকে মৃত ঘোষণা করেন। খেলায় অংশ নেওয়া অপর বড় ভাই মাকসুদও তার ভাই দুর্ঘটনাবশত আঘাত পেয়েছে জানিয়ে বলে, কেউ তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারেনি।

ফয়সাল মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ফয়সালের বড় ভাই মামুন ও দুই খালা হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মামুন চিৎকার করে বলতে থাকেন, তার ভাইকে ইচ্ছাকৃতভাবে মারা হয়েছে। আরাফাত ইচ্ছা করে স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেছে। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা দেবো।

মতামত...