,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের জামালখানে কলেজিয়েট স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:চট্টগ্রাম নগরীর জামাল খান সড়কের ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্র নিহত হয়েছে। তার নাম আদনান ইসপার (১৫)।

মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ খুনের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে ঘটনার পর জামাল খান এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আদনান ইসপারের বাবা আখতারুল আজম স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাঁর কর্মস্থল খাগড়াছড়ি। গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর সন্ন্যাসী হাট এলাকায়। নগরীর জামাল খান সড়কে প্রেসক্লাবের পেছনে আম্বিয়া আইরিস ভবনে তাঁর বাসা। আখতারুল আজমের একমাত্র ছেলে আদনান। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় সে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রামের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। আদনানের নানা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র জুনায়েদ জানান, আদনান কলেজিয়েট স্কুলেও পড়লেও প্রায় সময় প্যারেড মাঠে আমাদের সাথে ফুটবল খেলতো। আন্তঃফুটবল টুর্ণামেন্টেও সে ফুটবল খেলেছে। সে সুবাধে তার সাথে আমার পরিচয় ছিলো। জামালখানের মনোজ স্যারের কোচিং থেকে ডিসি রোডের বাসায় ফিরছিলাম। আইডিয়েল স্কুলের সামনে গিয়ে দেখি আদনান জামালখানের দিকে দৌঁড়ে যাচ্ছে। তাকে ডাক দিলেও সে থামেনি। পেছনে রক্তাক্ত ছুরি হাতে মঈন তাকে তাড়া করছিলো। মঈনকে ধরতে চাইলে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে গণি বেকারির দিকে পালিয়ে যায়। পরে আদনানকে খুঁজতে গেলে খাস্তগীর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন লোক জানান, আদনানকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। জুনায়েদ বলেন, মঈন আমার সিনিয়র ভাই। হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজে পড়ে। গণি বেকারির পশ্চিম গলিতে তাদের বাসা। মহসিন স্কুলের মাঠে মাঝে মাঝে ফুটবল খেলে।

স্থানীয় লোকজন জানান হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতরা চন্দনপুরা এলাকার সন্ত্রাসী আবদুর রউফের অনুসারী। আবদুর রউফের বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি জামাল খান এলাকায় ‘মেজ্জান হাইলে আইয়্যু’ নামের একটি রেস্তোরায় বসে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন। ওই রেস্তোরার ২০ গজের মধ্যেই গতকাল খুনের ঘটনাটি ঘটে। আদনানের বুকে কেবল একটি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলের কাছে অবস্থিত আইডিয়াল স্কুলের তিনজন ছাত্র চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ঘটনার বর্ণনা দেয়। তারা বলে, আদনান তাদের বন্ধু। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয় ছুটি হলে তারা বের হয়ে দেখে, কয়েকজন যুবক আদনানকে ঘিরে মারধর করছে। তাদের তিনজনের নাম মঈন খান, সাব্বির ও সাইফ। তারা মারধরের একপর্যায়ে আদনানকে কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে আসতে থাকে। আনার পথেই তাকে ছুরিকাঘাত করে। তখন সেখানে লোকজনের ভিড় জমে যায়। এসব দেখে তিন ছাত্র নিজ নিজ বাসায় চলে যায়। পরে বাসা থেকে স্কুলের কাপড় পরিবর্তন করে আদনানকে হাসপাতালে দেখতে এসে শোনে সে মারা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছুরিকাঘাতের পর ডা. খাস্তগীর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে ফুটপাতে পড়ে থাকে আদনান। তখন পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইমরান ও শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইনস্টিটিউটের দুই ছাত্র ইকরাম হোসেন ও মো. নাজিম মিলে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার পর চিকিৎসকরা আদনানকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী তিনজনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রেখেছে।

কী কারণে আদনানকে খুন করা হয়েছে সে ব্যাপারে স্পষ্ঠভাবে কেউ কিছু বলতে পারেনি। তবে আদনানের খালু মাহবুবুল আলম বলেন, আমাদের মনে হয়েছে বন্ধুদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়া হয়েছে। সে কারণে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না।

মতামত...