,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের টাইগারপাসে রেলওয়ে বস্তিতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

aস্টাফ রিপোর্টার, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের টাইগারপাসে রেলওয়ে বস্তিতে ২ ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে রহস্য এর সৃষ্টি হয়েছে। খুলশী থানাধীন টাইগারপাস কুয়ার পাড় রেলওয়ে বস্তিতে দুই ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো- কামরুল হাসান (৩৬) ও নুরুল আবছার লাকি (৩৩)। দুই ভাইয়ের মরদেহ একটির ওপর আরেকটি পড়ে ছিল। তারা কি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাদের খুন করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দুই ভাই কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মৃত লেদু মিয়ার পুত্র।

a1খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তারা দুজনই মাদকাসক্ত ছিল। তাদের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাইনি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। দুই ভাইয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন কিংবা খাবারে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন জানান, তাদের বাবা লেদু মিয়া ঢাকায় থাকেন। রেলওয়েতে চাকরি করেন। তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন বস্তিতে অবৈধভাবে আটটি ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছিলেন দুই ভাই। নিহত কামরুলের স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে নগরের ইপিজেড এলাকায় থাকেন। তাঁর স্ত্রী পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঘরের ভাড়া তোলার জন্য কামরুল প্রতিমাসে ওই এলাকায় আসতেন। নিহত আবছার ওই ভাড়া ঘরের একটি কক্ষে থাকতেন। কামরুল গত বুধবার রাতে ছোট ভাই আবছারের ঘরে আসেন। সেখানেই রাতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই ভাইয়ের ঘরে কোনো সাড়াশব্দ না থাকায় আশপাশের লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে দুই ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে। তিনি জানান, তারা কীভাবে মারা গেছে সেটি কেউ বলতে পারছে না। এখনো রহস্যজনকই থেকে গেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় আমবাগান রেলওয়ে ৫নং বিল্ডিংয়ের সামনে ৫নং কলোনিতে একটি ছোট ঘরে পড়ে আছে দুই ভাইয়ের লাশ। লাকির মুখে ফেনা। অন্যদিকে তার গায়ে পা তুলে দিয়েছে কামরুল। তার মাথা ঘরের বেড়ার সাথে ঠেস দেয়া, ঘাড় ঈষৎ হেলানো। শরীরের আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ঘরের জিনিসপত্রও সব ঠিকঠাক রয়েছে। ঘরে গাঁজাসহ কিছু নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া গেছে। নিহত কামরুলের স্ত্রী নাজমা আক্তার ঘটনাস্থলে আজাদীকে বলেন, বুধবার তাঁর স্বামী ইপিজেড এলাকা থেকে টাইগারপাস এলাকায় ভাড়া তুলতে বাসায় আসেন। সেখানে রাতে থেকে যান।

বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে এসে দেখেন ঘর থেকে পুলিশ তাঁর স্বামী ও দেবরের লাশ উদ্ধার করেছে। কী কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তিনি বুঝতে পারছেন না। তাঁর স্বামী কিছু করতেন না। দেবর দিনমজুর ছিলেন। তবে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। দুজনেই নেশা করতেন। এদিকে বস্তিবাসীরা জানায়, দুই ভাই স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার অনুসারী। কিছুদিন আগে ওই যুবলীগ নেতার অনুসারীদের সাথে নগর ছাত্রলীগের এক নেতার অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষের জেরেই তারা খুন হতে পারেন।

মতামত...