,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের দেওয়ানহাট হতে অপহৃত শিশু চকরিয়া থেকে উদ্ধার

cচকরিয়া প্রতিনিধি,বিডিনিউজ রিভিউজঃ  চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানার দেওয়ান হাটের আসকারাবাদ মেম গলির কাজীবাড়ির সামনে থেকে অপহৃত ৫ বছর ৯ মাস বয়সী শিশু মাইনুল ইসলাম মুত্তাকীনকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

র‌্যাব এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে অপহরণের তিনদিন পর শনিবার ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পাহাড়িগ্রাম ইসলাম নগরস্থ অপহরণকারীর বোনের বাড়ি থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় র‌্যাব ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী ও তার বোনসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যায়।  অপহরণকারী চক্র শিশুটিকে অপহরণের পর ফেরত দেওয়ার বিপরীতে মুক্তিপণ হিসেবে নগদ ১০ লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত ওই টাকা প্রেরণের জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেয় অপহৃত শিশুর পরিবারের কাছে। মূলত মুক্তিপণ দাবি করা মুঠোফোন এবং বিকাশ নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীর স্থান শনাক্ত করা হয়। এর পর অনেকটা গোপনেই ওই শিশুকে উদ্ধার অভিযানে নামে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথদল। এতে অভিযানের সফলতাও আসে। উদ্ধার করা যায় অপহৃত শিশুটিকে। অবশ্য অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় ।

ডবলমুরিং থানা পুলিশ জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিশু মোত্তাকীন কাজীবাড়ির সামনের একটি দোকান থেকে নাস্তা কিনতে যায়। এ সময় ওই শিশুকে অপহরণ করে মেমগলির ব্যবসায়ী ও চকরিয়ার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের অলির বাপের পাড়ার সিরাজ আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলামসহ (১৮) একদল অপহরণকারী। রাতেই শিশুটিকে একটি প্রাইভেট গাড়িতে তুলে নিয়ে আসা হয় পূর্ব বড় ভেওলাস্থ অপহরণকারী সাইফুলের নিজ বাড়িতে। অবশ্য সেখান থেকে শিশুটিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কৈয়ারবিল ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকার ইসলামনগরস্থ বোন আসমা বেগমের (৫০) বাড়িতে। সেখানে গত তিনদিন ধরে জিম্মি করে রাখা হয় শিশু মোত্তাকীনকে।

পুলিশ জানায়, শিশু মোত্তাকীনকে খুঁজে না পাওয়ায় ওইদিন রাতেই ডবলমুরিং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি রুজু করেন মোত্তাকীনের বড়ভাই মো. মুজাহিদুল ইসলাম। অপহৃত শিশু মেমগলির অদূরে মিস্ত্রীপাড়াস্থ ইলোমিনেট ইন্টারন্যাশনাল কেজি স্কুলের ছাত্র।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শরাফত ইসলাম বিডিনিউজ রিভিউজকে  বলেন, শিশু মোত্তাকীন অপহরণের পর ডবলমুরিং থানায় সাধারণ ডায়েরি রুজুর পাশাপাশি পরিবার সদস্যরা র‌্যাবকেও বিষয়টি জানায়। এরপর থেকেই শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায় র‌্যাব। এরইমধ্যে অপহরণকারী চক্র মুক্তিপণ হিসেবে মুঠোফোনে নগদ ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া এবং তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরের অবস্থান প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী চক্রকে ধরতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে র‌্যাব। র‌্যাবকে সহায়তা দেন চকরিয়া থানা এবং ডবলমুরিং থানার পুলিশ।

র‌্যাবের সঙ্গে অভিযানে থাকা চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম বিডিনিউজ রিভিউজকে  বলেন, অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে শিশুটিকে উদ্ধারে র‌্যাব টিমকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করি আমি নিজে ছাড়াও থানার এসআই দেবব্রত রায়, এনামুল হক, আবদুল খালেকসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বিডিনিউজ রিভিউজকে  বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে আসা র‌্যাব টিমের সঙ্গে পরিবার সদস্যরা চকরিয়া আসেন। শিশুটিকে অপহরণকারীর ডেরা থেকে উদ্ধারের পর থানায় এনে প্রয়োজনীয় আইনী কাজকর্ম সেরে চট্টগ্রামেই নিয়ে যান তারা।

ওসি বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে চকরিয়া থানার পুলিশ যেভাবে সহায়তা দিয়েছে, একইভাবে সহায়তা দেওয়া হবে অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার অভিযানে। আশা করি অচিরেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা সাইফুল ইসলাম ও তার বোন আসমা বেগমসহ সকলকেই।

উদ্ধারকৃত শিশু মোত্তাকীনের চাচা মো. মোজাম্মেল চৌধুরী বিডিনিউজ রিভিউজকে  বলেন, গত তিনদিন ধরে আমাদের চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছিলাম। কলিজার টুকরা মোত্তাকীন জীবিত রয়েছে কী-না সেই চিন্তায় নাওয়া-খাওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার সদস্যরা। শেষপর্যন্ত প্রাণে ফিরে পাওয়ায় আল্লার কাছে অশেষ শোকরিয়া। পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাবের প্রাণান্তকর প্রচেষ্টায় আজকে জীবিত ফিরে ফেলাম বুকের ধন মোত্তাকীনকে। এ ধরনের কারো সন্তান যাতে কোন অপরাধী চক্র আর অপহরণ করতে না পারে সেজন্য ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করছি আমি। উল্লেখ্য, মোত্তাকীনের বাবা কাজী মোহাম্মদ ইউসুফ এবং মা হজ পালনে বর্তমানে সৌদি আরব রয়েছেন।

মতামত...