,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ

aমোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম সংবাদদাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দায়িত্বরত দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন যানবাহন মালিকরা। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মহাসড়কের চন্দনাইশ, গাছবাড়িয়া, দেওয়ান হাট, দোহাজারী, মৌলভীর দোকান, কেরানীহাট, পদুয়া ও আমিরাবাদ এলাকায় সড়কে গাড়ীর কাগজ পত্র দেখার নামে দীর্ঘদিন ধরে হাইওয়ে পুলিশ চাঁদাবাজি করে আসছে। আর টাকা না দিলে গাড়ী আটক করে মামলা দেয়ার ভয় দেখায় পুলিশ। বিশেষ করে হাইওয়ে থানার ওসির বিরুদ্ধে যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা এ অভিযোগ করেছে।
লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, পদুয়া, ঠাকুদীঘি, সাতকানিযা রাস্তার মাথা, মৌলভীর দোকান, দোহাজারী ও কেরানীহাট এলাকার সিএনজি চালকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে ওসি নিজে ফোর্সসহ পুলিশ ভ্যান নিয়ে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে শুরু করেন অভিযানের নামে সিএনজি আটক। প্রতিদিন ৮/১০টি সিএনজি অটোরিক্সা আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিএনজি আটকের পর চালকদের সন্ধ্যার পর থানায় যোগাযোগ করতে বলে দেয়া হয়। চালকরা সন্ধ্যার পর থানায় গেলে প্রতি গাড়ী হাজার, হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়। সন্ধ্যার পর যারা যোগাযোগ করেনি তাদের গাড়ীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় ট্রাফিক হেড কোয়ার্টারে। এভাবে হাইওয়ে থানার ওসি প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নিরীহ গরীব এ সিএনজি চালকদের কাছ থেকে।
aচট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দোহাজারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসির চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে গেছে পরিবহন শ্রমিকরা। এ এলাকার গোটা শ্রমিক ইউনিয়ন তাঁর কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। প্রতি গাড়ী থেকে মাসিক টাকা না দিলে মামলা দিয়ে হায়রানি করে। এ জন্য যানবাহন মালিকদের হাইওয়ে থানায় মাসিক টাকা দিতে হয়।
উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের জনার কেঁওচিয়া এলাকার সিএনজি মালিক রমজার আলী ও মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাইওয়ে থানার ওসি আমাদের সিএনজিগুলো কিছুদিন আগে আটক করে। রাতে অফিসে যোগাযোগ করতে বলে থানায় নিয়ে যায়। আটকের একদিন পর প্রতি গাড়ী থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। কেরানীহাট এলাকার মাহিন্দ্রার মালিক আবদুর রহিম বলেন, আমার মালবাহী মাহিন্দ্রা ওসি নিজেই আটক করে নিয়ে যান থানায়। পরে দর কষাকষি করে ৪ হাজার টাকা দিলে ছেড়ে দেন।

সরকার মহাসড়কে সিএনজি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনার সুযোগে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মহাসড়ক থেকে সিএনজি আটকের নামে বানিজ্যে নেমে গেছেন বলে অভিযোগ সিএনজি মালিকদের।

যানবাহন চলাচল নিরাপদ আর যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার নিমিত্তে হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে হাইওয়ে থানা স্থাপন করা হয়। হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলা আছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে। অপরদিকে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে রাতে যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে হাইওয়ে পুলিশের চেকপোষ্টের কাছাকাছি। রাতে যানবাহনে এসব ডাকাতির ঘটনায় পুলিশে কোন তৎপরতা না থাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবহনে ডাকাতি। গত শীত মৌসুমের শেষের দিকে রাত আড়াই টায় হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছিলেন মৌলভীর দোকানের দক্ষিণে জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ এলাকায়। এসময় মহাসড়কে দক্ষিণে ৩ শত গজের মধ্যে মাইক্রোবাসে ডাকাতি সংঘটিত হলে হাইওয়ে পুলিশ জানে না এ ডাকাতির ঘটনা। পরে থানা পুলিশ গিয়ে ডাকাতদের তাড়া করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব বাঁশি সর্বস্ব গাড়ী টহল ছাড়া আর কিছুই নয় বলে অভিমত প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্পটে পুলিশ কনষ্টবল যারা গাড়ী সুশৃঙ্খল করার দায়িত্বে নিয়োজিত এরা নিজেরাই হীন স্বার্থে গাড়ী ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড় করিয়ে রাখার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেছেন ইদানিং যানজট নিরসনে হাইওয়ে থানা কোন ভূমিকা রাখছে না। তাঁরা শুধু চাঁদাবাজি নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছে। বিষয়টি নিয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার সেকেন্ডে অফিসার নাছির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনবল স্বল্পতার অজুহাত দেন। দক্ষিন চট্টগ্রাম ট্রাক শ্রমিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি অফিসের সামনেই একটি চেক পোষ্ট স্থাপন করেছেন। চেক পোষ্টের নামে মালবাহী ট্রাক, ট্রলি ও মিনি ট্রাক থেকে চাঁদা আদায় করা। অনেক সময় হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য দোহাজারী ও কেরানীহাট এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গেলেও যানজট নিরসনের চেয়ে তাঁরা যাত্রীবাহী গাড়ী থেকে চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত থাকেন। প্রতি গাড়ী থেকে ১০-২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে যাত্রীবাহী গাড়ীকে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ করে দেয়।” পিছনের গাড়ী একটার পর একটা দাঁড়িয়ে লম্বা যানজটের সৃষ্টি হলেও পুলিশ কনষ্টেবল লাঠি হাতে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকে। পিছনের যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত কনষ্টেবল লার্ঠি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীর পিছনে দুটি আঘাত করে চলে যান। যাত্রীদের বিরক্ত হওয়া তাদের কিছু যায় আসেনা। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন মূমূর্ষ রোগী নিয়ে এ্যাম্বুল্যান্স যানজটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেও হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের যানজট ছাড়ানোর কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়না। বরং রহস্যজনক ভাবে গা ঢাকা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,”এ এলাকায় হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ যখন ছিলনা তখন কেরানীহাটে এ অরাজক পরিস্থিতিও ছিলনা।” নিত্যদিনের এ অস্বস্তিকর যানজট দেখে প্রশ্ন জাগে হাইওয়ে পুলিশ কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে?
প্রকৃতপক্ষে হাইওয়ে পুলিশ তাদের গাড়ী নিয়ে বাঁশি বাজাতে বাজাতে সাতকানিয়া মৌলভীর দোকানের দক্ষিনে গিয়ে নিরিবিলি এলাকায় গাড়ী দাঁড় করিয়ে চোরাই কাঠের ট্রাক আর বিভিন্ন অবৈধ মালবাহী ট্রাক পাহারা দিতে দেখা যায়। তাছাড়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কেরানীহাট-দোহাজারীতে চলছে লাইসেন্স এবং নম্বর বিহীন ট্রলি টমটম। টমটম চালক জাফর বলেন, প্রতিমাসে হাইওয়ে থানাকে ৩শত টাকা দিয়ে ট্রলি চালাচ্ছি। মাসিক টাকা না দিলে গাড়ী চলতে দেয় না পুলিশ। জানা যায়, সড়কে চলাচলরত দূরপাল্লার বাসের একেক পরিবহনের মালিকদের কাছ থেকে মাসিক ১৫০০ হাজার থেকে ২০০০ হাজার, সাতকানিয়া কেরানীহাট, লোহাগাড়া আমিরাবাদ ও দোহাজারী এলাকার প্রতিটি মাক্রোবাস থেকে মাসিক ১৫০-২০০ টাকা, ট্রাক, মিনি ট্রাক ও ড্যাম্পার, যাত্রীবাহী পিকআপ থেকে মাসিক টোকেনের ভিত্তিতে প্রতি গাড়ীর হাইওয়ে পুলিশের টোকেন ২ শ থেকে ৫০০ টাকা নেয়া হয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি বিমল চন্দ্র ভৌমিক বলেন, পরিবহণ থেকে মাসিক কোনো টাকা হাইওয়ে পুলিশ নেয় না। এটা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচা। রাতে মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে আমাদের পুলিশ সার্বক্ষণিক টহলে থাকে।
আটক সিএনজি’র বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয় না এটা ঠিক নয়, আমি স্থানীয় এমপি টেলিফোন করলেও ছাড় দিচ্ছি না।

মতামত...