,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে: গণপূর্তমন্ত্রী

eng.mosarrofনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যাম্পাসে নয়, ফৌজদারহাটের ৩০ একর এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হবে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে জানালেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

সম্প্রতি চমেক ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর গত ১৫ জুলাই নিজ দফতরের প্রকৌশলী-স্থপতিদের সাথে নিয়ে চমেক ক্যাম্পাসের স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন গণপূর্তমন্ত্রী। সেখানকার পাহাড়ি পরিবেশেই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এর প্রায় তিন মাসের মাথায় মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের বিষয়ে গতকাল নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মাস দেড়েকের মধ্যে এ প্রকল্পে একজন পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নিয়োগ দেয়া হবে। শীঘ্রই শুরু হবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের কাজ। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্তমন্ত্রী গতকাল আজাদীকে বলেন, বর্তমান মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়টি করব চিন্তা করেছিলাম। ঘোষণাও দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমরা বুঝতে পারলাম যে, ওখানে এমনিতে মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতাল আছে। এর ওপর বিশ্ববিদ্যালয়টি করা হলে একটা ঘিঞ্জি পরিবেশের সৃষ্টি হবে। তাছাড়া বিদ্যমান হাসপাতালটিরও সম্প্রসারণ করতে হবে। বিপরীতে ফৌজদারহাটে বিশাল এলাকা খালি পড়ে আছে। ওখানে ১৬ একর জমি এখন খালি। এর আশপাশে আরো ১৪ একর অধিগ্রহণ করা যাবে। মোট কথা ৩০ একর এলাকাজুড়ে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গড়ে তোলা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত পরিবেশ ও বিশাল এলাকাজুড়ে হলেই ভালো হয়। সে হিসেবে ওখানকার পরিবেশই উপযুক্ত। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলার জন্য আমরা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। এদিকে গতকাল শুক্রবার সকালে নিজ দফতরের প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সাথে নিয়ে ফৌজদারহাট বক্ষব্যাধি ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন গণপূর্তমন্ত্রী। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) চট্টগ্রাম শাখার আহ্বায়ক ডা. শেখ সফিউল আজম, বক্ষব্যাধি ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক ডা. নারায়ণ দে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তসলিম উদ্দিন জমাদার ও প্রধান স্থপতি হাজী গোলাম নাসির প্রমুখ মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত এলাকাটি পরিদর্শন করেন তাঁরা। পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন সাইট সিলেকশন করেন মন্ত্রী। সেখান থেকে ফিরে সার্কিট হাউসে নিজ দফতরের প্রকৌশলী ও স্থপতিদের সাথে নিয়ে বসেন মন্ত্রী। সেখানে কোন কোন জায়গায় ভবন হতে পারে এবং সার্বিক পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী তাঁদের নির্দেশনা দেন।

ফৌজদারহাট এলাকা পরিদর্শন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা এলাকাটি ঘুরে দেখেছি। খুব সুন্দর এলাকা, ভালো পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই উপযুক্ত। যারা সাথে ছিলেন সবাই জায়গাটি পছন্দ করেছেন।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, আমরা এলাকাটি ঘুরে দেখেছি। ওই জায়গাটিই আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেশি উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে। কারণ, ওখানে যে জমিগুলো আছে তা কারো কাছে ভিক্ষে চাইতে হবে না। বিশাল এলাকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলা যাবে। পাশেই সমুদ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। এরকম পরিবেশেই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা উচিত। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ নন-প্র্যাকটিসিং করার পক্ষেই জোরালো অভিমত এই চিকিৎসকের। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন চিকিৎসকদের গবেষণার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত গবেষণা চলুক। প্র্যাকটিসের বিষয়টা প্রথম দিকে না হলেও সমস্যা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় চমেক ক্যাম্পাসে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ওইদিন তিনি বলেছিলেন, চট্টগ্রামের সন্তান গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।

মতামত...