,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রোয়ানুর তাণ্ডবে নিঃস্বরা খোলা আকাশের নিচে

gurni2নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালী, আনোয়ারা, চকরিয়া , সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপকূলীয় এলাকায় মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ সব এলাকার মানুষ নিঃস্ব করেছে  ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু।   ভিটে আছে বাড়ি নেই। খোলা আকাশের নীচে শতশত পরিবার মানবেত্র জীবন কাটাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও পায়নি  ত্রাণ। নেই খাবার, নেই থাকার ব্যবস্থা, নেই নিরাপত্তা। সব হারিয়ে এখন তদেয়ার জিবন বাচানো দায়! কেউ কেউ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আবার অনেকেই নিরুপায় হয়ে মশা মাছির উৎপাত আর জোয়ারের আতংকে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখানও নির্ধারণ করা হয়নি।  বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার না হওয়ায় অরক্ষিত থাকার কারণে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি ঘটেছে। ঘূর্ণিঝড়ে বসত বাড়ি, লবণ চাষ ও চিংড়ি ঘের ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

aউপকূলীয় খানখানাবাদ ইউনিয়ন, ছনুয়া ইউনিয়ন ও গণ্ডামারা ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের ঘর বাড়ি বিলীন হয়েছে।  পুকুরিয়া,সাধনপুর, বাহারছড়া, সরল, কাথারিয়া, শীলকূপ ও  শেখেরখীলে রোয়ানুর তান্ডবে ব্যাপক ক্ষতি হয়।  পুরো বাঁশখালী জুড়ে গাছপালা, ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষত হয়। বাঁশখালীর খানখানাবাদে ৬ জন, ছনুয়ায় ১ জন এবং গন্ডামারার ২ জন নিহত হন।

বাঁশখালীর খানখানাবাদ, ছনুয়া ও গণ্ডামারা এলাকায় বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাস-মুরগী ব্যাপকহারে মারা পড়ে আথবা জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।। বাঁশখালীতে লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের, ফসলী জমিসহ ক্ষতির পরিমাণ ২ শ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

 বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকায় রোয়ানু আক্রান্ত পরিবারগুলোর মানবিক বিপর্যয় সবচেয়ে চোখে পড়ার মত। ওই এলাকার প্রেমাশিয়া, রায়ছটা, রোসাঙ্গিরী পাড়াসহ খানখানাবাদের কয়েকশ বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকার মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবন যাবন করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, অর্থ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ব্যুরোর মহাপরিচালক রিয়াজ আহমদ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাঁশখালীর উপকূলীয় খানখানাবাদ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় নিহত পরিবারদের নগদ টাকা এবং চাউল প্রদান করেন। এ সময় মন্ত্রীরা বলেন, স্বচোখে বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকায় রোয়ানুর তাণ্ডব পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করার পর জরুরি ভিত্তিতে এলাকাবাসীকে  পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকার মানবিক বিপর্যয়ের ফলে সরকারিভাবে ৫০ মেট্রিক টন চাউল এবং ২ লক্ষ টাকা নগদ প্রদান করা হয়েছে। যেগুলো দিয়ে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষদের নানাভাবে শুকনো খাবার বিতরণসহ খাবার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

 

মতামত...