,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী মা মেয়ের হত্যা মামলা ২ আটক

aনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের বোয়াখালীতে মা শেলী শীল (৩৫) ও শিশু কন্যা অন্তরা শীলের (৫) লাশ উদ্ধার পর এটিকে পরিকল্পিত হত্যা দাবী করে স্বামী শশিুড়িসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ গৃহবধূর শ্বাশুড়ি ও মামা শশুরকে আটক করেছে। তবে নিহত শেলীর স্বামী অসীম শীল এখনও পলাতক রয়েছে।

বুধবার সকালে শেলীর মা বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে বোয়ালখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে স্বামী, শ্বাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামী, মামা শশুরসহ ৭ জনকে আসামী করা হয়েছে।

শেলীর ভাই সুজন শীল জানান, আজ ময়না তদন্ত শেষে বোন শেলী ও ভাগ্নি অন্তরার মরদেহ পারিবারিকভাবে দাহ করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে বোয়ালখালির সারোয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ কঞ্জুরী গ্রামের ভূপাল শীলের বাড়ির শশুরবাড়িতে নিজের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলানো অবস্থায় শেলী শীলের লাশ পাওয়া যায়। বিছানার উপর পাওয়া যায় অসীম ও শেলীর বড় মেয়ে পাঁচ বছরের অন্তরার নিথর দেহ। শশুরপক্ষ মেয়েকে হত্যার পর মা শেলী নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায়।

শেলীর ভাই সিএমপির পুলিশ কনস্টেবল সুজন শীল জানান, বিয়ের পর থেকে শেলীর ঘাতক স্বামী ও শ্বাশুড়ী বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুক দাবী করে আসছিল। যৌতুক না দেয়ায় তারা (শশুর পক্ষ) শেলী ও তার মেয়েকে হত্যা করেছে পরিকল্পিতভাবে।

শেলী শীল মামা বিধান শীলের দাবি, স্বামী অসীম রাতে তাদের হত্যা করেছে। এরপর শেলীর লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে যাতে স্বাভাবিকভাবে সেটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হয়। সংসারে অশান্তির জেরে অসীম শীল এই কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন তারা।

বোয়ালখালী থানার ওসি মো.সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, হত্যা মামলা দায়েরের পর গৃহবধূ শেলী শীলের শ্বাশুড়ি সবিতা শীল ও মামাশ্বশুড়কে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি হত্যাকান্ড কিনা এখনও আমরা নিশ্চিত নই। আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।

শেলীর পারিবারিক সুত্র জানায়, ৮বছর পূর্বে নগরীর হালিশহর ছোটপুল এলাকার অমিয় শীলের মেয়ে শেলী শীলের সাথে কঞ্জুরী গ্রাসের মৃত ভূপাল শীলের ছেলে অসীম শীলের বিবাহ হয়। তাদের অন্তরা (৫)ও অনুরাগ (৮মাস)। অসীম পটিয়া আদালতে এক আইনজীবির সহকারি হিসেবে কাজ করেন। তাদের অপর সন্তান অনুরাগ (৮মাস)কে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই নিহত গৃহবধুর স্বামী অসীম পলাতক থাকায় ঘটনাটি রহস্যাবৃত হয়ে পড়ে।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ জানান, মামলা দায়েরের পরপরই সংশ্লিষ্ট আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা শুরু করেছি। সকালেই শাশুড়ি সবিতা রানী ও মামা শশুর সুকুমার শীলকে আটক করেছি। বাকী আসামীদের আটকে আভিযান চলছে।

মতামত...