,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের রাউজানে ছাত্রলীগের কাউন্সিল সামনে রেখে সরগরম ছাত্র রাজনীতি

রাউজান ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশীদের কয়েকজন ছাত্রনেতা- বিডিনিউজ রিভিউজ.কম

রাউজান সংবাদদাতা, ৭ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের রাউজানে ছাত্রলীগের কাউন্সিল সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে ছাত্র রাজনীতি। ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন তারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুর পর মুন্সির ঘাটা রাউজান কলেজ মার্কেটে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় নিরব হয়ে পড়লেও প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নতুন কমিটিতে বিভিন্ন পদে আসীন হওয়ার আশায় নেতাকর্মীদের গতায়াতে কার্যলয়টি সরগরম হয়ে উঠেছে।

রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন দিপলু দে, ইমরান হোসেন ইমু, অনুপ চক্রবর্তী, মঈন উদ্দিন মোস্তাফা, জিল্লুর রহমান মাসুদ আর  সম্পাদক পদে লবিং চালাচ্ছেন নজরুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, নুরনবী নুরান, আসিফ, কে এম শাওন, রাব্বি, কুতুব উদ্দিন, মাসুদ, সাইফুল ইসলাম।

রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০০২ সালে। ওই সময়ে চারদলীয় জোট সরকারের শাসন আমলে উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি হন জমির উদ্দিন পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক হন জসিম উদ্দিন। এ দুজনের নেতৃত্বে রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেন রাজপথে। এ সময় তারা হামলা-মামলার শিকার হন। ৯২ সালে রাউজান কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ এনডিপির সন্ত্রাসীরা জমির উদ্দিন পারভেজকে গুলি করে চারাবটতল এলাকায়। এ সময় জমির উদ্দিন পারভেজ মারাত্মকভাবে আহত হন। ২০০২ সালে তাকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি পদে দায়িত্ব প্রদান করে নেতাকর্মীরা। পারভেজকে ২০০৪ সালে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী জানে আলম ও তার সহযোগীরা সুরেশ বিদ্যায়তন এলাকায় গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করে। একই বছর জমির উদ্দিন পারভেজ রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এরপর আরো দুবার তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বর্তমানে রাউজান পৌরসভার দ্বিতীয় প্যানেল মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটির নেতারা বিদায় নিয়ে নতুনভাবে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এই নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসীন হওয়ার জন্য একাধিক ছাত্রলীগ নেতা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। তারা জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে আছেন ইমরান হোসেন ইমু, অনুপ চক্রবর্তী, মঈন উদ্দিন মোস্তাফা, দিপলু দে, জিল্লুর রহমান মাসুদ। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন নজরুল ইসলাম, মোরশেদ আলম, আসিফ, কে এম শাওন, রাব্বি, কুতুব উদ্দিন, মাসুদ ও সাইফুল ইসলাম। নতুন কমিটি গঠন উপলক্ষে জমির উদ্দিন পারভেজ বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দুবার আমাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। দলের দুঃসময়ে মামলা ও হামলা করা সত্ত্বেও আন্দেলন-সংগ্রাম থেকে পিছ পা হইনি।

উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নেতাকর্মীদের সর্মথন নিয়ে রাউজান ছাত্রলীগের শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা বলেন, সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরামর্শে রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে রাউজান উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গড়ে উঠবে।

মতামত...