,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের রাউজানে নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সাঁতার শেখানো হচ্ছে শিশুদের

রাউজান সংবাদদাতা, ২১ আগস্ট, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের রাউজানে সাড়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে ১১ শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় সচেতন মহল উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে! রাউজান সদরের পরিবারে একমাত্র ছেলে সন্তান ছিল ফুয়াদ আনোয়ার সামি (১৩)। রাউজান ইংলিশ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর অসম্ভব মেধাবি ছাত্র ছিল সে। সেদিন ৩ আগস্ট দুপুর প্রায় তিনটা। বাড়ির সামনেই পুকুরে ডুবে অকালেই মারা যায় সে। তার মৃত্যু শুধু পরিবার, প্রতিবেশী, সহপাঠী নয়, পুরো রাউজান সদরের মানুষের অন্তরে শোকের নাড়া দেয়। ফুটফুটে নাদুস-নুদুস চেহেরার অধিকারী সামির স্মৃতি এখনো ভূলতে পারছে না তার স্কুলের সহপাঠী ও আপনজনরা।শুধুকি তাই,গেল কয়েক মাসে ১৫ জনের বেশী শিশু পুকুরে ডুবে প্রান হারিয়েছে বলে জানাগেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, প্রত্যেক মাসে দু’ তিনজন করে শিশু পুকুরে ডুবে মারা যাচ্ছে। বেশিরভাগ শিশুর বয়স ১ থেকে ৫ বছর। সামির মৃত্যুর পর উপজেলা প্রশাসন শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন রেজার সরকারি বাসভবন ফুলঝুরি সংলগ্ন পুকুরটিতে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার দু’দিন এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পুকুরে ডুবে মারা যায় পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের আদালত ভবন এলাকার চৌধুরী বাড়ির সৌদি আরব প্রবাসী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন চৌধুরীর একমাত্র পুত্র ও রাউজান ইংলিশ স্কুলের ছাত্র ফুয়াদ আনোয়ার সামি (১৩)। এর আগে ২২ জুলাই পুকুরে ডুবে আদিবা ইসলাম মাহি (২) নামে এক শিশু কন্যার মৃত্যু হয়। সে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকার আইয়ুব আলী সওদাগর বাড়ির আব্দুল মাজিদের মেয়ে। গত ১৪ জুলাই মো. রাব্বি (৪) নামে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি গ্রামের অছিমিয়া চেয়ারম্যান বাড়ির সাহাবুদ্দিনের একমাত্র পুত্র। গত ৫ জুন উম্মে হাবীবা (২) নামের এক শিশুকন্যা পুকুরে ডুবে মারা যায়। সে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকার হাজী হামদু মুন্সি তালুকদার বাড়ির মো. রফিকের কন্যা। গত ৩০ জুন আরফাত হোসেন (২) নামের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সে উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের হাজি আজিজুর রহমান বাড়ির ওমান প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের একমাত্র পুত্র। গত ৯ মে মোহাম্মদ জোনায়েদ (৩) নামের এক শিশু পুকুরে ডুবে মারা যায়। সে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের মুহাম্মদ মহসিনের পুত্র। গত ২৩ মে শহীদুল আলম (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। সে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন মধ্যপাড়া গ্রামের ফরিদুল আলমের পুত্র। গত ১০ মার্চ রাউজানে পুকুরের পানিতে ডুবে পুতুল (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। উরকিরচর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকাখালী গ্রামে মামার বাড়িতে মা’র সাথে বিয়ের দাওয়াতে এসে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। সে হাটহাজারী উপজেলার মধ্যম মাদার্শা বড়–য়াপাড়ার জনৈক মানিক বড়–য়ার কন্যা। গত ৪ মার্চ শনিবার পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হচ্ছে, গোদারপাড় এলাকার অর্জুন সওদাগর বাড়ির প্রবাসী অরুন বড়–য়ার ছেলে দেবরাজ (৮) ও প্রবাসী সুমন বড়–য়ার ছেলে যুবরাজ (৫)। নিহত দুই শিশু পরস্পর চাচাতো-চেঠাতো ভাই। উপজেলার উত্তর গুজরা গ্রামের আধার মানিক গোদার পাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিহা আকতার (২) নামের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। নিহত শিশু রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের বদুপাড়া সৈয়দ বাড়ির দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ হোসেনের কন্যা।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা শিশু মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পারিবারিক অসচেতনতা ও সাঁতার না জানার কারণে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত ৩ আগস্ট পুকুরে ডুবে নিহত ফুয়াদ আনোয়ার সামির মৃত্যুতে আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। এ ঘটনার পর আমি প্রতি শুক্রবার ও শনিবার শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য উপজেলার সরকারি বাসভনস্থ একটি পুকুর উন্মুক্ত ঘোষণা করেছি। গত শুক্রবার থেকে এখানে সাঁতার শেখানো শুরু হয়েছে। তিনি শিশু সন্তানদের চোখে চোখে রাখার পরামার্শ দিয়ে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা সচেতন হলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব’।

সরেজমিনের পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফুলঝুরির পুকুরটিতে লাল সবুজের রং করা বাঁশ দিয়ে সীমানা করে শিশুদের সাঁতার শেখানো হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছে উপজেলা ফায়ার ডিফেন্সের সদস্যরা।

মতামত...