,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাথায় ডেকচি ঢুকিয়ে হামিদ খুনের লোনহর্ষক জবানবন্দী

রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল চুরির অভিযোগে খুন হয়েছেন যুবক আবদুল হামিদ (২৫)। পোমরা হাজী পাড়া এলাকার এক তরুণীর সাথে সম্পর্ক ছিল নিহত হামিদের। এর কয়েকদিন পর অপুর গোচরা বাজারস্থ আস্তানা থেকে চুরি হয়ে যায় একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন। অপু ও তার সহযোগীদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল হামিদ কৌশলে অপুর আস্তানায় ঢুকে ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরি করেছে। ল্যাপটপ ও মোবাইলটিতে অপুর কিছু গোপনীয় ও আপত্তিজনক ছবি ও ডক্যুমেন্ট ছিল। তাই সেও চিন্তিত ছিল গোপন তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায়। সেগুলো উদ্ধার করতেই তারা হামিদকে ধরে এনে সারারাত মারধর করে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় মারধর করা হয় আবদুল হামিদকে। মারধরের সময় মূখে কাপড় গুজে আবদুল হামিদের মাথায় হেলমেট স্টাইলে পড়ানো হয় সিলভারের ডেকচি। যাতে তার আওয়াজ কোনভাবে বের হতে না পারে। পুলিশের তদন্তে এসব ভয়ংকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি ইমতিয়াজ ভুঁইয়া, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ ইসমাঈল হোসাইন খুনিদের ধরতে মাঠে নামেন। এজাহার ভুক্ত আসামি গিয়াসউদ্দিনকে আটকের পর সে পুলিশের কাছে খুনের ঘটনার আদ্যোপান্ত স্বীকার করেন। রাঙ্গুনিয়ার চাঞ্চল্যকর যুবক আবদুল হামিদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. গিয়াস উদ্দিন দোষ স্বীকার করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভয়ংকর সন্ত্রাসী নাগিব মাহফুজ অপুর রাঙ্গুনিয়ার গোচরা বাজারস্থ টর্চার সেলে হামিদকে মারধরের সময় তিনি নিজেও অংশ নিয়েছেন বলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। রোববার সন্ধ্যায় ১৬৪ ধারায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রিট মাহমুদুল হাসান এর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক লিখিত জবানবন্দি প্রদান কালে আসামী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, নাগিব মাহফুজ অপুর একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল চুরি করেন আবদুল হামিদ। ২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় এজাহারভুক্ত আসামী ইমন ও টিপু হামিদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন এবং গোচরা বাজারস্থ অপুর দোকানে আটক করে রাখেন। আমি খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় অপুর দোকানে যাই। সেখানে হামিদকে হাত বাঁধা অবস্থায় দেখি। তখন ইমন, টিপু, অপু কিল ঘুষি ও লাথি মারছিলো হামিদকে। চুরি কেন করেছে এমন ধমক দিয়ে হামিদকে আমিও পাইপ দিয়ে মারধর করি। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত মারধরের ঘটনায় অপুর আস্তানায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। এরপর আমি বাড়ি চলে যাই। মারধরের সময় টর্চার সেলে খুনের ঘটনার মূল হোতা নাগিব মাহফুজ অপু, ইমন, টিপু, আকাশ, আরিফ ও সাঈদসহ আরো অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিল। সারারাত তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। গিয়াস উদ্দিন রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ছাইনী পাড়ার মৃত সাহাব মিয়া প্রকাশ মো. ইদ্রিসের পুত্র এবং আবদুল হামিদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। শনিবার রাতে তাকে পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রিট মাহমুদুল হাসানের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। নয়জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হলেও পুলিশের তদন্ত ও ধৃত আসামির জবানবন্দিতে আরো কয়েকজনের সম্পৃক্ততার সত্যতা মিলছে। গিয়াসউদ্দিনের স্বীকারোক্তিতে মামলার এজাহারের বাইরে সাঈদ নামের একজন হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতকে। এর বাইরে আরো কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উঠতি সন্ত্রাসী নাগিব মাহফুজ অপু সিকদার (২৬) এর মালিকানাধীন গোচরা বাজারে একটি দোকান থেকে শুক্রবার সকালে আবদুল হামিদের লাশ উদ্ধার করে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। পরিত্যক্ত এই দোকান ঘরটি সন্ত্রাসী অপু মাদকের আস্তানা ও টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে স্থানীয়রা জানায়। যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী অপু গোচরা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ন সম্পাদকের পদে ছিলেন। তার ভয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তটস্থ থাকতেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে সন্ত্রাসী অপুর সহযোগী ইমন ও টিপু আবদুল হামিদকে ঘর থেকে ডেকে নেন। শুক্রবার সকালে অপুর টর্সার সেল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবদুল হামিদের ফেসবুক একাউন্টে দেখা যায় খুনি অপুকে মামা হিসেবে সম্বোধন করতেন হামিদ। গত ৭ মার্চে অপু ও তার মায়ের যৌথ একটি ছবিসহ হামিদের ছবি পোস্ট করে স্ট্যাটাস দেন নিহত হামিদ। এতে তিনি মামা অপুকে উদ্দেশ্য করে লেখেন যদিও আমরা মামা ভাগ্নে এর পরেও আমাদের বন্ধুত্বটা যেন আমৃত্যু পর্যন্ত ঠিকে থাকে। মামা কি বলেন ? আমার পাশে থাকবেন তো ? সেই বন্ধুত্বের মামার হাতেই অবশেষে খুন হয়েছেন ভাগ্নে হামিদ। এঘটনায় নিহত আবদুল হামিদের খালু পোমরা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সোলায়মান বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

থানা সুত্র জানায়, মামলায় পোমরা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের আবু তাহের প্রকাশ বাবুল মাস্টারের পুত্র সন্ত্রাসী নাগিব মাহফুজ অপু (২৬), পোমরা লোহারপুল এলাকার ফয়েজ আহমদ ফজুর ছেলে মো. টিপু (২২), ইমাম শরীফের ছেলে মো. ইমন (২২), পোমরা হাজী পাড়ার ইমাম বাড়ির দিদারুল আলম দিদুর ছেলে মো. আকাশ (২১), পোমরা লোহারপুল এলাকার ইসলাম মিয়ার পুত্র মো. আলমগীর (২৫), গুণগুণিয়া বেতাগী গ্রামের আমিনুল হকের পুত্র মো. আরিফ (২২), দক্ষিণ পোমরা লোহারপুল এলাকার আহমদুর রহমানের ছেলে মো. রবি (১৯) একই গ্রামের মো. বেলাল (২৫) ও পোমরা ছাইনীপাড়া গ্রামের মো. ইদ্রিসের পুত্র মো. গিয়াস উদ্দিন (২৫) কে আসামি করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভুঁঞা জানান, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার নেপথ্যের কারণসহ হত্যাকান্ডের মোটিভ পুলিশের নখদর্পনে আছে। মূল খুনী অপুসহ অন্যান্য আসামিদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। শীঘ্রই এদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

মতামত...