,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর সন্তান। পিটার মৃত্যুর পরে তিনি বেশি করে সময় দিচ্ছেন চট্টগ্রামের রাজনীতিতে। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন তিনি। এতে দায়িত্বের বোঝা বাড়ছে তার কাঁধে। অংশগ্রহণ করছেন নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে। যুক্ত হচ্ছেন নানা সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা কমিটি ইতিমধ্যে তাকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত করেছে। তাকে কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তাঁর পিতা বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী। বিজয় মেলা অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি ও তার পরিবার সবসময় বিজয় মেলার পাশে থাকবেন বলে ঘোষণা দিয়ে বলেন, যারা একাত্তরের পরাজিত শক্তি আলবদর–রাজাকারদের গাড়ি ও বাড়িতে আমাদের লাল–সবুজ পতাকা তুলে দিয়েছিল তারা যেন আবার ক্ষমতায় আসতে না পারে। এরা এদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়। বাঙালি জাতিসত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিজয় মেলাকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরা মুখোশধারী। এদের বিরুদ্ধে বিজয় মেলা মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনাকে প্রজ্জ্বলিত করে বাংলাদেশকে পরিশুদ্ধ ও নিরাপদ রাখবে।

আগ্রাবাদ খাজা আজমেরী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বও তাকে দেয়া হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন তার মরহুম পিতা। এছাড়া তাকে হযরত গরীবুল্লাহ শাহ মাজারের প্রধান মোতোয়াল্লীর দায়িত্ব দিয়েছে মাজার পরিচালনা কমিটি। এখানেও প্রধান মোতোয়াল্লী ছিলেন মহিউদ্দীন চৌধুরী। মোতোয়াল্লীর দায়িত্ব পড়েছে চকবাজারস্থ নবাব ওয়ালিবেগ খাঁ জামে মসজিদেরও। প্রিমিয়ার বিশ্¦বিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী যে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেছিলেন তার সদস্য হিসেবে দেখাশোনা করছেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়েরও। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে বিরোধ চলে আসছে।

নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যারিস্টার নওফেল কোতোয়ালী আসনে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে বছরখানেক ধরে বাকলিয়া এলাকায় সভা–সমাবেশ করছেন। এলাকাবাসীর দুঃখ–দুর্দশার কথা তিনি শুনেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলে তাদের সমস্যার সমাধান করে দেবেন। মূলত ওই আসনকেন্দ্রিক বেশিরভাগ রাজনৈতিক কর্মকা– পরিচালনা করেছেন। কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর তার রাজনৈতিক কর্মকা–ের পরিধি বেড়ে গেছে। সম্প্রতি সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং স্থানীয় এলাকাবাসী আলহাজ এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর শোক সভার আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নগরীর ফিশারীঘাট মাছ বাজার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জনসেবা নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য উল্লেখ করে বলেন, সরকারি অনেক জায়গায় ব্যবসা চলছে, সব জায়গা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র একটি দরিদ্র গোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করার উদ্দ্যেশে উঠে–পড়ে লেগেছে ম্যাজিস্ট্রেট।

এতিমখানায় মাছ বিতরণের নামে জেলে সম্প্রদায়ের মাছ ছিনতাই করছে। বিচারাধীন বাজারের সাধারণ মাছ ব্যবসায়ীদের ওপর জুলুম নির্যাতন বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, খেতে চাইলে নাম ঠিকানা দিয়ে যাবেন, প্রতিষ্ঠানে বাসস্থানে পাঠিয়ে দেয়া হবে, তবুও আইনের দোহাই দিয়ে উচ্ছেদের নামে দরিদ্র মৎস্যজীবী, সাধারণ জনগণের পেটে লাথি মারবেন না। তার প্রয়াত পিতা চট্টগ্রামের সকল শ্রেণি পেশার জনসাধারণের অধিকার আদায়ের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন উল্লেখ করে বলেন, তার আদর্শ বুকে ধারণ করে চট্টলাবাসীর অধিকার আদায়ে আমিও লড়ে যাবো। বাবার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করবো। এই আড়তটি নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে এবি এম মহিউদ্দীন চৌধুরীর চরম বিরোধ ছিল। বাজারটি উঠে যাওয়ার পর মহিউদ্দিীন চৌধুরী সেখানে সমাবেশ করে আবার আড়তটি চালু করে দিয়েছিলেন।

মতামত...