,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের সাগরিকায় ‘গরু’র সরবরাহ প্রচুর, ক্রেতায় সরগরম গরুর বাজার

cow-hat-korbaniনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চট্টগ্রামের সাগরিকায় ‘গরু’র সরবরাহ প্রচুর, ক্রেতায় সরগরম গরুর বাজার । ‘হাটে যে দিকেই তাকাই শুধু গরু আর গরু। নগরীর সবচেয়ে বড় গরুর হাট সাগরিকা এখন যেন গরুর সাগর’। কথাগুলো বলছিলেন হাটে গরু নিয়ে আসা বেপারী ইউনুস। মূল হাট ছাড়িয়ে আসে পাশের তিনটি মাঠ সড়কের পাশের খালী জায়গা সব খানে গরু রাখা হয়েছে। ইজারাদারদের দাবি, হাটে বর্তমানে প্রায় ত্রিশ হাজার গরু আছে। এছাড়া এখনও অসংখ্য গরুবাহী ট্রাক পথে যানজটে আটকে আছে। সেগুলো আসলে হাটের আয়তন বাড়বে আরো কয়েকগুণ। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বসা অবৈধ গরুর হাট নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। এদিকে হাটে অসংখ্য বড় গরু থাকলেও মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর ফইল্লাতলী, পাহাড়তলী, উত্তর হালিশহর, কর্নেল হাট, অক্সিজেন ওয়াজেদিয়া, মকবুল সোসাইটি, বেড়িবাঁধ, আজমল আলী রোড়, কালুরঘাট, কালামিয়া বাজার, চান্দগাঁও, মুন্সি পুকুর পাড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় বসেছে অবৈধ হাট। এই সব অবৈধ হাট নিয়ে উদ্বিগ্ন ইজারাদাররা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ বারবার কোন ধরনের অবৈধ হাট বসতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অবৈধ হাটগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন প্রদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। তবে পুলিশ বলছে অবৈধ হাট বিষয়ে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সাগরিকা গরুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাটে প্রায় শত ভাগ জায়গা গরুতে পূর্ণ। এছাড়া ছাগল ও মহিষ আছে আলাদা জায়গায়। হাটের জায়গাগুলো দেশের বিভিন্ন জেলার নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, বগুড়া, পাবনা, দিনাজপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি নামে হাটের এলাকাগুলো পরিচিত। একই এলাকার পশু ব্যবসায়ীরা যাতে এক সাথে থাকতে পারে সেজন্য এই ব্যবস্থা বলে জানান ইজারাদার। হাটে ছোট ও মাঝারি গরুর পাশাপাশি বড় আকারের গরুর সংখ্যাও কম নয়। সাগরিকা বাজারের ইজারাদার জামশেদ আলম আজাদীকে বলেন, শুধু চট্টগ্রাম না সারা বাংলাদেশর মধ্যে গাবতলীর পরেই সাগরিকা অন্যতম বড় গরুর বাজার। এই বাজারের পরিচিতি দেশের সর্বত্র। বাজারে যারা পশু বিক্রয়ের জন্য নিয়ে আসেন তাদের ইজারাদারদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের টাকা পয়সার নিরাপত্তা ও হাট পরিচ্ছন্ন রাখাসহ যে কোন সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিটি এলাকার ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা এলাকা জায়গা ভাগ করে দিয়েছি আমরা। যাতে তাদের কোন সমস্যা হলে নিজেরা সহযোগিতা করতে পারে। গরু বেপারী সিরাজ বলেন, হাটে যে পরিমাণ গরু আছে তা দিয়ে দুই কোরবান দেয়া যাবে। গরুর কোন অভাব নেই। আরো গরু আসছে। সেগুলো আসলে হাট কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাবে।

লক্ষ্মীপুর থেকে ১২টি ভারতীয় গরু নিয়ে আসেন আবুল কাশেম। তিনি বলেন, চার মাস আগে কুষ্টিয়া থেকে ৪২টি গরু কিনে এনেছি। চার মাস এগুলো পালন করেছি। চট্টগ্রামে বিক্রয়ের জন্য ১২টি গরু এনেছি। বড় আকারের গরুগুলো ২ লাখ টাকা করে বিক্রয় করবো। এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রয় হয়নি। তবে আগামী দিন থেকে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে মনে হয়। হাটে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাটে এখনো পর্যন্ত কোন সমস্যা নেই। ইজারাদাররা সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছেন। পাবনা থেকে ৪০টি মহিষ নিয়ে ১৫ দিন আগে এসেছেন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ৩২টি মহিষ বিক্রি করে ফেলেছি। আর ৮টি বাকি আছে। এগুলোও কয়েকদিনের মধ্যে বিক্রয় হয়ে যাবে। প্রতিটি মহিষের দাম তিনি হাঁকছেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তিনি দাবি করেন, মহিষগুলোতে মাংস হবে সাড়ে ৮ মণ।

সাগরিকা বাজারের আরেক ইজারাদার সাইফুল হুদা বলেন, হাটে প্রায় ৩০ হাজার গরু বর্তমানে আছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত গরু আসবে। অনেক গাড়ি যানজটে আটকে আছে। এ বছর গরুর কোন সংকট হবে না। দাম কিছুটা কমতে পারে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ, চসিক ও ডিসি অফিস থেকে অবৈধ হাট বসতে দেয়া হবে না বলে বারবার বলা হলেও ফইল্লাতলী, কনের্ল হাট, উত্তর হালিশহর, পাহাড়তলী ও অক্সিজেন এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ হাটে বেচাবিক্রি চলছে। পুলিশ, চসিক ও ডিসি অফিসকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন প্রদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। আমরা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে হাট ইজারা নিয়েছি। সাগরিকা বাজারের জন্য ৮ কোটি টাকা চসিককে ইজারা বাবদ দিয়েছি। অথচ অবৈধ হাটের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নাই।

অবৈধ হাটের ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার অপরাধ ও অভিযান দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, অবৈধ হাট এর ব্যাপারে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা অবৈধ কোন হাট বসতে দিবো না। নগরীর যে সব এলাকায় অবৈধ হাট আছে সেগুলো বসতে দেয়া হবে না। কোথায় কোথায় অবৈধ হাট বসেছে তা আমার জানা নেই। চসিকের অনুমোদন ছাড়া কোন হাট বসলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

মতামত...