,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোটরসাইকেলে স্কুলছাত্র অপহরণ গ্রেপ্তার ১

সাতকানিয়া সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মোটরসাইকেলে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় মো. আকিফুর রহমান শাওন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রকে অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। এ সময় জনতা মো. আইয়ুব (২৭) নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে। গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের চিব্বাড়ি এলাকার চারা বটতলী এলাকা থেকে ছাত্রটিকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের ২ ঘণ্টা পর সাড়ে ৭ টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা এলাকা থেকে অপহরণকারীকে আটক ও অপহৃত স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়। অপহৃত শাওন সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের চিব্বাড়ি মিয়াচাঁন পাড়ার আইসক্রিম ব্যবসায়ী মো. আবুল কালামের ছেলে এবং চিব্বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। আটককৃত অপহরণকারী আইয়ুব লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দরগাহমুড়া এলাকার আবু মুছার ছেলে।

জানা যায়, গত বুধবার বিকাল ৫টার দিকে স্কুলছাত্র আকিফুর রহমান শাওনকে তার বাবা আবুল কালাম লোহাগাড়ার পদুয়া বাজার থেকে বাজার করে তাদের পরিচিত একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে বাড়ি যাওয়ার জন্য তুলে দেন। ট্যাক্সিটি চিব্বাড়ি চারা বটতলী এলাকায় পৌঁছলে প্রথমে ৩ অপহরণকারীকে বহনকারী একটি মোটর সাইকেল ট্যাক্সিটির গতিরোধ করে। পরে আরেকটি সিএনজি ট্যাক্সি গিয়ে ট্যাক্সিটির (শাওনকে বহনকারী) সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা অপহরণকারীরা স্কুলছাত্র শাওনকে ট্যাক্সি থেকে মোটরসাইকেলে তুলে করাইয়ানগর হয়ে ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে একছেলের কান্না শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এরমধ্যে একজন অপহরণকারী শাওনকে নিয়ে একটি কালভাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার ও অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

শাওনের বাবা মো. আবুল কালাম  বলেন, আমার পদুয়া বাজারে একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরি রয়েছে। গত বুধবার আমার ছেলেকে পদুয়া বাজার থেকে বাজার নিয়ে একটি পরিচিত ট্যাক্সিযোগে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। ছেলেকে বহনকারী ট্যাক্সিটি চিব্বাড়ির চারা বটতলী এলাকায় পৌঁছলে একটি ট্যাক্সি ও একটি মোটর সাইকেল দিয়ে ট্যাক্সিটিকে ব্যারিকেড দেয়। পরে আমার ছেলেকে ট্যাক্সি থেকে মোটরসাইকেলে করে অপহরণকারীরা ছদাহার ছোট ঢেমশা এলাকায় নিয়ে যায়। আমি খবর পেয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে বের হয়। পরে ছোট ঢেমশা এলাকা থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার ও এক অপহরণকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ট্যাক্সিতে ৬ জন ও মোটর সাইকেলে ৩ জন অপহরণকারী ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অপহরণকারীরা আমার ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে বলে, ‘তোর বাবা যে টাকা দিয়েছে, সেগুলো আমাদের কাছে দে’। তখন আমার ছেলে বলে, আমার কাছে টাকা নেই। বাবা আমাকে কোন টাকা দেয়নি। একথা বলার সাথে সাথে অপহরণকারীরা আমার ছেলেকে মারধর করলে সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। তার কান্নার আওয়াজ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে একজন ছাড়া অন্যান্য অপহরণকারীরা ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। আবুল কালাম আরো বলেন, এ ঘটনায় আমি বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।

সাতকানিয়া থানার উপ–পরিদর্শক প্রিয়লাল ঘোষ বলেন, স্কুলছাত্র অপহরণের খবর পেয়ে আমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ছদাহা ইউনিয়নের ছোট ঢেমশা এলাকায় গিয়ে স্কুলছাত্রটিকে উদ্ধার ও মো. আইয়ুব নামে এক অপহরণকারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

সাতকানিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. রফিকুল হোসেন বলেন, স্কুলছাত্র অপহরণের ঘটনায় ছাত্রের বাবা বাদি হয়ে গত বুধবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত অপহরণকারী মো. আইয়ুবকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপহরণকারী অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মতামত...