,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আ.লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ,গাড়ি ভাংচুর আহত ৭

up3bnr ad 250x70 1

মো. নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে তত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সাতকানিয়ার জনপদ। প্রতিদিনই কোন না কোন ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ছোট খাট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার কারনে দিন দিন করে ম্লান হয়ে যাচ্ছে ভোটের আমেজ শঙ্কিত হচ্ছে সাধারন ভোটাররা। সাধারন ভোটারদের মাঝে বৃদ্ধি পাচ্ছে আতংক। গত রোববার ও সোমবার রাতে কেঁওচিয়া, পশ্চিম ঢেমশা ও সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নে নির্বাচনী অফিস ও গাড়ি ভাংচুরসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব র ঘটনায় আহত হয়েছে ৭ জন ।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার সময় উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহনি এলাকায় ঘোড়া মার্কার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনির আহমদের অফিস ভাংচুর করেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওচমান আলীর কর্মী সমর্থকরা। মনিরের অভিযোগ, আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকরা আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়েছে। আমি জনগনকে এ হামলার বিচার দিলাম।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওচমান আলী বলেন, আমি কোন সহিংসতা করে নির্বাচনে জিততে চাই না। মনির আহমদ, আবু ছালেহ শান ও নুর হোসেনের সমর্থকরা একজোট হয়ে চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় আমার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে।
অন্যদিকে, গত রোববার গভীর রাতে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নেজাম উদ্দিনে কর্মী সমর্থকরা ২নং ওয়ার্ডের ঠাকুর দিঘী এলাকায় আওয়ামীলীগ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়ার অভিযোগ করেন প্রার্থী মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ। এ ঘটনায় হারুনুর রশিদ বাদি হয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী নেজাম উদ্দিন ও সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, গিয়াস উদ্দিন, নেওয়াজ হোসেন নিষাদ, মো. সেলিম, মো. রুবেল, মো. সেলিম ও নাছির উদ্দিনকে আসামী করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যোগাযোগ করা হলে বিদ্রোহী প্রার্থী নেজাম উদ্দিন বলেন, টাকার ভাগাভাগি নিয়ে হারুনের সমর্থকদের মধ্য মারামারির এক পর্যায়ে নিজেরাই নিজেদের অফিসে আগুন দিয়েছে। আমি এবং আমার কর্মী সমর্থকরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। তাছাড়া গত রোববার রাতে উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ইছামতি আলী নগর এলাকায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী আবু তাহের জিন্নাহর নির্বাচনী কার্যালয় পুড়ে দিয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাকে ফাঁসানোর জন্য তারা নিজেদের অফিসে আগুন দিয়ে আমার কর্মী সমর্থকদের নাম দেয়া হচ্ছে। আসল কথা হচ্ছে আমার জনপ্রিয়তা দেখে জিন্নাহ হতাশ হয়ে এসব কথা বলছেন।
সন্ধ্যায় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু ছালেহ শান গাড়ি নিয়ে ১নং ওয়ার্ডের জিয়াবুল হক চেয়ারম্যানের কলঘর এলাকায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী ওচমান আলীর কর্মী সমর্থকরা হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন আবু ছালেহ শান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওচমান আলীর সমর্থকদের হামলায় আমার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া (৪৫), কালু ড্রাইভার (২৫), মাহাবুবুর রহমান (৫২), মো. কায়সার (২২) ও খালেদ হোসেন (১৯) আহত হয়েছে। ওচমান আলী পরাজয়ের ভয়ে কর্মী সমর্থকদের দিয়ে আমার গাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে ভয় লাগানোর চেষ্টা করছে। ।
এদিকে, রাত ১০টার সময় কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার‌্য প্রার্থী মোহাম্মদ জাকারিয়ার কর্মী সমর্থকরা গনসংযোগ করার সময় আটক করে ২ কর্মীকে মারধর করেছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নুরুল আমিন ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ জাবেদ আহত হয়েছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, সাতকানিয়া সদর ও পশ্চিম ঢেমশায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনী কার্যালয় পুড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়াও কেঁওচিয়ায় আবু ছালেহ শানের গাড়ি ভাংচুর, মনির এবং ওচমান আলীর অফিস ভাংচুরের খবর পেয়েছি। তদন্ত পূর্বক এসব ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মতামত...