,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের সিতাকুন্ডে সাগর থেকে রপ্তানি’র পোশাক ভর্তি ৪০ ফিট কন্টেইনার উদ্ধার

সীতাকুন্ড সংবাদদাতা, ৩০ সেপ্টেম্বর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রামের সিতাকুন্ডে সাগর থেকে রপ্তানি’র পোশাক ভর্তি ৪০ ফিট কন্টেইনার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ী ও রপ্তানী কারকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে বলে জানান গেছে।

শুক্রবার দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার চেষ্টাশেষে সন্ধ্যা ৬টায় কন্টেইনারটি কূলে আনতে সক্ষম হয় জেলেরা। কন্টেইনারটি মারর্সক শিপিং লাইনের মালিকানাধীন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে কন্টেইনারটি না খোলায় ভেতরে কি পরিমাণ পণ্য রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালের দিকে সীতাকুন্ডের কুমিরা জেলেপাড়ার জেলেরা গভীর সাগরে মাছ ধরতে গেলে একটি বিশাল কন্টেইনার সাগরে ভাসতে দেখে। তারা বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে জানালে তারা থানায় জানালে পুলিশ সংশ্লিষ্ট জেলেদের ঐ কন্টেইনার উদ্ধার করে আনতে কাজে লাগান।

নির্দেশ পেয়ে কুমিরা জেলে পাড়ার জেলে ভুট্টু জলদাশ, মঙ্গল জলদাশ, খোকন জলদাশ, বাঁশি জলদাশ, আবু চান জলদাশসহ ১৭ জন জেলে দুটি বড় নৌকা নিয়ে উপকূল থেকে ৩০ কি.মি. দূরবর্তী সাগরে গিয়ে ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় সেটি কূলে টেনে আনে। উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা জেলে ভুট্টু জলদাশ জানান, শুক্রবার সকালে সাগরে জাল ফেলে মাছ ধরার সময় তিনি কন্টেইনারটি দেখতে পেয়ে অন্য জেলেদের ও স্থানীয় মেম্বার– চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশের নির্দেশে তারা ১৭ জন জেলেসহ কন্টেইনারটি উপকূলে আনেন।

সীতাকুন্ড থানার এস আই মজিদ, কুমিরার ইউপি সদস্য মো. জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, সাগরে কন্টেইনার ভাসার খবর শুনে বেলা ১১টা থেকে আমি জেলেদের নিয়ে সেটি উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করি। কন্টেইনারটি উপকূল থেকে ৩০ কি.মি. দূর সাগরে ছিলো। সন্ধ্যায় তারা সেটি উপকূলে টেনে আনে। এসময় কন্টেইনারটির ফাঁক দিয়ে একটি রপ্তানিযোগ্য একটি প্যান্ট বের হয়ে আসে। এ থেকে ভেতরে রপ্তানিযোগ্য পোশাক রয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তিনি আরো বলেন, কন্টেইনারটির বাইরে উল্লেখিত নাম দেখে এটি মারর্সক শিপিং লাইনের মালিকানাধীন বলে আমরা ধারণা করছি। তবে ঐ কোম্পানির কারো নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। এ জন্য তারা অপেক্ষা করছেন বলে জানান। কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, সকালে জেলেরা সাগরে কন্টেইনার ভাসার খবর জানালে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিকে জানাই। পরে উদ্ধার অভিযান শুরু হলে সন্ধ্যায় উপকূলে নিয়ে আসা হয়।

মারর্সক শিপিং লাইনের অপারেশনের সহকারী ম্যানেজার কুনাল সেন ও চন্দন বড়ুয়া জানান, তারা কন্টেইনার সাগরে পড়ে যাবার কোন খবর জানতেন না। তবে যেহেতু গায়ে মারর্সক লাইন লিখা আছে সেটি তাদের কোম্পানির। হয়ত বন্দরের বহির্ণোঙ্গরে থাকা কোন জাহাজ থেকে সেটি পড়ে গেছে। এটি ফেরত পেতে তারা সীতাকুন্ড থানায় যোগাযোগ করবেন বলে জানান।

সীতাকুন্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সাগর পাড় থেকে কন্টেইনারটি থানায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছি। থানায় এনে রাখার পর মালিক পক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে সেটি নিয়ে যেতে পারবে।

মতামত...