,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে জাহাজ ভাঙা শিল্প মালিকদের চরম দুঃসময়

ship yeardbnr ad 250x70 1

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের  সীতাকুন্ডে জাহাজ ভাঙা শিল্প ও  মালিকদের চরম দুঃসময় যাচ্ছে এখন।  দেশে বারবার লোহার দাম উঠানামা করায় গেল ৩ বছর ধরে  জাহাজ ভাঙা শিল্পের মালিকরা টানা লোকসান দিয়ে এখন অনেকেই দেউলিয়া প্রায়। অর্থ সংকটে ১৩০ ইয়ার্ডের প্রায় শতাধিক ইয়ার্ডই এখন বন্ধ। জমজমাট এমন ব্যবসার বেশিরভাগ ইয়ার্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক।

জানা যায়, ২০০৪-০৫ সালেও এখানে ১৩০টিতে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার জমজমাট ব্যবসা শুরু করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশের রাজনীতি  ও আন্তর্জাতিক বাজারে লোহার দাম উঠানামার কারণে প্রতি টনে ১০/১২ হাজার টাকাও লোকসান দিয়ে লোহা  বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। হঠাথ করে লোহার দামে দস নামায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে ইয়ার্ডের মালিকরা।  এসময় বেশিরভাগ ইয়ার্ড মালিক বিপুল অংকের টাকা লোকসানের শিকার হলে শতাধিক ইয়ার্ডে জাহাজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ শিপব্রেকিং এসোসিয়েশনের (বিএসবিএ) কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য পিএইচপি শিপব্রেকিং অ্যান্ড রি-সাইক্লিংয়ের এমডি মো: জহিরুল ইসলাম রিংকু ও বিএসবি’র সাবেক সহ-সভাপতি মো: কামাল উদ্দিন আহমেদ  বলেন, দীর্ঘ ৩ বছর ধরে স্ক্র্যাপ জাহাজ কিনে  হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়ে লোহা  বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা। কোনো ইয়ার্ডের মালিক  ১শ’ কোটি টাকার উপর লোকসান দিয়েছেন আবার কেউ বা হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছেন । এ কারণে বেশিরভাগ ইয়ার্ড মালিক ঋণখেলাপি হয়ে পড়েন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংকগুলোও এখন জাহাজ ভাঙা শিল্পে ঋণ বিনিয়োগে আগ্রহ হারায়। আবার  বিনিয়োগ করে লাভ তো দুরের কথা  পুঁজি হারানোর ভয়ে বহু মালিক এ শিল্পে আর নতুন করে বিনিয়োগ্যেক্রতে চান না। চরম দুঃসময়ের মধ্যেও হয়তো আবার সুদিনের দেখা মিলবে এমন আশায় স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ করেননি। বিএসবি’র সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন আরো জানান, ২০১৩ সালে জাহাজ ভাঙা শিল্পে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি হয় ১৫১টি। এ থেকে প্রায় ২১লাখ টন লোহা উৎপাদন হয়। একইভাবে ২০১৪ সালে ২২৭টি স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে লৌহ উৎপাদন হয় ২৬ লাখ টনের বেশি, ২০১৫ সালে আসে ২৩০টি স্ক্র্যাপ জাহাজ এবং ২০১৬ সালের এখনো পর্যন্ত এখানে জাহাজ আসে ১০২টি। এ শিল্প থেকে সরকার বার্ষিক ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করে। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধলক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। জাহাজ আনতে গেলে ইয়ার্ড মালিকদের প্রতি মেট্রিক টনে অগ্রিম আয়কর দিতে হয় ৮০০ টাকা, কাস্টম ডিউটি দিতে হয় ১৫শ’ টাকা, ইয়ার্ড ভ্যাট, বিষ্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদফতর, শিল্প মন্ত্রণালয়ের এনওসি, বিচিং ফি, বিচিং পরবর্তীসহ বিভিন্ন শুল্ক দিতে হয়। আবার প্রতিবছর বাজেটে লোহার উপর নানান করারোপ করা হয়। পিএইচপি শিপব্রেকিংয়ের এমডি জহিরুল ইসলাম রিংকু আরো বলেন, আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই যেন জাহাজ ভাঙা শিল্পে যেসব ভ্যাট, ট্যাক্স ও শুল্ক আছে তা আর বৃদ্ধি না করে কমিয়ে আরো সহনীয় পর্যায়ে করা হয়। এসব শুল্ক আরো বৃদ্ধি হলে অস্তিত্ব সংকটে থাকা অন্য ইয়ার্ডগুলোও বন্ধ হয়ে গিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর হাজার হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে যাবে। শিল্পটিকে রক্ষা করে দেশে কর্মসংস্থান ও লোহ উৎপাদনের ধারবাহিকতা রক্ষায় সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

 

মতামত...