,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপির ৩৯ প্রার্থীর লবিং

নাছির মীর, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::দেশে আগাম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বিএনপির পালেও লাগতে শুরু ক্রেছে। বিএনপি মুখে নির্বাচনকালিন সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবেনা বলে প্রচার করলেও দলটি জোরে- শোরেই নিরতবাচনের প্রতসুতি নিচ্ছে। দেশের প্রায় প্রত্যেক সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলিগের পাশাপাশি বি এন পিও দলের প্রার্থী মনোনয়নের কাজ ইতি মধ্যেই প্রায় সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। এলাকার ভোটারের মুখেও আগাম নির্বাচনের আলাপ আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনেও বিএনপির ৩৯ প্রার্থী নিজের মনোনয়ন নিশ্চত করতে লবিং চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।তার ভিত্তিতে আমাদের এই প্রতিবেদন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও সংগ্রহ করছে দলটি। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে তিন আসনে  বিএনপির একক প্রার্থী রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেকমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেকমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান এবং সাবেকমন্ত্রী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ৩৯ প্রার্থী বাচাই করেছে বলে শোনা গেলেও তাদের সাথের তিনটি শরিক দলগুলোকে আসন ছেড়ে দেয়ারও সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। যদিও আসনের প্রার্থী বাচাইয়ের সময় তা তোড়াই কেয়ার করেছে দলটি।

বিএনপির  সূত্র জানায়, সরকার বিরোধী আন্দোলনে গিয়ে হয়রানি ও জুলুম নির্যাতন থেকে বাঁচতে বিএনপির প্রার্থীরা প্রচারণা থেকে কৌশলে নিজেকে আড়াল করে রাখলেও বসে নেই এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ভিতরে ভিতরে নির্বাচনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।তাদের দলে প্রার্থীর কৌশলে চলছে ডামি প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এসব ডামি প্রার্থীর অনেকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যও নয় বলে জানা গেছে। অনেক ডামি প্রার্থী নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায়  সরব প্রচারণা চালাচ্ছেন। আবার অনেকে নিজের অনুগতদের দিয়ে তাদের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনওয়ারি বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন,

সন্দ্বীপ : চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফা কামাল পাশা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা মোস্তাফা কামাল পাশা বাবুল ছাড়াও কয়েক জন ডামী প্রার্থী রয়েছে।

মীরসরাই : এই  আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর এমডিএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, নিউইয়ক বিএনপির সভাপতি পারভেজ সাজ্জাদ ছাড়া এ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ারও নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

সীতাকুন্ড: এই  আসনে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর এ আসনে মনোনয়ন পেতা পারেন তবে  সাবেক মন্ত্রী এল কে সিদ্দিকীর ভাই সাবেক আইজিপি ওয়াই বি সিদ্দিকীর নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাটহাজারী : এ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম, সাবেক মন্ত্রী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন অথবা দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হকের প্রার্থী হোয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফটিকছড়ি : এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হল  সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ফরহাত কাদের চৌধুরী, বিএনপির শাসনামলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের প্রধান কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরী আরা ছাফা ও বিএনপি নেতা ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরীর নাম বেশ জোরে শোরেই প্রচার পাচ্ছে।

রাউজান : বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারের নাম শোনা যাচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া : এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী, পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আবু আহমেদ হাসনাতের নাম শোনা যাচ্ছে।

চান্দগাঁও-বোয়ালখালী ও পাঁচলাইশ আংশিক : এ আসনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খান ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান এই তিন জনের মধ্যে এক জন কে প্রার্থী করা হতে পারে।

কোতোয়ালী : চট্টগ্রামের মহা নগর ও জেলার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে শহরের এই কোত্যালী আসন। আসনে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা হলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, এলাকার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও মহানগর বিএনপি নেতা সামশুল আলম,মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ছাড়াও কয়েক জনের নাম শুনা যাচ্ছে।

ডবলমুরিং, খুলশী, পাহাড়তলী, হালিশহর ও পাঁচলাইশ আংশিক :এই আসনে বিএনপির একক প্রার্থী সাবেকমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের নাম শোনা যাচ্ছে।

বন্দর-পতেঙ্গা : এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

পটিয়া : এ আসনে বিএনপির দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা এনামুল হক এনাম ও ইদ্রিছ মিয়াসহ বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলে ফিরে আসার সুযোগ পেলে এ আসনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েলের।

আনোয়ারা-কর্ণফুলী ও পশ্চিম পটিয়া : এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বার কাউন্সিলের সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী এডভোকেট কবির চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আব্বাস।

চন্দনাইশ : জোটগত নির্বাচন করলে এ আসনে শরিকদল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম একমাত্র প্রার্থী। যদিও বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে মনোনয়ন চাইতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিবার ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মহসিন জিল্লুর ও মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া : জোটগত নির্বাচন করলে এ আসনে শরিকদল জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। এতে জামায়াতের প্রার্থী হতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সামশুল ইসলাম। তাছাড়া জোটের আরেক শরিক এলডিপিকেও আসনটি ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন করবেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম। বিএনপি এককভাবে নির্বাচন করলে মনোনয়ন চাইতে পারেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, দলের কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তাফা আমিন।

বাঁশখালী : এ আসনে বিএনপির একক প্রার্থী সাবেকমন্ত্রী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। বি এন আর ,৮ অক্টোবর ১৭।

মতামত...