,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামের ২ সার্কেল ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিট

নিউজ ডেস্ক, ৬ ফেব্রুয়ারী বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রাম মহা নগরীর আগ্রাবাদ ও চান্দগাঁও সার্কেল ভূমি অফিসে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ’ সার্ভিস চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

রবিবার সকাল ১১টায় ভূমি অফিস দুটিতে সারপ্রাইজ ভিজিট এসে তিনি কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন। এসময় তিনি চলতি বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে এবং উপজেলায় ভূমি জরিপ শুরু করা হবে বলেও জানান সাংবাদিকদের। এছাড়া কর্ণফুলীর দুইপাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে উচ্চ আদালত কর্তৃক ইতোপূর্বে দেয়া রায়ের সার্টিফিকেট কপি পেলে তা কার্যকর এবং ভবিষ্যতে দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি নগরীতে একটি শিশু পার্ক গড়ার পরিকল্পনার কথা জানান।

জানা গেছে, সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ষোলশহরস্থ ভূমি অফিসে আসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। এখানে একটি ভবনেই রয়েছে আগ্রাবাদ ও চান্দগাঁও সার্কেল ভূমি অফিস। প্রতিমন্ত্রী প্রথমে প্রবেশ করেন নীচতলার ১০১ নম্বর কক্ষে। সেখানে কেউ ছিলেন না। এসময় মন্ত্রী তার সঙ্গে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) বলেন, ‘কক্ষগুলো খালি কেন? মানুষ কই’? এ কক্ষ থেকে বেরিয়ে চলে যান একইতলার ১০৩ নম্বর কক্ষে। সেখানে কর্মরত এক তহশীলদারকে তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কত টাকা ফি আদায় করেছেন? প্রতিত্তুরে তহশীলদার বললেন, ‘১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা’। মন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন, ‘টাকা কোথায়?’ তহশীলদার বললেন, ‘জমা করে দিয়েছি।’ এ সময় মন্ত্রী তার সঙ্গে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল জলিলকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘সব ঠিক আছে কী না দেখেন’। বিভিন্ন দাপ্তরিক কাগজপত্র পরীক্ষা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ‘ঠিক আছে’ বলার পর সে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মন্ত্রী।
পরে ভবনটির বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজনের কাছে জানতে চান, কারো কোন অভিযোগ আছে কী না? কর্মকর্তা-কর্মচারিরা কারো কাছ থেকে সরকারি ফি’র বাইরে কোন অর্থ দাবি করছেন কী না? নামজারি করতে আসা মহিউদ্দিন নামে একজন ‘কোন সমস্যা হচ্ছে না’ বলে জানান। তখন সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এই যে সারপ্রাইজ ভিজিটে এলাম সেটা আপনাদের জন্য। আপনারা সেবা ঠিকমত পাচ্ছেন কী না সেটা দেখার জন্য। আপনাদের কোন অভিযোগ থাকলে জানাবেন।’ এর আগে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় এক বয়স্ক লোকের কাছেও কোন ধরনের অভিযোগ রয়েছে কিনা জানতে চান।
তৃতীয় তলায় উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তহশীলদাররা কোথায়? তাদের ব্যাপারে অভিযোগ পাচ্ছি। সু-নির্দিষ্ট করে এই অফিসের না। তবে তহশীলদারদের ব্যাপারেই অভিযোগ বেশি।’ পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আরেকটু জোর দেন।’
এ সময়  আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার মাহমুদুল্লাহ মারুফ ও চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার হাবিবুল হাসান উপ্তহিত ছিলেন । তাদেরকে মন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘নিজ উদ্যোগে কি করেছেন? প্রতিত্তুরে হাবিবুল হাসান সেবার মান আরো বৃদ্ধিতে একটি অ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে বলে উত্তর দেন এবং মাহমুদুল্লাহ মারুফ বলেন,‘সফটওয়ারের কাজ করছি।’
ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু : পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এসময় তিনি বলেন, ‘এই আগ্রাবাদ ও চান্দগাঁওয়ে একটা কমপেহ্মইন (অভিযোগ) আছে। যারা সিনিয়র সিটিজেন (বয়ষ্ক নাগরিক) এবং ডিজেবল (প্রতিবন্ধী) তাদের পক্ষে চারতলা-পাঁচতলায় উঠা অনেক ক্ষেত্রে খুব কঠিন। এই অভিযোগ পেয়ে আমি কথা দিয়েছি, সেটা আমি দেখবো। আজকে আমি ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি, তাদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর। তারা নিচ থেকেই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’ এ সময় তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল জলিলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চলতি সপ্তাহের মধ্যেই চাই।
চট্টগ্রামে ভূমি জরিপ শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ভূমি জরিপ হয়নি দীর্ঘদিন। ভূমি জরিপ শীঘ্রই শুরু করবো। এটা অনেক আগে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমার টার্গেট হচ্ছে সিটি জরিপ এ বছর শুরু করা। কারণ মাত্র বছর শুরু হয়েছে। আশা করছি এই বছরেই হবে।
এ সময় সাংবাদিকরা উপজেলা পর্যায়ে ভূমি জরিপ কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিটি জরিপ এবং জেলা জরিপ সব এ বছরই এনশিউর করবো। মাঝামাঝি কিছু করবো এবং শেষের দিকে কিছু করবো। আমরা কিন্তু এটার পেছনে লেগেই আছি। এটা চট্টগ্রামের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জরিপ না হওয়ার কারণে কিন্তু চট্টগ্রামে যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে। সুতরাং জরিপটা যদি শেষ করে ফেলতে পারি তাহলে বিশাল একটি মাইলফলক হবে বলে বিশ্বাস করি।’
কর্ণফুলী রক্ষা প্রসঙ্গে : উচ্চ আদালতের রায় সত্ত্বেও কর্ণফুলী দখলদারমুক্ত করতে অভিযান না হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্টিফিকেট কপিটা এলে কিন্তু আমরা অ্যাকশনে যাবো।’ সার্টিফিকেট কপি পেতে বিলম্বের পিছনে দখলদারদের ভূমিকা রয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন অভিযোগ আগে শুনিনি। আজ শুনলাম। ঢাকায় গিয়ে দেখবো। কথা দিচ্ছি। ব্যবস্থা নিবো’।
উচ্ছেদের পর জমি রক্ষায় ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই রক্ষণাবেক্ষণের সময় চলে এসেছে। আমরা একটি স্টেপ নিচ্ছি। ওভাবে আর হবে না। এগুলোর যাতে আর মিস ইউজ না হয় এবং প্রপারলি ইউজ করতে পারে এটা অবশ্যই দেখবো।
চট্টগ্রাম নগরীতে শিশু পার্ক গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘একটি শিশু পার্কের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেটি আমি উপলব্ধি করছি। একবার উদ্যোগও নিয়েছিলাম। কিন্তু কোর্টের নির্দেশনার কারণে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে সেই পরিকল্পনা এখনো আছে আমাদের। এ সময় তিনি বলেন, ‘এখানে শিশু পার্ক যে একেবারে নেই তা নয়। ফয়েস লেক আছে। সেটি কিন্তু এমিউজমেন্ট পার্ক। এটা ছাড়াও আরেকটি দরকার আছে। দেখি, ভাল কোম্পানিকে টেন্ডারের মাধ্যমে ইনভাইট করবো।’
সাইফুজ্জামান চৌধুরী নগরীর কাজীর দেউড়িস্থ শিশুপার্কের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘লিজের মেয়াদ এ বছর শেষ হচ্ছে। শেষ হলে এটা আর ‘রিনিউ’ হবে না।

অভিযোগকে ‘মিনিমাম-মিনিমাম’ পর্যায়ে নিয়ে আসতে চান উল্লেখ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভূমি অফিসের কাজ হচ্ছে মানুষকে সেবা দেয়া। সেই বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। আমাদের এখানে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের প্রথম দিন থেকেই তা বলে আসছি। এটা স্বীকার করতেই হবে, ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম অনেক ‘ইমপ্রুভ’ হয়েছে। এখানে আমরা অনেকগুলো ‘সিস্টেম চেঞ্জ’ করেছি। তবে এটাও সত্যি, একেবারে সব জায়গায় সব সমস্যার যে সমাধান হয়েছে তাও না। এখনো বাংলাদেশের অনেক জায়গা থেকে অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি অভিযোগগুলো ‘মিনিমাম-মিনিমাম’ জায়গায় নিয়ে যেতে। একেবারেই যে অভিযোগ থাকবে না, এটা হতে পারে না। কারণ, এটা স্বাভাবিক।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘আমি আশাবাদী। এই যে আজকে সারপ্রাইজ ভিজিট করলাম সেটা কেউ জানতো না। আমি আসলাম, দেখলাম। যারা সেবা নিতে এসেছেন তাদের জিজ্ঞেস করলাম। তারা বলেছেন, ‘দ্যা আর সেটিসফাইড’ (তারা সন্তুষ্ট)। এটা ভাল বিষয়। তিনি বলেন, এখানে আমরা আরো পরিবর্তন আনবো। আমি একটা জিনিস বুঝাতে চাচ্ছি, কাজ করতে হবে এবং স্বচ্ছভাবে করতে হবে।’
ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে সাধারণ মানুষ কোথায় অভিযোগ জানাবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযোগ তো অনেক বেশি। এসি ল্যান্ডদের জানতে পারবেন। তাদের দ্বারা কোন সমাধান না হলে এডিসি রেভিনিউ এবং পরবর্তীতে ডিসিকে জানাতে পারবেন। সেখানেও অভিযোগের পর ভোগান্তি না কমলে আমাকে অভিযোগ করতে পারবেন।’
ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাইলেজশন কন্টিনিউয়াস প্রসেস উল্লেখ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে প্রজেক্ট সেটির প্রথম পেইজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন এক্সটেনশনে আছি। এডিবি’র আরেকটি প্রপোজাল আছে, সেটিরও কিন্তু কাজ শুরু করেছি। জামালপুর এবং অন্যান্য জেলাগুলোতে মোটামুটি হয়েছে। এটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। সিক্যুয়েন্স অনুযায়ী কিন্তু বিভিন্ন জেলা আমরা কাভার করছি। আনোয়ারায়ও একটি পাইলট প্রকল্প আছে।

মতামত...